স্বর্গীয় বরুণ তালুকদার স্মরনে
কোচবিহারে স্বর্গীয় বাবার স্মরণে সমাজকর্মী বিপ্লব তালুকদারের উদ্যোগে ১৫০ জনকে নতুন বস্ত্র ও ১১ ব্রাহ্মণকে প্রণামী প্রদান। আস্থা ফাউন্ডেশনের বিশেষ সমাজসেবক সম্মাননা পেলেন তিনি।
স্বর্গীয় বাবার স্মৃতিতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ, ১৫০ জনের হাতে নতুন বস্ত্র, ১১ ব্রাহ্মণকে প্রণামী প্রদান
বাবার স্মৃতিকে সমাজসেবার মাধ্যমে বাঁচিয়ে রেখেছেন সমাজকর্মী বিপ্লব তালুকদার, ধারাবাহিক সামাজিক কাজের স্বীকৃতিতে পেলেন বিশেষ সমাজসেবক সম্মাননা
কোচবিহার, ৪ অক্টোবর, সিটি নিউজ বাংলা: প্রয়াত বাবার স্মৃতিকে শুধু আনুষ্ঠানিক শ্রদ্ধার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সমাজসেবার মধ্য দিয়ে তাঁকে স্মরণ করে চলেছেন কোচবিহারের সমাজকর্মী বিপ্লব তালুকদার। প্রতি বছরের মতো এ বছরও তাঁর স্বর্গীয় বাবার স্মরণে আয়োজন করা হল বস্ত্র বিতরণ ও ব্রাহ্মণদের প্রণামী প্রদান কর্মসূচি। রবিবার, ৪ অক্টোবর কোচবিহারে নেহরু নগর আদর্শ ক্লাবের নিকট এই মানবিক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে মোট ১৫০ জনের হাতে নতুন বস্ত্র তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি ১১ জন ব্রাহ্মণকে সম্মান ও শ্রদ্ধার সঙ্গে প্রণামী প্রদান করা হয়।

পরিবারের প্রিয়জনকে হারানোর বেদনা অনেকের কাছেই ব্যক্তিগত স্মৃতি হয়ে থাকে। কিন্তু সেই স্মৃতিকেই সমাজের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর প্রেরণায় পরিণত করেছেন বিপ্লব তালুকদার। তাঁর উদ্যোগে প্রতিবছর ধারাবাহিকভাবে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং তাঁদের মুখে হাসি ফোটানোই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। বিশেষ করে উৎসবের আবহে যাঁদের নতুন পোশাক কেনার সামর্থ্য সীমিত, তাঁদের হাতে নতুন বস্ত্র তুলে দেওয়ার মধ্য দিয়ে সামাজিক দায়বদ্ধতার এক সুন্দর দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হয়েছে।

রবিবারের এই অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সম্মানীয় শ্রী সুমন্ত সাহা, শ্রী শংকর রায়, শ্রী সুনীল কুমার নন্দী, শ্রী হীরক দাস, শ্রী তরুণ কুমার পাল, শ্রী অভিজিৎ অধিকারী, শ্রী বাবুল সরকার এবং শ্রী আলোক কুমার রক্ষিত। বিশিষ্ট অতিথিদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানের গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি পায়। তাঁদের উপস্থিতিতে উপভোক্তাদের হাতে নতুন বস্ত্র তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি ১১ জন ব্রাহ্মণকে সম্মান ও শ্রদ্ধার সঙ্গে প্রণামী প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে সমাজসেবা, মানবিকতা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার বিভিন্ন দিক উঠে আসে।
সামাজিক কাজের স্বীকৃতি, বিপ্লব তালুকদারকে বিশেষ সম্মাননা
এদিনের অনুষ্ঠানের অন্যতম উল্লেখযোগ্য মুহূর্ত ছিল সমাজকর্মী বিপ্লব তালুকদারের হাতে বিশেষ সম্মাননা তুলে দেওয়া। দীর্ঘদিন ধরে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকা এবং সমাজের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর স্বীকৃতিস্বরূপ আস্থা ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে তাঁকে ‘বিশেষ সমাজসেবক সম্মাননা’ প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানের মঞ্চে এই সম্মাননা প্রদান করা হলে উপস্থিত অতিথি ও শুভানুধ্যায়ীদের মধ্যে আনন্দের পরিবেশ তৈরি হয়। সমাজের প্রতি তাঁর দায়বদ্ধতা, মানুষের জন্য কাজ করার মানসিকতা এবং প্রয়াত বাবার স্মৃতিকে কেন্দ্র করে বছরের পর বছর ধরে এই মানবিক উদ্যোগ চালিয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টাকে বিশেষভাবে স্বীকৃতি জানানো হয়।
স্মৃতির সঙ্গে সমাজসেবার মেলবন্ধন
বিপ্লব তালুকদারের এই উদ্যোগ কেবল একদিনের বস্ত্র বিতরণ কর্মসূচি নয়, বরং প্রয়াত পিতার স্মৃতিকে আগামী দিনের সামাজিক দায়িত্বের সঙ্গে যুক্ত রাখার একটি প্রয়াস। প্রতিবছর নিয়ম করে এই কর্মসূচি আয়োজনের মধ্য দিয়ে তিনি যে বার্তা দিতে চাইছেন, তা হল—মানুষের জন্য করা কাজই প্রিয়জনের স্মৃতিকে দীর্ঘদিন বাঁচিয়ে রাখতে পারে।
এদিনের অনুষ্ঠানের সৌজন্যে ছিলেন শিক্ষক ও সমাজকর্মী বিপ্লব তালুকদার (রানা)। ব্যবস্থাপনায় ছিল আস্থা ফাউন্ডেশন ও চেতনা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন।
১৫০ জনের হাতে নতুন বস্ত্র তুলে দেওয়া এবং ১১ জন ব্রাহ্মণকে প্রণামী প্রদানের মধ্য দিয়ে এদিনের কর্মসূচি মানবিকতা, শ্রদ্ধা ও সামাজিক সম্প্রীতির এক সুন্দর নজির হয়ে উঠল। একই সঙ্গে বিপ্লব তালুকদারের হাতে বিশেষ সমাজসেবক সম্মাননা তুলে দেওয়ার ঘটনা তাঁর আগামী দিনের সমাজসেবামূলক কাজকে আরও উৎসাহিত করবে বলেই মনে করছেন অনুষ্ঠানে উপস্থিত শুভানুধ্যায়ীরা।
