পশ্চিমবঙ্গে ৪ নতুন বিমানবন্দর! নবান্নে কেন্দ্র-রাজ্যের ত্রিপাক্ষিক চুক্তি
পশ্চিমবঙ্গে উড়ান প্রকল্পের আওতায় পুরুলিয়া, দক্ষিণ দিনাজপুর, আলিপুরদুয়ার ও পশ্চিম মেদিনীপুরে চারটি নতুন বিমানবন্দর বা সিভিল এনক্লেভ তৈরির উদ্যোগ। নবান্নে কেন্দ্র-রাজ্যের ত্রিপাক্ষিক চুক্তি।
পশ্চিমবঙ্গে এবার চার নতুন বিমানবন্দর! নবান্নে কেন্দ্র-রাজ্যের ত্রিপাক্ষিক চুক্তি

কলকাতা, স্টেট ডেস্ক ২ : পশ্চিমবঙ্গের আকাশপথে যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে বড় পদক্ষেপ নিল কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার। রাজ্যের চারটি গুরুত্বপূর্ণ জেলায় নতুন বিমানবন্দর বা সিভিল এনক্লেভ গড়ে তোলার লক্ষ্যে নবান্নে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে ত্রিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। প্রস্তাবিত এই চারটি বিমান পরিষেবা চালু হলে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের সঙ্গে কলকাতা ও দেশের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ শহরের বিমান যোগাযোগ আরও সহজ হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে।
কেন্দ্রের আঞ্চলিক বিমান যোগাযোগ প্রকল্প উড়ান (UDAN)-এর আওতায় এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে পুরুলিয়া, দক্ষিণ দিনাজপুর, আলিপুরদুয়ার এবং পশ্চিম মেদিনীপুরে বিমানবন্দর বা সিভিল এনক্লেভ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে পর্যটন, শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন গতি আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
কোথায় তৈরি হবে প্রস্তাবিত চার বিমানবন্দর?
প্রস্তাবিত বিমান পরিষেবা পরিকাঠামোর মধ্যে পুরুলিয়ার ছররা, দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাট, আলিপুরদুয়ারের হাসিমারা এবং পশ্চিম মেদিনীপুরের কলাইকুন্ডা গুরুত্বপূর্ণ স্থান হিসেবে উঠে এসেছে।
পুরুলিয়ার ছররা: পুরুলিয়া দীর্ঘদিন ধরেই পর্যটনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। অযোধ্যা পাহাড়, জঙ্গল, পাহাড়ি সৌন্দর্য এবং বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রকে ঘিরে জেলার পর্যটন সম্ভাবনা ক্রমশ বাড়ছে। ছররায় বিমান পরিষেবা চালু হলে পর্যটকদের যাতায়াত আরও সহজ হওয়ার পাশাপাশি শিল্পাঞ্চলেও যোগাযোগের সুবিধা বাড়তে পারে।
দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাট: দক্ষিণ দিনাজপুরের জেলা সদর বালুরঘাটকে কেন্দ্র করে বিমান যোগাযোগ গড়ে উঠলে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যোগ হতে পারে। প্রশাসনিক কাজ, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং জরুরি পরিষেবার ক্ষেত্রেও এর সুফল পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আলিপুরদুয়ারের হাসিমারা: ডুয়ার্স ও উত্তরবঙ্গের পর্যটনের জন্য হাসিমারার গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। জয়ন্তী, বক্সা, জলদাপাড়া-সহ বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে দেশ-বিদেশের পর্যটকদের আনাগোনা রয়েছে। হাসিমারায় বিমান পরিষেবা আরও শক্তিশালী হলে উত্তরবঙ্গের পর্যটন শিল্পে বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
পশ্চিম মেদিনীপুরের কলাইকুন্ডা: জঙ্গলমহল এবং পশ্চিম মেদিনীপুরের শিল্প ও বাণিজ্যিক এলাকার সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ গড়ে তুলতে কলাইকুন্ডাকে কেন্দ্র করে বিমান পরিষেবা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। এর ফলে শিল্পাঞ্চলে বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক যোগাযোগ বৃদ্ধির সম্ভাবনাও রয়েছে।
কে কোন দায়িত্বে?
ত্রিপাক্ষিক চুক্তি অনুযায়ী বিমানবন্দর তৈরির ক্ষেত্রে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের মধ্যে দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। রাজ্য সরকার জমি সংক্রান্ত ব্যবস্থা, বিমানবন্দরের সঙ্গে যোগাযোগকারী রাস্তা, বিদ্যুৎ ও জল সরবরাহ এবং প্রাথমিক পর্যায়ের নিরাপত্তা পরিকাঠামোর মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলির দায়িত্ব নেবে।
অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে বিমানবন্দরের মূল বা বেসিক পরিকাঠামো তৈরিতে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার কথা রয়েছে। বিমান পরিষেবা চালু ও বিমানবন্দর পরিচালনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে এয়ারপোর্ট অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (AAI)।
পর্যটন ও শিল্পে বাড়তে পারে গতি
চারটি নতুন বিমানবন্দর বা সিভিল এনক্লেভ তৈরির পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে শুধু যাত্রী পরিষেবাই নয়, এর সঙ্গে যুক্ত একাধিক ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আসতে পারে। বিশেষ করে পুরুলিয়া ও আলিপুরদুয়ারের মতো পর্যটননির্ভর এলাকায় পর্যটকদের যাতায়াত সহজ হলে হোটেল, পরিবহণ, স্থানীয় ব্যবসা এবং পর্যটন পরিষেবা ক্ষেত্রে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
একইভাবে পশ্চিম মেদিনীপুর ও পুরুলিয়ার শিল্পাঞ্চলের সঙ্গে দ্রুত বিমান যোগাযোগ তৈরি হলে ব্যবসায়ী, শিল্পপতি ও বিনিয়োগকারীদের যাতায়াত আরও সহজ হতে পারে। বালুরঘাটে বিমান পরিষেবা চালু হলে দক্ষিণ দিনাজপুরের সঙ্গে রাজ্যের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ শহরের যোগাযোগও আরও উন্নত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সব মিলিয়ে, উড়ান প্রকল্পের আওতায় পশ্চিমবঙ্গের চার প্রান্তে বিমান যোগাযোগের পরিধি বাড়ানোর এই উদ্যোগ রাজ্যের পরিবহণ ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে। তবে প্রস্তাবিত বিমানবন্দরগুলির পরিকাঠামো নির্মাণ, প্রয়োজনীয় জমি ও অন্যান্য প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার পরই পরিষেবা চালুর বিষয়টি স্পষ্ট হবে। এখন নজর রয়েছে চুক্তির পরবর্তী বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার দিকে।
