নন্দীগ্রামে ভোটের আগে আইসি বদল, দায়িত্বে দেবাশিস সরকার | মোতায়েন ৭১ কোম্পানি CAPF
নন্দীগ্রামে ভোটের ২৪ ঘণ্টা আগে বড় রদবদল। আইসি অজয়কুমার মিশ্রকে সরিয়ে দায়িত্বে দেবাশিস সরকার। নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে মোতায়েন ৭১ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী ও ১৫,১১৯ রাজ্য পুলিশ।
নন্দীগ্রামে ভোটের ২৪ ঘণ্টা আগে বড় রদবদল! বদলে গেল থানার আইসি, দায়িত্বে দেবাশিস সরকার

৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে উপনির্বাচন, নিরাপত্তায় ৭১ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী ও ১৫,১১৯ রাজ্য পুলিশ
কলকাতা, স্টেট ডেস্ক ১৭ : রাত পোহালেই পশ্চিমবঙ্গের দুই গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভা কেন্দ্র নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে উপনির্বাচন। মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬ ভোটগ্রহণ। তার ঠিক একদিন আগে নন্দীগ্রাম থানার আইসি পদে বড়সড় রদবদল করল নির্বাচন কমিশন। বর্তমান আইসি অজয়কুমার মিশ্রকে সরিয়ে তাঁর জায়গায় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দেবাশিস সরকারকে। ভোটের মাত্র ২৪ ঘণ্টা আগে এই প্রশাসনিক পরিবর্তনকে ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে নতুন আইসি হিসেবে দায়িত্ব নিচ্ছেন দেবাশিস সরকার। এর আগে তিনি পূর্ব মেদিনীপুরের ট্রাফিক কন্ট্রোল রুমের ইনস্পেক্টর-ইন-চার্জ হিসেবে কর্মরত ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। কমিশনের লক্ষ্য, ভোটের দিন নন্দীগ্রাম বিধানসভা এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করা।
কেন বদল করা হল আইসি?
ভোটের ঠিক আগে নন্দীগ্রাম থানার আইসি বদলের সিদ্ধান্তের পিছনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অভিযোগের বিষয়টি উঠে এসেছে। বিশেষ করে, পূর্বের আইসি অজয়কুমার মিশ্রের বিরুদ্ধে রাজনৈতিকভাবে পক্ষপাতমূলক আচরণ এবং হুমকি-শাসানির অভিযোগ করা হয়েছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। সেই অভিযোগ ও নির্বাচনের নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনা করেই কমিশন এই পরিবর্তনের নির্দেশ দিয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। তবে অভিযোগগুলির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির বক্তব্য এবং কমিশনের পূর্ণাঙ্গ কারণ আলাদাভাবে বিবেচ্য।
ভোটের আগের দিনই এই পরিবর্তন হওয়ায় নন্দীগ্রামের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দিকে বিশেষ নজর রয়েছে। ইতিমধ্যেই এলাকায় নাকা চেকিং, যানবাহনে তল্লাশি-সহ একাধিক নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
দুই কেন্দ্রে ৭১ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী
নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর—দুই বিধানসভা কেন্দ্র মিলিয়ে এবার ৭১ কোম্পানি কেন্দ্রীয় সশস্ত্র বাহিনী (CAPF) মোতায়েন করা হয়েছে। এর মধ্যে নন্দীগ্রামে ৩৭ কোম্পানি এবং রেজিনগরে ৩৪ কোম্পানি বাহিনী থাকবে। নির্বাচন কমিশন দুই কেন্দ্রের ভোটগ্রহণকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে।
এর পাশাপাশি দুই কেন্দ্রে বিপুল সংখ্যক রাজ্য পুলিশ কর্মীও মোতায়েন করা হচ্ছে। কমিশনের প্রস্তুতি অনুযায়ী ১৫,১১৯ জন রাজ্য পুলিশ কর্মী নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবেন বলে জানা গিয়েছে। ফলে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও রাজ্য পুলিশের সমন্বয়ে ভোটের দিন নিরাপত্তার একটি বহুস্তরীয় ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছে।
সংবেদনশীল বুথেও বাড়তি নজর
নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের বেশ কিছু বুথকে সংবেদনশীল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, নন্দীগ্রামে ৩২৩টি এবং রেজিনগরে ৩১৫টি বুথ সংবেদনশীল হিসেবে চিহ্নিত। দুই কেন্দ্রেই মোট বুথের প্রায় এক-চতুর্থাংশকে সংবেদনশীল হিসেবে ধরে নিরাপত্তা পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে।
এছাড়াও দুই কেন্দ্রের ১০০ শতাংশ বুথে ওয়েবকাস্টিংয়ের ব্যবস্থা রাখার কথা জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ফলে ভোটগ্রহণের সময় বুথের পরিস্থিতির ওপর নজরদারি আরও জোরদার থাকবে।
৬ অক্টোবর ভোট, ৯ অক্টোবর ফল
নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রে ৬ অক্টোবর, মঙ্গলবার ভোটগ্রহণ হবে। ভোটগণনা ও ফলাফল ঘোষণা হবে ৯ অক্টোবর। নির্বাচন কমিশন ৭ সেপ্টেম্বর এই দুই কেন্দ্রে উপনির্বাচনের সময়সূচি ঘোষণা করেছিল।
নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর—দুই আসনই রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বিধায়ক পদ শূন্য হওয়ায় এই উপনির্বাচনের আয়োজন করা হয়েছে। ভোটের প্রচার ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে এবং এখন প্রশাসনের মূল লক্ষ্য ভোটারদের নিরাপদে ভোটদানের সুযোগ করে দেওয়া এবং কোনও ধরনের অশান্তি ছাড়াই ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করা।
সব মিলিয়ে ভোটের ঠিক আগের দিন নন্দীগ্রাম থানার আইসি বদল এবং বিপুল কেন্দ্রীয় ও রাজ্য পুলিশ মোতায়েনের ঘটনায় আগামীকালের ভোটে নিরাপত্তা ব্যবস্থা যে নির্বাচন কমিশনের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার, তা স্পষ্ট। এখন নজর থাকবে ৬ অক্টোবরের ভোটগ্রহণ কতটা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয় এবং ৯ অক্টোবরের ফলাফলে দুই কেন্দ্রের ভোটাররা কী রায় দেন।
