২০২৯-এর আগেই ২১ NDA-শাসিত রাজ্যে UCC, অমিত শাহের ঘোষণায় TDP-শিবসেনার সমর্থন
২০২৯-এর আগে ২১ NDA-শাসিত রাজ্যে UCC কার্যকরের ঘোষণা অমিত শাহের। TDP ও শিবসেনার সমর্থন, বিহারে UCC নিয়ে ভিন্ন অবস্থান JD(U)-র।
২০২৯-এর আগেই ২১ NDA-শাসিত রাজ্যে UCC! অমিত শাহের ঘোষণায় পাশে TDP-শিবসেনা

নয়াদিল্লি, ১৬ সেপ্টেম্বর, ন্যাশনাল ডেস্ক ৬ : ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগেই বিজেপি নেতৃত্বাধীন NDA-শাসিত ২১টি রাজ্যে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা Uniform Civil Code (UCC) কার্যকর করার লক্ষ্য ঘোষণা করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তাঁর এই ঘোষণার পরই NDA-র শরিক দলগুলির মধ্যে বিষয়টি নিয়ে একাধিক প্রতিক্রিয়া সামনে এসেছে। গুরুত্বপূর্ণ শরিক তেলুগু দেশম পার্টি (TDP) এবং শিবসেনা অমিত শাহের ঘোষণার প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। অন্যদিকে বিহারের শাসকদল JD(U) বিষয়টি নিয়ে তুলনামূলক সতর্ক অবস্থান নিয়েছে এবং প্রস্তাবিত আইনের খুঁটিনাটি পর্যালোচনার কথা জানিয়েছে।
কী ঘোষণা করেছেন অমিত শাহ?
সম্প্রতি মুম্বইয়ে এক সাংবাদিক বৈঠকে অমিত শাহ জানান, NDA-শাসিত ২১টি রাজ্যে ২০২৯ সালের আগেই UCC কার্যকর করা হবে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ইতিমধ্যেই কয়েকটি রাজ্যে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালু হয়েছে এবং বাকি NDA-শাসিত রাজ্যগুলিতেও তা কার্যকর করার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে।
UCC মূলত বিয়ে, বিবাহবিচ্ছেদ, উত্তরাধিকার ও দত্তক গ্রহণের মতো ব্যক্তিগত আইনের ক্ষেত্রে ধর্ম নির্বিশেষে একটি অভিন্ন আইনি কাঠামো তৈরির ধারণার সঙ্গে যুক্ত।
TDP-র সমর্থন
অমিত শাহের ঘোষণার পর NDA-র অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শরিক তেলুগু দেশম পার্টি (TDP) বিষয়টি নিয়ে সমর্থনের কথা জানিয়েছে। দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, NDA-র শরিক হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ঘোষণার প্রতি তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
TDP নেতা লাভু কৃষ্ণ দেবরায়ালু জানিয়েছেন, বর্তমানে এই বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনও আলোচনা না থাকলেও প্রয়োজন হলে বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। অর্থাৎ, কেন্দ্রের ঘোষণার প্রতি সমর্থনের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির মতামত নেওয়ার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।
শিবসেনারও জোরালো সমর্থন
অমিত শাহের ঘোষণাকে সমর্থন করেছে মহারাষ্ট্রের শাসক জোটের গুরুত্বপূর্ণ শরিক শিবসেনা। দলের নেতা তথা মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডে এবং সাংসদ শ্রীকান্ত শিন্ডে UCC-কে সমতা, ন্যায়বিচার এবং জাতীয় ঐক্যের সঙ্গে যুক্ত করেছেন।
শ্রীকান্ত শিন্ডের বক্তব্য অনুযায়ী, দলটির প্রতিষ্ঠাতা বাল ঠাকরের দীর্ঘদিনের ‘এক দেশ, এক আইন’-এর ভাবনার সঙ্গেও অভিন্ন দেওয়ানি বিধির ধারণার মিল রয়েছে। NDA-র শরিক হিসেবে কেন্দ্রের এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে দলের সমর্থনের কথাও তিনি জানিয়েছেন।
JD(U)-র অবস্থানে সতর্কতার সুর
অন্যদিকে বিহারের NDA শরিক জনতা দল ইউনাইটেড বা JD(U) বিষয়টি নিয়ে এখনও চূড়ান্ত অবস্থান ঘোষণা করেনি। দলের নেতা তথা বিহারের উপমুখ্যমন্ত্রী বিজয় কুমার চৌধুরী জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত UCC বিলের বিষয়বস্তু আগে খতিয়ে দেখা হবে।
তাঁর বক্তব্য, কোনও কারণ ছাড়াই বিলের বিরোধিতা করার প্রয়োজন নেই। তবে কোনও নির্দিষ্ট বিধান নিয়ে আপত্তি থাকলে সেই বিষয়গুলি কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে জানানো হবে। দলের জাতীয় কার্যকরী সভাপতি সঞ্জয় কুমার ঝা-ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবেন বলে জানা গিয়েছে।
NDA-র অন্দরে ভিন্ন প্রতিক্রিয়া
অমিত শাহের ঘোষণার পর NDA-র শরিকদের অবস্থানে কিছুটা পার্থক্যও প্রকাশ্যে এসেছে। TDP এবং শিবসেনা সমর্থনের কথা জানালেও JD(U) বলেছে, আইনটির বিস্তারিত দেখে এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলি পর্যালোচনা করেই তারা সিদ্ধান্ত নেবে। ফলে UCC নিয়ে NDA-র শরিক দলগুলির মধ্যে আলোচনার পরিধি আরও বাড়তে পারে।
২০২৯-এর আগে বড় আইনি উদ্যোগের পরিকল্পনা
কেন্দ্রীয় সরকারের এই পরিকল্পনার লক্ষ্য ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে NDA-শাসিত রাজ্যগুলিতে UCC কার্যকর করা। অমিত শাহের বক্তব্য অনুযায়ী, ২১টি NDA-শাসিত রাজ্যকে এই উদ্যোগের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। ইতিমধ্যেই কয়েকটি রাজ্যে UCC-সংক্রান্ত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে জানানো হয়েছে।
ফলে আগামী দিনে UCC নিয়ে কেন্দ্র, রাজ্য সরকার এবং NDA-র শরিক দলগুলির মধ্যে আরও আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে বিভিন্ন রাজ্যে আইনটি কীভাবে কার্যকর করা হবে, তার কাঠামো কী হবে এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির মতামত কীভাবে বিবেচনায় নেওয়া হবে—এই বিষয়গুলিই এখন আলোচনার কেন্দ্রে।
