মণিপুরে পরপর দুই সশস্ত্র হামলা, নিহত ৪; গুলিবিদ্ধ ৬ বছরের শিশু
মণিপুরের তামেংলং ও ননি জেলায় পরপর দুই সশস্ত্র হামলায় কুকি-জো সম্প্রদায়ের ৪ নাগরিক নিহত। গুলিবিদ্ধ ৬ বছরের শিশু গুরুতর আহত। তদন্তে পুলিশ।
মণিপুরে পরপর দুই সশস্ত্র হামলা, নিহত কুকি-জো সম্প্রদায়ের ৪ নাগরিক; গুরুতর আহত শিশু

ইম্ফল: মণিপুরে ফের সশস্ত্র হামলার ঘটনায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়াল। তামেংলং এবং ননি জেলায় পৃথক দুটি হামলায় কুকি-জো সম্প্রদায়ের চারজন সাধারণ নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ। হামলার ঘটনায় ছয় বছরের একটি শিশুও গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়েছে। একই দিনে পরপর দুটি হামলার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট এলাকায় আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
ঘটনাগুলি ঘটেছে ১৩ সেপ্টেম্বর, রবিবার। স্থানীয় সূত্রের খবর অনুযায়ী, প্রথম হামলাটি ঘটে ভোররাতে তামেংলং জেলার এল টোলেন গ্রামে। সেখানে অজ্ঞাতপরিচয় বন্দুকধারীদের গুলিতে এক দম্পতির মৃত্যু হয়। তাঁদের ছয় বছরের ছেলে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়েছে।
ভোররাতে বাড়িতে ঢুকে হামলার অভিযোগ
তামেংলং জেলার এল টোলেন গ্রামে ভোররাতে হামলার শিকার হন লিংজাঙ্গাই সিংসিত এবং তাঁর স্বামী সেনেহ সিংসিত। অভিযোগ, অজ্ঞাত দুষ্কৃতীরা তাঁদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। ঘটনাস্থলেই দু’জনের মৃত্যু হয় বলে জানা গিয়েছে।
হামলার সময় তাঁদের ছয় বছরের ছেলেও গুলিবিদ্ধ হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় শিশুটিকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।
এই হামলার পর এলাকায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। হামলাকারীরা কোন দিক থেকে এসেছিল এবং কী উদ্দেশ্যে এই হামলা চালানো হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখছে নিরাপত্তা বাহিনী।
বিকেলে ননি জেলাতেও হামলা
প্রথম ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ননি জেলার লংপি গ্রামে দ্বিতীয় সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটে। সেখানে গুলিতে আরও দু’জনের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন রোয়েল গ্যাংটে (অথবা থাংভেল গ্যাংটে) এবং জুলি সিংসন। এক পুরুষ ও এক মহিলার মৃত্যুর ঘটনায় ফের উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়।
একই দিনে দুই জেলায় পরপর হামলার ঘটনায় মণিপুরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে দুটি হামলার মধ্যে সরাসরি কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
হামলার পিছনে কারা? উঠছে অভিযোগ
হামলার পর কুকি সংগঠনগুলির তরফে অভিযোগ উঠেছে, এই ঘটনার পিছনে নাগা সশস্ত্র গোষ্ঠী NSCN(IM) এবং ZUF-এর ভূমিকা থাকতে পারে। তবে এই অভিযোগ এখনও নিশ্চিত নয়।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হামলাকারীদের পরিচয় এবং হামলার প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করতে তদন্ত শুরু হয়েছে। এখনও পর্যন্ত কোনও সংগঠন এই দুই হামলার দায় স্বীকার করেনি। ফলে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে তদন্তকারীরা বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখছেন।
‘কালো দিবস’-এর দিনেই রক্তাক্ত হামলা
উল্লেখযোগ্যভাবে, এই হামলাগুলি এমন একটি দিনে ঘটেছে, যেদিন কুকি সম্প্রদায়ের একটি অংশ ১৯৯০-এর দশকের কুকি-নাগা সংঘাতে নিহতদের স্মরণে ‘কালো দিবস’ বা ‘সাহনিত নি’ পালন করছিল।
এই বিশেষ দিনে পরপর হামলা ও প্রাণহানির ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও স্পর্শকাতর করে তুলেছে। ফলে নতুন করে কোনও সংঘাত বা উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর নিন্দা, বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা
ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী ওয়াই. খেমচাঁদ সিংহ। সাধারণ নাগরিকদের উপর এ ধরনের হামলা কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বার্তা দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলিতে নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে। সম্ভাব্য হামলাকারীদের সন্ধানে তল্লাশি অভিযান চালানোর পাশাপাশি পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে প্রশাসন।
তদন্তের দিকেই এখন নজর
একই দিনে তামেংলং ও ননি জেলায় চারজন সাধারণ মানুষের মৃত্যু এবং একটি শিশুর আহত হওয়ার ঘটনায় মণিপুরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠেছে। হামলাকারীদের পরিচয়, হামলার উদ্দেশ্য এবং এর পিছনে কোনও সংগঠিত গোষ্ঠীর ভূমিকা ছিল কি না—এই সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে তদন্তকারীরা।
তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনও নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে হামলার জন্য দায়ী করা যাচ্ছে না বলেই প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এখন পুলিশের তদন্ত এবং নিরাপত্তা বাহিনীর পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই নজর রয়েছে।
