কোচবিহারে ‘সেবা জ্যোতি যাত্রা’র সমাপ্তি, মঞ্চে শমীক-নিশীথ
কোচবিহারে ‘সেবা জ্যোতি যাত্রা’র সমাপ্তি অনুষ্ঠানে মঞ্চে শমীক ভট্টাচার্য ও নিশীথ প্রামাণিক। রাসমেলা মাঠে প্রধানমন্ত্রীর ভার্চুয়াল বক্তব্য ঘিরে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের জমায়েত।
কোচবিহারে ‘সেবা জ্যোতি যাত্রা’র সমাপ্তি, মঞ্চে শমীক-নিশীথ

কোচবিহার, লোকাল ডেস্ক ৯ : প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রশাসনিক জীবনের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে বিজেপির দেশজুড়ে চলা কর্মসূচির অংশ হিসেবে কোচবিহারেও আয়োজিত হল ‘সেবা জ্যোতি যাত্রা’র বিশেষ অনুষ্ঠান। বুধবার রাসমেলা মাঠের সার্কাস ময়দানে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক-সহ দলের জেলা নেতৃত্ব এবং বিপুল সংখ্যক কর্মী-সমর্থক। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রশাসনিক জীবনের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে ৭ অক্টোবর দেশজুড়ে এই কর্মসূচির ডাক দিয়েছিল বিজেপি।
সমাপ্তি অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল প্রধানমন্ত্রীর ভার্চুয়াল বক্তব্য। বড় পর্দার মাধ্যমে কর্মসূচিতে উপস্থিত বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের সামনে নরেন্দ্র মোদীর বক্তব্য সম্প্রচার করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য শুরু হতেই অনুষ্ঠানস্থলে দলীয় কর্মীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস ও উদ্দীপনা দেখা যায়।
বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জন্মদিন ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে ‘সেবা সংকল্প অভিযান’-এর মাধ্যমে একাধিক কর্মসূচি শুরু করা হয়েছিল। সেই ধারাবাহিক কর্মসূচির পর্ব হিসেবেই ৭ অক্টোবর ‘সেবা জ্যোতি যাত্রা’র আয়োজন করা হয়। রাজ্যের ২৩টি প্রশাসনিক জেলা সদরেও একই দিনে কর্মসূচি পালনের কথা আগেই জানিয়েছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।
‘সেবা ও সমর্পণ’-এর বার্তা সামনে রেখে কর্মসূচি
দলীয় নেতৃত্বের বক্তব্য অনুযায়ী, ‘সেবা ও সমর্পণ’-এর বার্তাকে সামনে রেখে কোচবিহার জেলার বিভিন্ন এলাকায় গত কয়েকদিন ধরে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি, জনসম্পর্ক আরও মজবুত করা এবং দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও সক্রিয় করার বিষয়েও জোর দেওয়া হয়।
বুধবারের সমাপ্তি অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে রাসমেলা মাঠে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। মঞ্চ থেকে বিজেপির রাজ্য ও জেলা নেতৃত্ব প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দীর্ঘ প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক পথচলার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। পাশাপাশি আগামী দিনে সাধারণ মানুষের কাছে আরও বেশি করে পৌঁছে যাওয়ার বার্তাও দেওয়া হয়।
এর আগে রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য ‘সেবা জ্যোতি যাত্রা’র কর্মসূচি ঘোষণা করে জানিয়েছিলেন, দেশজুড়ে বিভিন্ন জেলা সদরে বড় পর্দায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীনের বক্তব্য সম্প্রচার করা হবে। বক্তব্যের পর মশাল হাতে ‘সেবা জ্যোতি যাত্রা’র আয়োজনের কথাও জানানো হয়েছিল।
সাংগঠনিক বৈঠকেও শমীক ভট্টাচার্য
এদিনের কর্মসূচির পাশাপাশি কোচবিহার জেলা বিজেপি কার্যালয়েও সাংগঠনিক বৈঠকে যোগ দেন রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। বৈঠকে জেলার সাংগঠনিক পরিস্থিতি, দলের কর্মসূচি এবং আগামী দিনের সাংগঠনিক পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয় বলে দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে।
সাংগঠনিক বৈঠকে যোগ দেওয়ার আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন শমীক ভট্টাচার্য। সেখানে তিনি রাজ্য ও জেলার বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং দলের সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে বক্তব্য রাখেন। তাঁর বক্তব্য ঘিরেও রাজনৈতিক মহলে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে, ‘সেবা জ্যোতি যাত্রা’কে কেন্দ্র করে কোচবিহারে বিজেপির এই বড় জমায়েত উত্তরবঙ্গে দলের সাংগঠনিক তৎপরতার একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি হিসেবে সামনে এসেছে। প্রধানমন্ত্রীর প্রশাসনিক জীবনের ২৫ বছর পূর্তিকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে যে ধারাবাহিক কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে, কোচবিহারের এই অনুষ্ঠানও তারই অংশ।
মোদীর ২৫ বছরের প্রশাসনিক যাত্রা ঘিরে বিজেপির কর্মসূচি
বিজেপির ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, ২০০১ সালের ৭ অক্টোবর নরেন্দ্র মোদী গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রশাসনিক দায়িত্বে আসেন। পরবর্তীতে ২০১৪ সালে তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী—দুই পদ মিলিয়ে প্রশাসনের শীর্ষ দায়িত্বে তাঁর ২৫ বছর পূর্তিকে সামনে রেখেই বিজেপি ‘সেবা সংকল্প অভিযান’ ও ‘সেবা জ্যোতি যাত্রা’র মতো কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
কোচবিহারে বুধবারের অনুষ্ঠান সেই ধারাবাহিকতারই একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্ব। মঞ্চে শমীক ভট্টাচার্য ও নিশীথ প্রামাণিকের উপস্থিতি, প্রধানমন্ত্রীর ভার্চুয়াল বক্তব্য এবং দলীয় কর্মী-সমর্থকদের অংশগ্রহণে দিনভর রাজনৈতিকভাবে সরগরম ছিল রাসমেলা মাঠ চত্বর।
