ইমরান খানের মুক্তি ও সুচিকিৎসার দাবিতে ইসলামাবাদমুখী পিটিআই
ইমরান খানের মুক্তি ও সুচিকিৎসার দাবিতে খাইবার পাখতুনখাওয়া থেকে ইসলামাবাদমুখী লংমার্চ শুরু করেছে পিটিআই। কড়া নিরাপত্তায় উত্তপ্ত পাকিস্তানের রাজনৈতিক পরিস্থিতি।
ইমরান খানের মুক্তি ও সুচিকিৎসার দাবিতে ইসলামাবাদমুখী পিটিআই

ইসলামাবাদ, ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক ৮: পাকিস্তানের কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তি এবং তার সুচিকিৎসার দাবিতে ফের পথে নামল তাঁর দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ বা পিটিআই। গত ৪ অক্টোবর খাইবার পাখতুনখাওয়া থেকে রাজধানী ইসলামাবাদের উদ্দেশে লংমার্চ শুরু করেছেন দলের হাজার হাজার সমর্থক। এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
পিটিআইয়ের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে কারাবন্দি থাকা ৭৩ বছর বয়সী ইমরান খানের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটছে। বিশেষ করে তাঁর ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পরিবারের সদস্য এবং দলের নেতাদের অভিযোগ, কারা কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণেই তাঁর চোখের সমস্যা আরও জটিল হয়েছে। তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে স্থানান্তর করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসার ব্যবস্থা করার দাবিও জানানো হয়েছে।
মুক্তি, চিকিৎসা ও সাক্ষাতের অধিকার—একাধিক দাবিতে আন্দোলন
পিটিআইয়ের লংমার্চের মূল দাবিগুলির মধ্যে রয়েছে ইমরান খানের অবিলম্বে মুক্তি, উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে হাসপাতালে স্থানান্তর এবং পরিবারের সদস্য ও দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়া।
দলের বক্তব্য, ইমরান খানের শারীরিক পরিস্থিতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে। তাঁর চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিষয়ে স্বচ্ছতা বজায় রাখার পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের অধিকার নিশ্চিত করার দাবিও জানানো হয়েছে।
সরকারের সঙ্গে আলোচনা ব্যর্থ, তারপরই লংমার্চ
ইমরান খানের মুক্তি ও অন্যান্য দাবি নিয়ে পাকিস্তান সরকারের সঙ্গে পিটিআই নেতাদের আলোচনা হলেও তা কোনও সমাধানে পৌঁছয়নি। এরপরই দলটি আন্দোলন আরও জোরদার করার সিদ্ধান্ত নেয়।
গত ৪ অক্টোবর খাইবার পাখতুনখাওয়ার লাক্কি মারওয়াত শহর থেকে ইসলামাবাদের উদ্দেশে লংমার্চ শুরু হয়। দলীয় কর্মী-সমর্থকদের পাশাপাশি পিটিআইয়ের নেতৃত্বস্থানীয় নেতারাও এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য রাজধানী ইসলামাবাদে পৌঁছে সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপ তৈরি করা।
মুখ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে ইসলামাবাদ অভিমুখে যাত্রা
এই লংমার্চের নেতৃত্ব দিচ্ছেন খাইবার পাখতুনখাওয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি। পিটিআইয়ের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত খাইবার পাখতুনখাওয়া থেকেই বিপুল সংখ্যক সমর্থক এই কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছেন।
পিটিআই নেতৃত্বের দাবি, ইমরান খানের স্বাস্থ্য পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে। তাই সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হলে আন্দোলন আরও বৃহত্তর আকার নিতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
ইসলামাবাদে কড়া নিরাপত্তা, প্রবেশপথে ব্যারিকেড
লংমার্চকে কেন্দ্র করে ইসলামাবাদে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন প্রবেশপথে কন্টেইনার বসিয়ে ব্যারিকেড তৈরি করা হয়েছে। আন্দোলনকারীদের রাজধানীতে প্রবেশ ঠেকাতে নিরাপত্তা বাহিনীকে সতর্ক রাখা হয়েছে।
রাজধানীতে রাজনৈতিক উত্তেজনা যাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে প্রভাব না ফেলে, সে বিষয়েও প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে। পিটিআই সমর্থকদের মিছিল ইসলামাবাদের দিকে যত এগোচ্ছে, ততই নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কড়া করা হচ্ছে।
লংমার্চকে ‘অবৈধ’ বলে সরকারের হুঁশিয়ারি
পাকিস্তান সরকার অবশ্য পিটিআইয়ের এই কর্মসূচিকে ভালোভাবে নেয়নি। দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি লংমার্চকে অবৈধ এবং অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। একই সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রয়োজন হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সরকারও পিটিআইকে এই কর্মসূচি স্থগিত করার আহ্বান জানিয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে উত্তর-পশ্চিম পাকিস্তানে জঙ্গি হামলার আশঙ্কার কথা তুলে ধরে বলা হয়েছে, এই ধরনের বড় জমায়েত নিরাপত্তার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
রাজনৈতিক সংঘাত আরও বাড়ার আশঙ্কা
ইমরান খান দীর্ঘদিন ধরে কারাবন্দি থাকায় তাঁর মুক্তির দাবিতে পিটিআইয়ের আন্দোলন পাকিস্তানের রাজনীতিতে অন্যতম বড় ইস্যু হয়ে রয়েছে। এবার তাঁর শারীরিক অবস্থাকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাস্তায় নেমেছে দলটি।
একদিকে ইমরান খানের মুক্তি ও সুচিকিৎসার দাবিতে পিটিআই সমর্থকদের আন্দোলন, অন্যদিকে নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে সরকারের কড়া অবস্থান—এই দুইয়ের সংঘাতে পাকিস্তানের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ইসলামাবাদে লংমার্চ পৌঁছনোর পর পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘাত এড়ানো এবং ইমরান খানের চিকিৎসা সংক্রান্ত দাবির বিষয়ে সরকার কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেটিও আগামী দিনে পাকিস্তানের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
