BHEL-এর সোলার প্ল্যান্ট থেকে ৩১.৬৫ কেজি রূপো উধাও, মূল্য ৭১ লক্ষ! FIR দায়ের CBI-এর
গুরুগ্রামের BHEL সোলার সেল প্ল্যান্ট থেকে ৩১.৬৫ কেজি রূপো নিখোঁজ। আনুমানিক মূল্য ৭১ লক্ষ টাকা। দুই আধিকারিকের বিরুদ্ধে FIR দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে CBI।
BHEL-এর সোলার প্ল্যান্ট থেকে ৩১.৬৫ কেজি রূপো উধাও! মূল্য প্রায় ৭১ লক্ষ, FIR দায়ের CBI -এর

গুরুগ্রাম, ন্যাশনাল ডেস্ক ৯: হরিয়ানার গুরুগ্রামে ভারত হেভি ইলেকট্রিক্যালস লিমিটেড বা BHEL-এর সোলার সেল প্ল্যান্ট থেকে বিপুল পরিমাণ রূপো নিখোঁজের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। প্রায় ৩১.৬৫ কেজি রূপোর কোনও হদিস না মেলায় ইতিমধ্যেই তদন্তে নেমেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই। নিখোঁজ রূপোর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৭১ লক্ষ টাকা বলে জানা গিয়েছে।
ঘটনাটি গুরুগ্রামে অবস্থিত BHEL-এর ‘অ্যামরফস সিলিকন সোলার সেল প্ল্যান্ট’-এর। সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ব্যবহৃত ফটোভোলটাইক সেল তৈরির কাজে এই রূপো ব্যবহার করা হতো। প্ল্যান্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান থেকে এত বিপুল পরিমাণ মূল্যবান ধাতু কীভাবে উধাও হল, তা নিয়েই এখন তদন্তকারীদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে।
হঠাৎ স্টক যাচাই করতেই সামনে আসে বড় গরমিল
নথি অনুযায়ী, প্ল্যান্টের লকারে মোট ৩৫.৬ কেজি রূপো মজুত থাকার কথা ছিল। কিন্তু ২০২৪ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি আকস্মিক শারীরিক যাচাই করা হলে দেখা যায়, লকারে রয়েছে মাত্র ৬.২৩ কেজি রূপো।
অর্থাৎ হিসাব অনুযায়ী প্রায় ৩১.৬৫ কেজি রূপোর কোনও সন্ধান পাওয়া যায়নি। এত বড় পরিমাণ রূপোর হিসাব না মেলায় বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়। পরে ঘটনাটি সিবিআইয়ের নজরে আসে এবং FIR দায়ের করে তদন্ত শুরু করা হয়।
দুই আধিকারিকের বিরুদ্ধে মামলা
সিবিআইয়ের প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে প্ল্যান্টের তৎকালীন প্রধান ডঃ ভারত কুমার পান্ত এবং মেটেরিয়াল ম্যানেজমেন্ট শাখার ইন-চার্জ আশিস কুমার-এর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
তবে তদন্ত এখানেই থেমে নেই। প্ল্যান্টের আরও কয়েকজন আধিকারিকের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এত বিপুল পরিমাণ রূপো দীর্ঘ সময় ধরে কীভাবে হিসাবের বাইরে চলে গেল এবং সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের নজরে তা এল না—এই প্রশ্নগুলির উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা।
বার্ষিক স্টক যাচাই বন্ধ হয়েছিল?
তদন্তে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এসেছে বলে জানা যাচ্ছে। সিবিআইয়ের প্রাথমিক অনুসন্ধান অনুযায়ী, ২০১৯ সালে ভারত কুমার পান্ত প্ল্যান্টের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর বার্ষিক স্টক যাচাইয়ের নিয়মিত প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায় বলে অভিযোগ উঠেছে।
এর পাশাপাশি কয়েক বছরের গুরুত্বপূর্ণ ইনভেন্টরি ও স্টক রেজিস্টারের নথি পাওয়া যাচ্ছে না বলেও তদন্তে উঠে এসেছে। ফলে শুধুমাত্র রূপো নিখোঁজের ঘটনাই নয়, প্ল্যান্টের মেটেরিয়াল ম্যানেজমেন্ট ও স্টক সংরক্ষণ ব্যবস্থার মধ্যেও কোনও গুরুতর অনিয়ম হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বড় কোনও যোগসাজশের আশঙ্কা?
৩১.৬৫ কেজি রূপো নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় কোনও বড় ধরনের অভ্যন্তরীণ যোগসাজশ বা অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র ছিল কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় এনেছে সিবিআই। রূপো কখন, কীভাবে এবং কার মাধ্যমে প্ল্যান্ট থেকে বেরিয়ে গেল, সেই সংক্রান্ত নথি ও রেকর্ড পরীক্ষা করা হচ্ছে।
পাশাপাশি স্টক রেজিস্টার, মেটেরিয়াল মুভমেন্টের তথ্য, দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের ভূমিকা এবং প্ল্যান্টের নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়গুলিও খতিয়ে দেখা হতে পারে।
প্রায় ৭১ লক্ষ টাকা মূল্যের ৩১.৬৫ কেজি রূপো নিখোঁজের এই ঘটনায় এখন তদন্তের পরবর্তী ধাপের দিকে নজর রয়েছে। তদন্তে আরও কোনও আধিকারিকের নাম সামনে আসে কি না, কিংবা নিখোঁজ রূপোর কোনও হদিস মেলে কি না—সেদিকেই তাকিয়ে সংশ্লিষ্ট মহল।
