মহালয়ায় ইডেনে মোদী-শাহ নেই, কাটছাঁট হলেও ৩ হাজার ড্রোনে জমকালো দুর্গাপুজো
মহালয়ার ১০ অক্টোবর ইডেন গার্ডেন্সে দুর্গাপুজোর মেগা উদ্বোধনে থাকছেন না প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও অমিত শাহ। কাটছাঁট হলেও ৩ হাজার ড্রোন, ঢাক, উলুধ্বনি ও লোকসংস্কৃতিতে হবে জমকালো আয়োজন।
মহালয়ায় ইডেনে মোদী-শাহ থাকছেন না, কাটছাঁট হলেও হবে জমকালো দুর্গাপুজোর উদ্বোধন

কলকাতা, স্টেট ডেস্ক ৫ : মহালয়ার দিন কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে রাজ্য সরকারের উদ্যোগে আয়োজিত দুর্গাপুজোর মেগা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে থাকছেন না প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, দু’জনেরই ব্যস্ত কর্মসূচির কারণে ১০ অক্টোবরের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকা সম্ভব হচ্ছে না। তবে দুই শীর্ষ কেন্দ্রীয় নেতার অনুপস্থিতির কারণে অনুষ্ঠান বাতিল করা হচ্ছে না। বরং কিছুটা কাটছাঁট করে মহালয়ার মূল সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় আবহ বজায় রেখেই অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে।
আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং অমিত শাহকে সামনে রেখে ইডেনে অত্যন্ত বড় আকারের অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তাঁদের সফর ঘিরে একাধিক প্রস্তুতিও শুরু হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দু’জনই অনুষ্ঠানে থাকতে পারছেন না বলে রাজ্যকে জানানো হয়েছে। ফলে অতিথি তালিকা এবং অনুষ্ঠানসূচিতে কিছু পরিবর্তন আনা হচ্ছে।
১০ অক্টোবর মহালয়ার দিন ইডেনে মূল অনুষ্ঠান
আগামী ১০ অক্টোবর, মহালয়ার দিন ইডেন গার্ডেন্সে হবে এই বিশেষ অনুষ্ঠান। প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী না থাকলেও অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন রাজ্যপাল আর এন রবি, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং রাজ্য মন্ত্রিসভার সদস্যরা। মুখ্যমন্ত্রীর দফতরের তরফে মন্ত্রীদের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
৩ হাজার ড্রোনে আকাশে ফুটে উঠবে দেবীর আগমন
মহালয়ার এই অনুষ্ঠানের অন্যতম বড় আকর্ষণ হতে চলেছে ৩ হাজার ড্রোনের বিশেষ শো। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, ড্রোনের মাধ্যমে আকাশে মা দুর্গার আগমনের দৃশ্য তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে মহালয়ার সন্ধ্যায় ইডেনের আকাশে এক অভিনব দৃশ্যের সাক্ষী হতে পারেন দর্শকরা।
ড্রোন শোর পাশাপাশি থাকবে আলো ও শব্দের বিশেষ আয়োজন। বাংলার সংস্কৃতি ও দুর্গাপুজোর ঐতিহ্যকে সামনে রেখে নাচ, গান, লোকসংস্কৃতি এবং অন্যান্য সাংস্কৃতিক পরিবেশনারও পরিকল্পনা রয়েছে।
ঢাকের বাদ্যি থেকে উলুধ্বনি—বাংলার সংস্কৃতির মহামিলন
অনুষ্ঠানে বাংলার চিরাচরিত দুর্গাপুজোর আবহ তৈরি করতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে ঢাক, শাঁখ ও উলুধ্বনিকে। পরিকল্পনা অনুযায়ী বিপুল সংখ্যক ঢাকির উপস্থিতিতে তৈরি হবে বিশেষ বাদ্যযন্ত্রের পরিবেশনা। এর সঙ্গে প্রায় ১ হাজার মহিলার উলুধ্বনি এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠানে আলাদা মাত্রা যোগ করবে।
এর আগে প্রকাশিত অনুষ্ঠান পরিকল্পনায় হাজার হাজার শিল্পী, ঢাকি এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনার কথা জানানো হয়েছিল। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের লোকশিল্পীদেরও অনুষ্ঠানে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
বাংলার লোকসংস্কৃতিও থাকবে অনুষ্ঠানের কেন্দ্রে
শুধু গান-বাজনা বা আধুনিক প্রযুক্তির প্রদর্শন নয়, মহালয়ার অনুষ্ঠানকে বাংলার নিজস্ব সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত রাখার পরিকল্পনা করেছে রাজ্য সরকার। দার্জিলিং থেকে পুরুলিয়া—রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের লোকসংস্কৃতি, লোকনৃত্য এবং লোকগানের শিল্পীদের অনুষ্ঠানে তুলে ধরার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
বিশেষ করে ছৌ নৃত্যসহ বিভিন্ন লোকনৃত্য ও লোকসংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে বাংলার সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে তুলে ধরা হবে। অর্থাৎ ইডেনের মঞ্চে একদিকে থাকবে আধুনিক প্রযুক্তির ড্রোন শো, অন্যদিকে থাকবে বাংলার মাটির সংস্কৃতি।
মোদী-শাহ না থাকলেও শাহের কলকাতা সফরের সম্ভাবনা
ইডেন গার্ডেন্সের মূল অনুষ্ঠানে অমিত শাহ উপস্থিত না থাকলেও দুর্গাপুজোর সময়ে তাঁর কলকাতা সফরের সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না। সূত্রের খবর, তিনি কলকাতায় এসে একাধিক দুর্গাপুজোর উদ্বোধনে অংশ নিতে পারেন। তবে ইডেনের মহালয়া অনুষ্ঠানে তাঁর উপস্থিতি নিশ্চিত নয়।
শহরজুড়ে প্রস্তুতি, নজরে নিরাপত্তা ও যান নিয়ন্ত্রণ
মহালয়ার অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে কলকাতা জুড়েও শুরু হয়েছে প্রস্তুতি। ইডেন গার্ডেন্স এবং ময়দান সংলগ্ন এলাকায় সাজসজ্জার পাশাপাশি নিরাপত্তা ও যান নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। মহালয়ার অনুষ্ঠানকে ঘিরে রেড রোড এবং আশপাশের এলাকায় যান চলাচলে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হতে পারে বলে আগেই জানানো হয়েছিল।
ফলে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে অনুষ্ঠানের রাজনৈতিক আকর্ষণ কিছুটা কমলেও, সাংস্কৃতিক এবং ধর্মীয় দিক থেকে মহালয়ার এই আয়োজনকে জমকালো করে তুলতে রাজ্য সরকার প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছে। ৩ হাজার ড্রোন, ঢাকের বাদ্যি, উলুধ্বনি, লোকসংস্কৃতি এবং আলো-শব্দের প্রদর্শনীর মাধ্যমে ১০ অক্টোবর ইডেন গার্ডেন্সে দুর্গাপুজোর আবহ তৈরির লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
