পুজোর মরশুমে সুখবর! হাওড়া-শিয়ালদহ-কলকাতা থেকে চলবে ১০ জোড়া বিশেষ ট্রেন
দুর্গাপুজো, কালীপুজো, ছট ও জগদ্ধাত্রী পুজো উপলক্ষে পূর্ব রেলের বড় ঘোষণা। হাওড়া, শিয়ালদহ, কলকাতা ও আসানসোল থেকে চলবে ১০ জোড়া বিশেষ ট্রেন।
দুর্গাপুজো, কালীপুজো, ছট ও জগদ্ধাত্রী পুজো উপলক্ষে পূর্ব রেলের বড় ঘোষণা। হাওড়া, শিয়ালদহ, কলকাতা ও আসানসোল থেকে চলবে ১০ জোড়া বিশেষ ট্রেন।

কলকাতা, স্টেট ডেস্ক ৮ : দুর্গাপুজো থেকে শুরু করে কালীপুজো, ছটপুজো এবং জগদ্ধাত্রী পুজো—উৎসবের মরশুমে বাড়তে চলেছে রেলযাত্রীদের ভিড়। সেই বাড়তি চাপ সামাল দিতে এবার একাধিক বিশেষ ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত নিল পূর্ব রেল। হাওড়া, শিয়ালদহ, কলকাতা ও আসানসোল স্টেশন থেকে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্যে মোট ১০ জোড়া বিশেষ ট্রেন চালানোর ঘোষণা করা হয়েছে।
রেলের এই উদ্যোগে উৎসবের সময় বাড়ি ফেরা এবং পুজোর ছুটিতে ভ্রমণকারী যাত্রীদের জন্য অতিরিক্ত যাত্রার সুযোগ তৈরি হবে। বিশেষ করে বিহার, উত্তরপ্রদেশ ও পূর্ব ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে যাতায়াতকারী যাত্রীদের জন্য এই ট্রেনগুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
কোন কোন রুটে চলবে বিশেষ ট্রেন?
পূর্ব রেলের ঘোষণায় জানা গিয়েছে, অক্টোবর থেকে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নির্দিষ্ট দিনে এই বিশেষ ট্রেনগুলি চালানো হবে। ট্রেনগুলির গন্তব্যের তালিকায় রয়েছে রক্সৌল, পাটনা, সীতামারহি, গোরক্ষপুর, মধুবনী এবং দিঘা-র মতো গুরুত্বপূর্ণ শহর ও পর্যটনকেন্দ্র।
এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল শিয়ালদহ–সীতামারহি–শিয়ালদহ স্পেশাল এবং হাওড়া–রক্সৌল স্পেশাল। ফলে উত্তরবঙ্গ ও বিহারমুখী যাত্রীদের পাশাপাশি অন্যান্য রাজ্যে যাওয়া যাত্রীদেরও অতিরিক্ত ট্রেন পরিষেবার সুবিধা মিলবে।
শিয়ালদহ–সীতামারহি স্পেশাল
রেলের সূচি অনুযায়ী, শিয়ালদহ–সীতামারহি স্পেশাল (০৩১৩৩/০৩১৩৪) নির্দিষ্ট দিনে চলবে। ১৬ অক্টোবর থেকে ২৭ নভেম্বর পর্যন্ত এই পরিষেবা চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
বিশেষ ট্রেনটি শিয়ালদহ থেকে রাতের দিকে ছাড়বে এবং পরদিন নির্দিষ্ট সময়ে গন্তব্যে পৌঁছবে। ফেরার ট্রেনটিও নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী চলবে। উৎসবের মরশুমে বিহারমুখী যাত্রীদের জন্য এই পরিষেবা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
হাওড়া–রক্সৌল বিশেষ ট্রেন
অন্যদিকে, হাওড়া–রক্সৌল স্পেশাল ট্রেনটি ১৫ অক্টোবর থেকে ২৯ নভেম্বর পর্যন্ত নির্দিষ্ট দিনে চলবে। রক্সৌল সীমান্তবর্তী গুরুত্বপূর্ণ রেলস্টেশন হওয়ায় এই ট্রেনের মাধ্যমে বিহার ও নেপাল সীমান্তবর্তী এলাকার যাত্রীদেরও সুবিধা হতে পারে।
পুজোর সময় সাধারণ ট্রেনগুলিতে টিকিটের চাহিদা এবং যাত্রীসংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। তাই অতিরিক্ত এই পরিষেবা সেই চাপ কিছুটা কমাতে সাহায্য করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে থাকবে স্টপেজ
বিশেষ ট্রেনগুলির ক্ষেত্রে যাত্রীদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে স্টপেজ রাখা হয়েছে। হাওড়া, শিয়ালদহ এবং কলকাতা থেকে ছেড়ে যাওয়া বিভিন্ন বিশেষ ট্রেন ব্যান্ডেল, বর্ধমান, দুর্গাপুর, আসানসোল, চিত্তরঞ্জন, মধুপুর এবং জশিডি-র মতো গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে দাঁড়াবে।
ফলে শুধু কলকাতা বা হাওড়ার যাত্রী নয়, পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলার পাশাপাশি ঝাড়খণ্ড ও বিহারের যাত্রীরাও এই পরিষেবা ব্যবহার করতে পারবেন।
দিঘাগামী যাত্রীদের জন্যও সুখবর
পুজোর ছুটিতে সমুদ্রভ্রমণের পরিকল্পনা করা যাত্রীদের জন্যও রয়েছে বিশেষ ট্রেন। মালদা টাউন–দিঘা স্পেশাল ট্রেনটি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে দাঁড়াবে।
এই ট্রেনের সম্ভাব্য স্টপেজগুলির মধ্যে রয়েছে নিউ ফরাক্কা, পাকুড়, রামপুরহাট, সাঁইথিয়া, বোলপুর-শান্তিনিকেতন, বর্ধমান এবং ডানকুনি। ফলে মালদা থেকে শুরু করে বীরভূম, বর্ধমান ও কলকাতা সংলগ্ন এলাকার যাত্রীরাও দিঘা যাওয়ার অতিরিক্ত রেল পরিষেবা পাবেন।
উৎসবের মরশুমে বাড়তি ট্রেন কেন গুরুত্বপূর্ণ?
প্রতি বছর দুর্গাপুজো, কালীপুজো, ছটপুজো এবং অন্যান্য উৎসবকে কেন্দ্র করে রাজ্যের বড় স্টেশনগুলিতে যাত্রীসংখ্যা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়। বিশেষ করে হাওড়া ও শিয়ালদহ থেকে বিহার, ঝাড়খণ্ড, উত্তরপ্রদেশ এবং অন্যান্য রাজ্যের দিকে যাওয়া ট্রেনগুলিতে বাড়তি চাপ দেখা যায়।
এই পরিস্থিতিতে নিয়মিত ট্রেনের পাশাপাশি বিশেষ ট্রেন চালানোর ফলে অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহণের সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে উৎসবের সময় টিকিটের চাহিদা মেটাতেও এই পরিষেবা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
টিকিট বুকিংয়ের আগে সূচি দেখে নেওয়ার পরামর্শ
যাত্রীদের উদ্দেশে রেলের তরফে পরামর্শ, বিশেষ ট্রেনের চলাচলের দিন, সময়, স্টপেজ এবং আসন সংক্রান্ত তথ্য টিকিট কাটার আগে ভালোভাবে দেখে নিতে হবে। কারণ বিশেষ ট্রেনগুলি প্রতিদিন নয়, নির্দিষ্ট দিন ও নির্দিষ্ট সময়সূচি অনুযায়ী চলবে।
টিকিট বুকিং এবং ট্রেনের সর্বশেষ সময়সূচি জানতে যাত্রীরা ভারতীয় রেলের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট এবং IRCTC-র পরিষেবা ব্যবহার করতে পারেন।
সব মিলিয়ে, পুজো ও উৎসবের মরশুমে পূর্ব রেলের এই ১০ জোড়া বিশেষ ট্রেন রেলযাত্রীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অতিরিক্ত পরিবহণের সুযোগ তৈরি করতে চলেছে। বিশেষ করে হাওড়া, শিয়ালদহ, কলকাতা ও আসানসোল থেকে বিহার, উত্তরপ্রদেশ এবং দিঘামুখী যাত্রীদের জন্য এই পরিষেবা বাড়তি স্বস্তি দিতে পারে।
