মণিপুরে ফের অশান্তি, কাংকোকপিতে সশস্ত্র হামলা; ২ কুকি মহিলা খুন
মণিপুরের কাংকোকপি ও তামেংলংয়ে ফের হিংসা। চাওয়াংকিনিং নাগা গ্রামে সশস্ত্র হামলা ও অগ্নিসংযোগের পাশাপাশি দুই কুকি মহিলাকে গুলি করে হত্যার অভিযোগ।
ফের অশান্ত মণিপুর! কাংকোকপির পাহাড়ি গ্রামে জঙ্গি হামলা, ২ কুকি মহিলা খুন

কোচবিহার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ন্যাশনাল ডেস্ক ৪ : ফের উত্তপ্ত মণিপুর। মঙ্গলবার রাতে কাংকোক
পি জেলার একটি পাহাড়ি গ্রামে সশস্ত্র জঙ্গিদের হামলাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। আধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত একদল হামলাকারী চাওয়াংকিনিং নাগা গ্রামে ঢুকে হামলা চালায় বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর। সময় অন্তত দুটি বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে হামলাকারীদের দীর্ঘ সময় ধরে গুলির লড়াই চলে।
সূত্রের খবর, মঙ্গলবার রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টা নাগাদ চাওয়াংকিনিং নাগা গ্রামকে লক্ষ্য করে হামলা শুরু হয়। হামলাকারীরা অত্যাধুনিক অস্ত্র নিয়ে গ্রামে প্রবেশের চেষ্টা করে বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি সামাল দিতে এলাকায় মোতায়েন থাকা কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ ফোর্সের (CRPF) জওয়ানরা পাল্টা গুলি চালান। দুই পক্ষের মধ্যে থেমে থেমে গুলির লড়াই প্রায় ছয় ঘণ্টা ধরে চলে এবং বুধবার ভোর সাড়ে ৪টা নাগাদ পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে বলে আধিকারিকদের উদ্ধৃত করে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
নিরাপত্তা বাহিনীর পাল্টা প্রতিরোধের জেরে হামলাকারীরা গ্রামের ভিতরে আরও এগোতে পারেনি বলে জানা গিয়েছে। তবে গ্রামের প্রান্তে থাকা অন্তত দুটি কাঠের বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। হামলার পর গোটা এলাকায় নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। ঘটনার পর নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে এবং পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনী।
একই দিনে দুই কুকি মহিলাকে গুলি করে খুন
চাওয়াংকিনিং নাগা গ্রামে হামলার কয়েক ঘণ্টা আগেই মণিপুরের তামেংলং জেলায় লেইসাংফাই এলাকায় আরও একটি ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটে। সেখানে দুই কুকি মহিলাকে গুলি করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার বিকেলে ওই দুই মহিলা একটি প্রত্যন্ত এলাকায় নিজেদের জমিতে কাজ করতে গিয়েছিলেন। সেখানেই অজ্ঞাতপরিচয় সশস্ত্র হামলাকারীরা তাঁদের উপর গুলি চালায়।
নিহতদের মধ্যে ছিলেন চোংগা সিতলহৌ এবং কিমবোই সিংসন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে তাঁদের বয়স নিয়ে সামান্য পার্থক্য রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, হামলাকারীদের পরিচয় এখনও নিশ্চিত করা যায়নি এবং ঘটনার তদন্ত চলছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, হামলার পর কয়েকটি ফার্মহাউসেও আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় এবং কয়েকজন গ্রামবাসীর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না।
এই ঘটনার পর মণিপুরের পাহাড়ি এলাকাগুলিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। গত কয়েকদিন ধরেই রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় বিচ্ছিন্ন হিংসার ঘটনা সামনে এসেছে। ১৩ সেপ্টেম্বর তামেংলং ও নোনি জেলায় পৃথক হামলায় চার জন নিহত হওয়ার পর মঙ্গলবার ফের দুই কুকি মহিলার মৃত্যুর ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও স্পর্শকাতর করে তুলেছে।
নজরদারি বাড়িয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী
পরপর হামলার ঘটনায় মণিপুরের স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। কাংকোকপি ও তামেংলং—দুই এলাকাতেই নিরাপত্তা বাহিনীর টহল বাড়ানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সম্ভাব্য হামলা ও পাল্টা হিংসা ঠেকাতে গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাঘাট এবং গ্রাম সংলগ্ন এলাকায় নজরদারি চালানো হচ্ছে।
চাওয়াংকিনিং নাগা গ্রামের হামলার ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কোনও গোষ্ঠী আনুষ্ঠানিকভাবে হামলার দায় স্বীকার করেনি। একইভাবে লেইসাংফাইয়ে দুই মহিলাকে হত্যার ঘটনায় কারা জড়িত, তা নিয়েও তদন্ত চলছে। ফলে হামলাকারীদের পরিচয় ও হামলার সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য নিয়ে এখনই নিশ্চিত কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যাচ্ছে না।
মণিপুরে দীর্ঘদিন ধরে চলা জাতিগত সংঘাতের আবহে একের পর এক নতুন হিংসার ঘটনা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে ফের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। গ্রামগুলিতে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার পাশাপাশি সংঘর্ষপ্রবণ এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা চলছে।
চাওয়াংকিনিং নাগা গ্রামে রাতের হামলা, দুই বাড়িতে আগুন এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে ঘণ্টার পর ঘণ্টা গুলির লড়াই—এর পাশাপাশি একই দিনে চ সামনে নিয়ে এল। এখন নজর প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং তদন্তের দিকে।
