বড় বাজেটের পুজোয় সরকারি অনুদান নয়! মুখ্যমন্ত্রীর আবেদনে সাড়া কলকাতার একাধিক পুজো কমিটির
মুখ্যমন্ত্রীর আবেদনে সাড়া দিয়ে কলকাতার একাধিক বড় ও সচ্ছল পুজো কমিটি সরকারি ১ লক্ষ টাকার দুর্গাপুজোর অনুদান না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তালিকায় সন্তোষ মিত্র স্কোয়ার ও চোরবাগান সর্বজনীন।
বড় বাজেটের পুজোয় সরকারি অনুদান নয়! মুখ্যমন্ত্রীর আবেদনে সাড়া কলকাতার একাধিক নামী পুজো কমিটির

সিটি নিউজ বাংলা, কলকাতা, স্টেট ডেস্ক ১২ : দুর্গাপুজোর আগে বড় সিদ্ধান্ত কলকাতার একাধিক নামী ও সচ্ছল পুজো কমিটির। রাজ্য সরকারের দেওয়া দুর্গাপুজোর অনুদান স্বেচ্ছায় গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শহরের বেশ কয়েকটি বড় পুজো কমিটি। মুখ্যমন্ত্রীর আবেদনে সাড়া দিয়েই এই সিদ্ধান্ত বলে জানা গিয়েছে।
রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে মূলত ছোট, সীমিত বাজেটের এবং আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা পুজো কমিটিগুলিকে সহায়তা করার লক্ষ্যেই ১ লক্ষ টাকা অনুদান দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। একইসঙ্গে যেসব পুজো কমিটির আর্থিক সামর্থ্য রয়েছে এবং বড় বাজেটে পুজোর আয়োজন করে, তাদের স্বেচ্ছায় এই সরকারি অনুদান না নেওয়ার জন্য আবেদন জানানো হয়।
মুখ্যমন্ত্রীর সেই আবেদনের পরই কলকাতার বেশ কয়েকটি পরিচিত পুজো কমিটি অনুদান প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
💰 ছোট পুজোগুলিকে সহায়তাই মূল লক্ষ্য
দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে প্রতিবছরই রাজ্যজুড়ে হাজার হাজার পুজো কমিটি উৎসবে অংশ নেয়। শহর থেকে গ্রাম—সর্বত্রই পুজোর আয়োজন হলেও সমস্ত কমিটির আর্থিক সামর্থ্য এক নয়।
অনেক ছোট পুজো কমিটি সীমিত অর্থের মধ্যে প্রতিমা তৈরি, মণ্ডপ নির্মাণ, আলোকসজ্জা এবং পুজোর অন্যান্য আয়োজন সম্পন্ন করে। তাদের আর্থিক চাপ কিছুটা কমাতেই এবার সরকারি অনুদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
রাজ্য সরকারের তরফে ১ লক্ষ টাকা করে অনুদান দেওয়ার ঘোষণা করা হয়েছে। তবে একইসঙ্গে তুলনামূলকভাবে বড় বাজেটের পুজো কমিটিগুলিকে এই অর্থ না নেওয়ার জন্য স্বেচ্ছায় এগিয়ে আসার আবেদন জানানো হয়।
🙏 মুখ্যমন্ত্রীর আবেদনে সাড়া বড় পুজোগুলির
মুখ্যমন্ত্রীর এই আহ্বানের পর কলকাতার একাধিক নামী পুজো কমিটি অনুদান না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সন্তোষ মিত্র স্কোয়ার এবং চোরবাগান সর্বজনীন-এর মতো পরিচিত পুজো কমিটি।
শহরের দুর্গাপুজোর মানচিত্রে এই পুজোগুলির আলাদা পরিচিতি রয়েছে। প্রতিবছরই বড় বাজেট, আকর্ষণীয় থিম, মণ্ডপসজ্জা এবং দর্শনার্থীদের ভিড়ের কারণে এগুলি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে।
এবার সরকারি অনুদান নেওয়ার পরিবর্তে নিজেদের আর্থিক সামর্থ্যের উপর নির্ভর করেই পুজো আয়োজন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এই ধরনের কয়েকটি কমিটি।
🏛️ সরকারের বার্তা—যাদের প্রয়োজন, সাহায্য পাক তারাই
সরকারি অনুদান নিয়ে মূলত যে বার্তা দেওয়া হয়েছে তা হল—যেসব পুজো কমিটির আর্থিক প্রয়োজন বেশি, সরকারি সহায়তা তাদের কাছেই পৌঁছনো উচিত।
বড় ও সচ্ছল পুজো কমিটিগুলি যদি স্বেচ্ছায় অনুদান গ্রহণ না করে, তাহলে সেই অর্থ সীমিত সামর্থ্যের পুজোগুলির কাজে আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করা সম্ভব হবে—এমনই ভাবনা থেকেই বড় পুজো কমিটিগুলিকে এই আবেদন জানানো হয়েছে।
এই আহ্বানে সাড়া দিয়ে পরিচিত পুজো কমিটিগুলির একাংশের অনুদান প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্তকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।
🎉 পুজোর প্রস্তুতিতে ব্যস্ত কলকাতা
এদিকে দুর্গাপুজোকে ঘিরে কলকাতা জুড়ে ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। বিভিন্ন পুজো কমিটির পক্ষ থেকে মণ্ডপ নির্মাণ, প্রতিমা তৈরি, আলোকসজ্জা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি চলছে।
বড় পুজোগুলির পাশাপাশি ছোট পুজোগুলিও যাতে উৎসবের আয়োজন সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে পারে, সেদিকেই এবার বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সরকারি অনুদান প্রত্যাখ্যান করে বড় পুজো কমিটিগুলির এই সিদ্ধান্ত সেই বার্তাকেই আরও জোরালো করল বলে মনে করা হচ্ছে।
📌 অনুদান না নেওয়ার সিদ্ধান্তে নতুন নজির
দুর্গাপুজোর মতো সর্বজনীন উৎসবে সরকারি সহায়তা দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন পুজো কমিটির কাছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তার মধ্যেই আর্থিকভাবে সচ্ছল কয়েকটি বড় পুজোর স্বেচ্ছায় অনুদান না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে নজর কেড়েছে।
ছোট ও আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা পুজো কমিটিগুলির জন্য সরকারি অর্থ বরাদ্দকে আরও কার্যকর করে তুলতেই বড় পুজোগুলির এই সিদ্ধান্ত—এমনটাই মনে করা হচ্ছে।
কলকাতার আরও কোনও বড় পুজো কমিটি আগামী দিনে একই পথে হাঁটে কি না, এখন সেদিকেও নজর থাকবে।
