মুর্শিদাবাদে জুয়ার আসরে পুলিশের অভিযান, বোমাবাজিতে জখম ASI
মুর্শিদাবাদের সালারে বেআইনি জুয়ার আসরে অভিযান চালাতে গিয়ে পুলিশের উপর বোমাবাজির অভিযোগ। গুরুতর জখম ASI সাদেক আলি, আটক বেশ কয়েকজন।
মুর্শিদাবাদে জুয়ার আসরে হানা দিতেই পুলিশের উপর বোমাবাজি! গুরুতর জখম ASI

মুর্শিদাবাদ, স্টেট ডেস্ক ৬ : বেআইনি জুয়ার আসরে অভিযান চালাতে গিয়ে দুষ্কৃতীদের বোমাবাজির মুখে পড়ল পুলিশ। রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে মুর্শিদাবাদের সালার থানার খাঁড়েরা গ্রামে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। দুষ্কৃতীদের ছোড়া বোমার আঘাতে গুরুতর জখম হয়েছেন সালার থানার এক এএসআই (ASI)। ঘটনায় রাতারাতি উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আহত এএসআইয়ের নাম সাদেক আলি। বোমার আঘাতে তিনি গুরুতর আহত হলে প্রথমে তাঁকে সালার ব্লক প্রাথমিক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে দ্রুত মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। তাঁর চিকিৎসা চলছে।
খাঁড়েরা মোড়ে দীর্ঘদিন ধরে চলছিল জুয়ার আসর
স্থানীয় সূত্রে খবর, খাঁড়েরা মোড়ের কাছে বেশ কিছুদিন ধরেই রাতের অন্ধকারে বেআইনি জুয়ার আসর বসার অভিযোগ উঠছিল। ওই আসরে নিয়মিত বহু মানুষ জড়ো হচ্ছিলেন বলেও খবর পাওয়া যায়।
গোপন সূত্রে সেই জুয়ার আসরের খবর পায় সালার থানার পুলিশ। এরপর রবিবার গভীর রাতে একটি পুলিশ দল সেখানে অভিযান চালাতে যায়। পুলিশ বাহিনীকে এলাকায় ঢুকতে দেখেই আসরে থাকা কয়েকজন দুষ্কৃতী পালানোর চেষ্টা করে বলে অভিযোগ।
পুলিশকে লক্ষ্য করে শুরু বোমাবাজি
অভিযোগ, পুলিশকে দেখে পালানোর সময়ই আচমকা বাহিনীকে লক্ষ্য করে বোমা ছুড়তে শুরু করে দুষ্কৃতীরা। পরপর বোমা বিস্ফোরণে মুহূর্তের মধ্যে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা।
এই বোমাবাজির মধ্যেই একটি বোমার আঘাতে গুরুতর জখম হন এএসআই সাদেক আলি। হামলার জেরে পুলিশকর্মীদের মধ্যেও আতঙ্ক তৈরি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত অতিরিক্ত বাহিনী ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়।
বিশাল পুলিশ বাহিনী নিয়ে এলাকায় আধিকারিকরা
পুলিশের উপর হামলার খবর পেয়ে রাতেই জেলা পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তারা বিশাল পুলিশ বাহিনী নিয়ে খাঁড়েরা গ্রামে পৌঁছন। এলাকায় তল্লাশি অভিযান শুরু করা হয়। হামলার ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করতে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি বিভিন্ন সূত্র খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
ঘটনার পর থেকে খাঁড়েরা গ্রাম ও সংলগ্ন এলাকায় চরম উত্তেজনা ও আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। নতুন করে যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, তার জন্য এলাকায় নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে।
বেশ কয়েকজন আটক, মূল অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, হামলার ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাঁদের কাছ থেকে ঘটনার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার চেষ্টা চলছে।
একইসঙ্গে বোমাবাজির ঘটনায় মূল অভিযুক্ত কারা, কোথা থেকে বোমা আনা হয়েছিল এবং বেআইনি জুয়ার আসরের সঙ্গে হামলাকারীদের কী যোগ রয়েছে—সেই সব বিষয়ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
জুয়ার আসর ঘিরে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
খাঁড়েরা মোড়ে দীর্ঘদিন ধরে বেআইনি জুয়ার আসর চলার অভিযোগ সামনে আসার পর স্থানীয় স্তরে নানা প্রশ্নও উঠছে। কীভাবে এতদিন ধরে ওই আসর চলছিল এবং এর সঙ্গে কারা যুক্ত ছিল, তা তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।
তবে পুলিশের অভিযানের সময়ই পুলিশ বাহিনীকে লক্ষ্য করে বোমাবাজির ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় কড়া পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছে প্রশাসন।
তদন্তে একাধিক দিক খতিয়ে দেখছে পুলিশ
ঘটনার পর এলাকায় তল্লাশি ও তদন্ত জোরদার করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি হামলায় ব্যবহৃত বিস্ফোরক কোথা থেকে এল, হামলায় আর কারা জড়িত ছিল এবং জুয়ার আসর পরিচালনার সঙ্গে অভিযুক্তদের কোনও সরাসরি যোগ ছিল কি না—সবই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
একদিকে আহত পুলিশ আধিকারিকের চিকিৎসা চলছে, অন্যদিকে হামলাকারীদের গ্রেফতার করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সালারে পুলিশের উপর এই হামলার ঘটনায় আপাতত থমথমে পরিস্থিতি। পুলিশের তদন্তের পরই ঘটনার নেপথ্যে থাকা পুরো চিত্র আরও স্পষ্ট হবে।
