গুরুগ্রামে মহিলা বাইকারকে ধাক্কা, গ্রেফতার মূল অভিযুক্ত কল্যাণ বৈঁসলা
গুরুগ্রামের গলফ কোর্স রোডে মহিলা বাইকারকে গাড়ি দিয়ে ধাক্কার অভিযোগে গ্রেফতার কল্যাণ বৈঁসলা। BNS ১০৯ ধারায় মামলা, ইচ্ছাকৃত ধাক্কার অভিযোগ অস্বীকার অভিযুক্তের।
গলফ কোর্স রোডে মহিলা বাইকারকে ধাক্কা, গ্রেফতার মূল অভিযুক্ত কল্যাণ বৈঁসলা

গুরুগ্রাম, ১৬ সেপ্টেম্বর, ন্যাশনাল ডেস্ক ৫ : ফের রোডরেজের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়াল গুরুগ্রামে। শহরের ব্যস্ত গলফ কোর্স রোডে এক মহিলা বাইকারকে একটি গাড়ি ধাওয়া করে ইচ্ছাকৃতভাবে ধাক্কা মারার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার জেরে গুরুতর আতঙ্কের মধ্যে পড়েন ওই মহিলা। তাঁর বাইকে লাগানো ক্যামেরার ফুটেজ এবং এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরার ছবি খতিয়ে দেখে তদন্তে নামে পুলিশ। এরপর এই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত হিসেবে কল্যাণ বৈঁসলাকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে গত রবিবার সকালে গুরুগ্রামের অন্যতম ব্যস্ত রাস্তা গলফ কোর্স রোডে। অভিযোগ অনুযায়ী, সিয়া নামে এক মহিলা বাইকার রাস্তায় বাইক নিয়ে যাচ্ছিলেন। সেই সময় একটি গাড়ি তাঁকে পিছন থেকে ধাওয়া করতে শুরু করে। কিছুক্ষণ পর গাড়িটি পাশ থেকে তাঁর বাইকে জোরে ধাক্কা মারে বলে অভিযোগ। আচমকা ধাক্কার অভিঘাতে বাইক থেকে ছিটকে রাস্তায় পড়ে যান সিয়া।
ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের পাশাপাশি ঘটনাস্থলের বিভিন্ন সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। একইসঙ্গে আক্রান্ত মহিলার বাইকে থাকা ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজও তদন্তের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে সামনে আসে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই ফুটেজগুলি বিশ্লেষণ করে গাড়িটির গতিবিধি এবং অভিযুক্ত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করার চেষ্টা করা হয়। তদন্তের সূত্র ধরে শেষ পর্যন্ত কল্যাণ বৈঁসলাকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ধৃত কল্যাণ বৈঁসলা হরিয়ানার পলওয়ালের বাসিন্দা। পেশায় তিনি একজন জিম মালিক এবং একসময় কাবাডি খেলোয়াড় হিসেবেও পরিচিত ছিলেন বলে জানা গিয়েছে।
খুনের চেষ্টার ধারায় মামলা
ঘটনাটিকে শুধুমাত্র সাধারণ পথ দুর্ঘটনা হিসেবে দেখছে না পুলিশ। বাইকের ক্যামেরায় ধরা পড়া ফুটেজ এবং সিসিটিভি ছবি খতিয়ে দেখার পর অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) ১০৯ ধারা, অর্থাৎ খুনের চেষ্টার অভিযোগে মামলা করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
তদন্তকারীদের হাতে থাকা ভিডিও ফুটেজে গাড়িটির গতিবিধি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ধাক্কাটি ইচ্ছাকৃত ছিল কি না, ঘটনার আগে গাড়িটি কীভাবে বাইকারকে অনুসরণ করছিল এবং ধাক্কার সময় গাড়ির গতি কত ছিল—এই সমস্ত বিষয় তদন্তের আওতায় রাখা হয়েছে।
ঘটনার পর গুরুগ্রামের গলফ কোর্স রোডে যান চলাচল এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। ব্যস্ত রাস্তায় এ ধরনের রোডরেজের ঘটনা যে বড়সড় বিপদের কারণ হতে পারে, সেই বিষয়টিও সামনে এসেছে।
ইচ্ছাকৃত ধাক্কার অভিযোগ অস্বীকার অভিযুক্তের
তবে পুলিশের অভিযোগের সঙ্গে একমত নন অভিযুক্ত কল্যাণ বৈঁসলা এবং তাঁর আইনজীবী। তাঁদের দাবি, মহিলা বাইকারকে ইচ্ছাকৃতভাবে ধাক্কা দেওয়ার কোনও উদ্দেশ্য ছিল না। তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী, ঘটনাটি কোনও পরিকল্পিত হামলা নয়, বরং অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানোর সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনা।
অর্থাৎ, ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে দু’টি ভিন্ন দাবি সামনে এসেছে। পুলিশের তদন্তে যেখানে ইচ্ছাকৃত ধাক্কার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং সেই অনুযায়ী গুরুতর ধারায় মামলা করা হয়েছে, সেখানে অভিযুক্ত পক্ষ ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা হিসেবে দাবি করছে।
ভিডিও ফুটেজই তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ সূত্র
এই ঘটনার তদন্তে আক্রান্ত মহিলার বাইকে থাকা ক্যামেরার ফুটেজ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। রাস্তায় ঠিক কী ঘটেছিল, গাড়িটি বাইকটিকে কতক্ষণ অনুসরণ করেছিল এবং ধাক্কার মুহূর্তে গাড়ির অবস্থান কী ছিল—ভিডিও ফুটেজ থেকে সেই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।
পাশাপাশি গলফ কোর্স রোডের সিসিটিভি ফুটেজও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য এবং ভিডিও ফুটেজের মধ্যে মিলিয়ে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র তৈরি করার চেষ্টা করছে পুলিশ।
এই ঘটনায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা এবং তদন্তের পরবর্তী অগ্রগতির দিকে নজর রয়েছে। পাশাপাশি মহিলা বাইকারের নিরাপত্তা ও রাস্তায় রোডরেজ নিয়ন্ত্রণের বিষয়টিও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
গলফ কোর্স রোডের এই ঘটনায় একদিকে যেমন ইচ্ছাকৃতভাবে ধাক্কা মারার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে, অন্যদিকে অভিযুক্ত পক্ষ তা অস্বীকার করে ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা বলে দাবি করেছে। ফলে ভিডিও ফুটেজ, সিসিটিভি এবং তদন্তের অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার প্রকৃত কারণ কী ছিল, সেটিই এখন তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
