কোচবিহারে বিজেপির দু’দিনের প্রশিক্ষণ শিবির শুরু, সংগঠন মজবুত করার লক্ষ্য
কোচবিহারের রবীন্দ্রভবনে শুরু বিজেপির দু’দিনের পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায় প্রশিক্ষণ মহা অভিযান। সংগঠন শক্তিশালী করা ও কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়াই লক্ষ্য।
কোচবিহারে সংগঠন মজবুত করার লক্ষ্যে বিজেপির দু’দিনের প্রশিক্ষণ শিবির শুরু
কোচবিহার, ডিস্ট্রিক্ট ডেস্ক ১৬ : বিজেপির সাংগঠনিক কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে কোচবিহারে শুরু হল দু’দিনব্যাপী পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায় প্রশিক্ষণ মহা অভিযান। বুধবার কোচবিহারের রবীন্দ্রভবনে এই প্রশিক্ষণ শিবিরের সূচনা হয়। দলের কর্মীদের সাংগঠনিকভাবে আরও দক্ষ করে তোলা, দলের নীতি ও কর্মসূচি সম্পর্কে তাঁদের বিস্তারিত ধারণা দেওয়া এবং আগামী দিনের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মপন্থা নিয়ে আলোচনা করাই এই প্রশিক্ষণ শিবিরের মূল লক্ষ্য বলে দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে।

শিবিরের প্রথম দিনেই বিজেপির একাধিক শীর্ষস্থানীয় নেতা, জনপ্রতিনিধি এবং দলীয় কর্মীদের উপস্থিতিতে রবীন্দ্রভবন চত্বর ছিল সরগরম। সকাল থেকেই বিভিন্ন এলাকা থেকে বিজেপির নেতা-কর্মীরা শিবিরে যোগ দিতে আসেন। প্রশিক্ষণ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দলের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে যথেষ্ট উৎসাহ ও উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়।
উপস্থিত ছিলেন একাধিক বিজেপি নেতৃত্ব
দু’দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচির প্রথম দিনে উপস্থিত ছিলেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক, মন্ত্রী মালতি রাভা রায়, সাংসদ মনোজ টিগ্গা, বিধায়ক সুকুমার রায়, গিরিজা শংকর রায়, সাবিত্রী রায়-সহ বিজেপির একাধিক নেতা ও জনপ্রতিনিধি।
দলের বিভিন্ন স্তরের নেতৃত্বের পাশাপাশি স্থানীয় সংগঠনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মী ও দলীয় সদস্যরাও প্রশিক্ষণ শিবিরে অংশ নেন। নেতৃত্বের উপস্থিতিতে সাংগঠনিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কর্মীদের সঙ্গে আলোচনা হয়।
সংগঠনকে তৃণমূল স্তরে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্য
বিজেপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই ধরনের প্রশিক্ষণ শিবিরের মাধ্যমে দলের সাংগঠনিক কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি কর্মীদের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন করা হয়।
বিশেষ করে বুথ স্তর থেকে শুরু করে মণ্ডল ও জেলা স্তর পর্যন্ত সংগঠনের কার্যক্রম কীভাবে আরও কার্যকর করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা করা হয়। দলের কর্মসূচি সাধারণ মানুষের কাছে কীভাবে পৌঁছে দেওয়া হবে এবং জনসংযোগ আরও বাড়ানোর ক্ষেত্রে কর্মীদের ভূমিকা কী হওয়া উচিত, সেই বিষয়েও দিকনির্দেশ দেওয়া হয়।
কর্মীদের দেওয়া হয় সাংগঠনিক দিকনির্দেশ
প্রশিক্ষণ শিবিরের প্রথম দিনে দলের বিভিন্ন সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে একাধিক পর্বে আলোচনা হয়। দলের নীতি, আদর্শ, সাংগঠনিক কাঠামো এবং কর্মীদের দায়িত্ব নিয়ে বক্তব্য রাখেন নেতৃত্বরা।
দলের অভ্যন্তরীণ সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও সুসংগঠিত করা, কর্মীদের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে যোগাযোগ গড়ে তোলার উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
নির্বাচনী রাজনীতির পাশাপাশি নিয়মিত সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার বিষয়েও কর্মীদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশ দেওয়া হয় বলে দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে।
আগামীকালও চলবে প্রশিক্ষণ
এদিনের কর্মসূচির পর আগামীকালও একাধিক পর্বে প্রশিক্ষণ ও আলোচনা চলবে। বিভিন্ন বিষয়ে বিশেষজ্ঞ ও দলীয় নেতৃত্বের বক্তব্যের পাশাপাশি কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়ও হতে পারে।
দু’দিনের এই কর্মসূচির মাধ্যমে দলের সাংগঠনিক পরিকল্পনা, কর্মীদের ভূমিকা এবং ভবিষ্যৎ কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা। বিশেষ করে তৃণমূল স্তরে সংগঠনকে আরও সক্রিয় করার জন্য কী কী পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন, তা নিয়ে দ্বিতীয় দিনেও আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে উৎসাহ
প্রশিক্ষণ শিবিরকে ঘিরে বিজেপির কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে যথেষ্ট উৎসাহ লক্ষ্য করা যায়।
দীর্ঘ সময় ধরে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের পাশাপাশি বিভিন্ন স্তরের নতুন কর্মীদেরও এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে দেখা যায়।
দলীয় নেতৃত্বের বক্তব্য, প্রশিক্ষিত এবং সংগঠিত কর্মীবাহিনীই দলের সাংগঠনিক শক্তির অন্যতম ভিত্তি। তাই নিয়মিত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মীদের আরও দক্ষ করে তোলার উপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, কোচবিহারের রবীন্দ্রভবনে শুরু হওয়া পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায় প্রশিক্ষণ মহা অভিযান ঘিরে উত্তরবঙ্গে বিজেপির সাংগঠনিক তৎপরতা আরও বাড়ানোর বার্তা মিলেছে। দু’দিনের এই কর্মসূচির মাধ্যমে দলের কর্মীদের নতুন করে সাংগঠনিকভাবে সক্রিয় ও প্রস্তুত করার পাশাপাশি আগামী দিনের রাজনৈতিক কর্মসূচির জন্য সংগঠনকে আরও মজবুত করার লক্ষ্য নিয়েছে বিজেপি।
