ঘুঘুমারিতে টোটো-বাস দ্বন্দ্ব, পারমিটের বৈধতা নিয়ে উত্তেজনা
কোচবিহারের ঘুঘুমারি বাজারে টোটো চলাচল নিয়ে বাস মালিক ও টোটো চালকদের মধ্যে বিরোধ। পারমিটের বৈধতা ও রুট নিয়ে দুই পক্ষের অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ।
ঘুঘুমারিতে টোটো-বাস দ্বন্দ্বে উত্তেজনা, পারমিটের বৈধতা নিয়ে মুখোমুখি দুই পক্ষ
কোচবিহার, লোকাল ডেস্ক ১০ : ঘুঘুমারি বাজারে টোটো চলাচলকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে টানটান উত্তেজনা। টোটোর পারমিটের বৈধতা এবং নির্দিষ্ট রুটে চলাচলের অধিকার নিয়ে মুখোমুখি হয়েছেন বাস মালিক ও টোটো চালকদের একাংশ। দুই পক্ষের অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ ঘিরে এলাকায় শুরু হয়েছে চাপানউতোর। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এখন প্রশাসনের হস্তক্ষেপের দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন স্থানীয়রা।

বাস মালিকদের অভিযোগ, নির্দিষ্ট নিয়ম ও পরিবহণ বিধি না মেনে কিছু টোটো বাসের রুটে চলাচল করছে। এর ফলে একদিকে যেমন বাস পরিষেবায় প্রভাব পড়ছে, অন্যদিকে রুট ব্যবস্থাপনা নিয়েও সমস্যা তৈরি হচ্ছে বলে দাবি তাঁদের। বাস মালিকদের বক্তব্য, কোন গাড়ি কোন রুটে চলাচল করতে পারবে, তা নির্ধারণের ক্ষেত্রে পরিবহণ দফতরের নিয়ম মেনে চলা জরুরি। সেই নিয়ম অমান্য করে টোটো চলাচল করা হলে ভবিষ্যতে আরও সমস্যা তৈরি হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তাঁরা।
অন্যদিকে, টোটো চালকদের পাল্টা দাবি, তাঁদের অনেকের কাছেই বৈধ ব্লক পারমিট রয়েছে। সেই পারমিটের ভিত্তিতেই তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় টোটো চালিয়ে আসছেন। কিন্তু বর্তমানে তাঁদের রাস্তায় গাড়ি চালাতে বাধা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ টোটো চালকদের। তাঁদের প্রশ্ন, বৈধ নথি ও পারমিট থাকার পরেও কেন তাঁদের চলাচলে বাধা দেওয়া হবে?
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই ঘুঘুমারি বাজার ও সংলগ্ন এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ আরও তীব্র হয়েছে। পারমিটের বৈধতা নিয়ে একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠায় পরিস্থিতি জটিল আকার নিয়েছে। ফলে যাত্রী পরিষেবা এবং স্থানীয় যান চলাচল নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।
স্থানীয়দের একাংশের বক্তব্য, বাস এবং টোটো—দুই ধরনের যানই এলাকার মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াতের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। তাই দুই পক্ষের বিরোধের প্রভাব যাতে সাধারণ যাত্রীদের উপর না পড়ে, সেদিকে প্রশাসনকে নজর দিতে হবে। পাশাপাশি কোন গাড়ির পারমিট বৈধ এবং কোন রুটে কোন ধরনের যান চলাচল করতে পারবে, তা প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে দেওয়া প্রয়োজন বলেও দাবি উঠেছে।
ঘুঘুমারির এই টোটো-বাস বিরোধের জেরে শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, এখন সেদিকেই নজর স্থানীয় বাসিন্দা ও যাত্রীদের। প্রশাসনের তরফে দ্রুত বিষয়টি খতিয়ে দেখে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
পারমিটের বৈধতা যাচাই করে দুই পক্ষের মধ্যে সমন্বয় তৈরি এবং যাত্রী পরিষেবা স্বাভাবিক রাখাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
