মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রথম কোচবিহার সফরে শুভেন্দু অধিকারী, মদনমোহন মন্দিরে পুজো দিয়ে প্রশাসনিক বৈঠক
মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবার কোচবিহারে শুভেন্দু অধিকারী। মদনমোহন মন্দিরে পুজো দিয়ে রবীন্দ্র ভবনে প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দেন মুখ্যমন্ত্রী।
মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রথম কোচবিহার সফরে শুভেন্দু অধিকারী, মদনমোহন মন্দিরে পুজো দিয়ে প্রশাসনিক বৈঠকে
সিটি নিউজ বাংলা, কোচবিহার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬: মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবার উত্তরবঙ্গের কোচবিহারে এসে পৌঁছলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী কোচবিহারে পৌঁছনোর পর তাঁর সফরের প্রথম পর্বেই ছিল জেলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে যোগসূত্র স্থাপন। বিমানবন্দর থেকে সোজা তিনি যান ঐতিহ্যবাহী মদনমোহন মন্দিরে। সেখানে পুজো দেন মুখ্যমন্ত্রী।

কোচবিহার শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত মদনমোহন মন্দির জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় স্থাপত্য। জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, মহারাজা নৃপেন্দ্র নারায়ণের আমলে ১৮৮৫ থেকে ১৮৮৯ সালের মধ্যে এই মন্দির নির্মিত হয়। মন্দিরে মদনমোহন ছাড়াও কালী, তারা ও ভবানী দেবীর আরাধনা হয়ে থাকে।
মুখ্যমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে সকাল থেকেই মদনমোহন মন্দির এবং রবীন্দ্র ভবন সংলগ্ন এলাকায় প্রশাসনিক তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো। নিরাপত্তার পাশাপাশি সফরের প্রতিটি কর্মসূচি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও একাধিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়।
মন্দিরের পর রবীন্দ্র ভবনে প্রশাসনিক বৈঠক
মদনমোহন মন্দিরে পুজো দেওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী যান রবীন্দ্র ভবনে। সেখানেই তাঁর প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দেওয়ার কথা। জেলার প্রশাসনিক পরিকাঠামো, উন্নয়নমূলক কাজ এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
প্রশাসনিক বৈঠককে ঘিরে ইতিমধ্যেই জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দফতরের আধিকারিকদের মধ্যে প্রস্তুতি শুরু হয়েছিল। কোচবিহারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক বিষয়, পরিকাঠামো, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং পর্যটন-সহ একাধিক বিষয় বৈঠকে আলোচনায় আসতে পারে বলে জানা গিয়েছে।
কোচবিহার বিমানবন্দর নিয়েও নজর
মুখ্যমন্ত্রীর এই সফর ঘিরে কোচবিহার বিমানবন্দরের পরিকাঠামোগত উন্নয়ন নিয়েও নতুন করে নজর তৈরি হয়েছে। বিমানবন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণ এবং অন্যান্য পরিকাঠামো উন্নয়ন নিয়ে প্রশাসনিক স্তরে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনার কথা বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
একইসঙ্গে জেলার পর্যটন সম্ভাবনা নিয়েও প্রশাসনিক মহলে গুরুত্ব রয়েছে। বিশেষ করে মধুপুর সত্ৰকে ধর্মীয় পর্যটনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার বিষয়টিও আলোচনায় আসতে পারে বলে জানা গিয়েছে।
উত্তরবঙ্গ সফরে একাধিক কর্মসূচি
কোচবিহার সফরের পর মুখ্যমন্ত্রীর উত্তরবঙ্গ সফরের আরও কর্মসূচি রয়েছে। মঙ্গলবার কোচবিহারের পাশাপাশি আলিপুরদুয়ার এবং জলপাইগুড়ি জেলাতেও তাঁর সরকারি কর্মসূচি রয়েছে। আলিপুরদুয়ারে বিশ্ব গণ্ডার দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। এছাড়াও জলপাইগুড়ির মূর্তি নদীর উপর নবনির্মিত সেতু উদ্বোধনের কর্মসূচিও রয়েছে।
তবে কোচবিহার সফরটি রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দুই দিক থেকেই তাৎপর্যপূর্ণ। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এই প্রথম কোচবিহারে এলেন শুভেন্দু অধিকারী। ফলে তাঁর প্রশাসনিক বৈঠক থেকে জেলার উন্নয়ন ও পরিকাঠামো নিয়ে কী বার্তা আসে, সেদিকেই এখন নজর কোচবিহারবাসীর।
