দিল্লি ক্যাপিটালসের হেড কোচ সৌরভ, CAB সভাপতি পদ ঘিরে স্বার্থের সংঘাত বিতর্ক
দিল্লি ক্যাপিটালসের ২০২৭ আইপিএল মরশুমের হেড কোচ সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। CAB সভাপতি পদে থেকেও ফ্র্যাঞ্চাইজির কোচ হওয়ায় উঠেছে ‘স্বার্থের সংঘাত’ প্রশ্ন।
দিল্লি ক্যাপিটালসের হেড কোচ সৌরভ, CAB সভাপতির পদ ঘিরে ‘স্বার্থের সংঘাত’ বিতর্ক

কলকাতা, স্পোর্টস ডেস্ক ৮ : ২০২৭ আইপিএল মরশুমকে সামনে রেখে দিল্লি ক্যাপিটালসের প্রধান কোচ হিসেবে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের নিয়োগ ঘিরে নতুন করে সরগরম হয়ে উঠেছে ভারতীয় ক্রিকেট মহল। ক্রিকেটার ও ভারতীয় ক্রিকেট দলের প্রাক্তন অধিনায়ক হিসেবে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতার পাশাপাশি প্রশাসনিক ক্ষেত্রেও পরিচিত মুখ সৌরভ। বর্তমানে তিনি ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গল (CAB)-এর সভাপতি পদে রয়েছেন। ফলে একই সময়ে আইপিএলের একটি ফ্র্যাঞ্চাইজির প্রধান কোচের দায়িত্ব নেওয়া নিয়ে উঠেছে ‘স্বার্থের সংঘাত’ বা Conflict of Interest-এর প্রশ্ন।
দিল্লি ক্যাপিটালসের পক্ষ থেকে সৌরভকে ২০২৭ মরশুমের জন্য প্রধান কোচ করার ঘোষণা সামনে আসার পরই এই বিতর্ক তীব্র হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, রাজ্য ক্রিকেট সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে থাকা অবস্থায় তিনি কীভাবে একটি আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে যুক্ত হতে পারেন। বিষয়টি নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট এবং বিসিসিআই-এর লোকপালের কাছেও লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে বলে জানা গিয়েছে।
একসঙ্গে দুই পদ, কোথায় সমস্যা?
ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের প্রশাসনিক কাঠামোয় ‘এক ব্যক্তি, এক পদ’ নীতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা রয়েছে। এই নীতির মূল উদ্দেশ্য হল একজন ব্যক্তি যাতে একই সময়ে এমন একাধিক পদে না থাকেন, যেখানে তাঁর সিদ্ধান্ত বা দায়িত্বের মধ্যে পারস্পরিক স্বার্থের সংঘাত তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
সৌরভ বর্তমানে CAB-এর সভাপতি। অন্যদিকে দিল্লি ক্যাপিটালস একটি আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি এবং তার প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার অর্থ সরাসরি আইপিএল দলের ক্রিকেটীয় কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হওয়া। ফলে তাঁর দুই ভূমিকাকে ঘিরেই প্রশ্ন উঠেছে।
অভিযোগকারীদের বক্তব্য, রাজ্য ক্রিকেট সংস্থার সভাপতি এবং আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজির প্রধান কোচ—এই দুটি দায়িত্ব একই সঙ্গে পালন করলে ভবিষ্যতে কোনও সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে স্বার্থের সংঘাত তৈরি হতে পারে। যদিও সৌরভ নিজে এই অভিযোগ মানতে নারাজ।
কী বলছেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়?
উঠে আসা অভিযোগের জবাবে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় স্পষ্ট করেছেন যে, তাঁর ক্ষেত্রে স্বার্থের সংঘাতের কোনও বিষয় নেই। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, CAB-এর সভাপতি হিসেবে তাঁর প্রশাসনিক দায়িত্ব এবং দিল্লি ক্যাপিটালসের কোচ হিসেবে তাঁর ক্রিকেটীয় দায়িত্ব আলাদা।
সৌরভ আরও জানিয়েছেন, এই বিষয়ে তাঁর কাছে বিসিসিআই লোকপালের পক্ষ থেকে এমন কোনও স্পষ্ট নির্দেশ নেই, যার ভিত্তিতে তাঁকে দুটি দায়িত্বের মধ্যে একটি ছেড়ে দিতে হবে। ফলে আপাতত CAB সভাপতির পদ ছাড়ার কোনও পরিকল্পনা তাঁর নেই এবং দিল্লি ক্যাপিটালসের প্রধান কোচ হিসেবেও তিনি কাজ চালিয়ে যাবেন।
২০১৯ সালেও উঠেছিল একই প্রশ্ন
সৌরভকে ঘিরে এই ধরনের বিতর্ক অবশ্য নতুন নয়। ২০১৯ সালেও তিনি CAB-এর সঙ্গে যুক্ত থাকার পাশাপাশি দিল্লি ফ্র্যাঞ্চাইজির পরামর্শদাতা হিসেবে কাজ করার সময় একই ধরনের ‘Conflict of Interest’ প্রশ্ন সামনে এসেছিল।
সেই সময় বিসিসিআই-এর তৎকালীন লোকপাল ডিকে জৈনের পর্যবেক্ষণও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। তাঁর ব্যাখ্যায়, রাজ্য ক্রিকেট সংস্থার সভাপতি, কোনও
স্পোর্টস কোম্পানির পরিচালক এবং আইপিএল বা দক্ষিণ আফ্রিকার টি-টোয়েন্টি লিগের কোচ—এই পদগুলি স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরস্পরের সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয়, যদি তাদের মধ্যে সরাসরি ও কার্যকর কোনও স্বার্থের যোগসূত্র না থাকে।
এই পুরনো অবস্থানকেই সামনে রেখে বর্তমান বিতর্কেও নিজের অবস্থানকে বৈধ বলে মনে করছেন সৌরভ।
দিল্লি ক্যাপিটালসে নতুন ইনিংস
২০২৭ আইপিএল মরশুমে দিল্লি ক্যাপিটালসকে নতুনভাবে সাজানোর পরিকল্পনার মধ্যেই সৌরভের হাতে দলের কোচিংয়ের দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়েছে। তাঁর দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অভিজ্ঞতা এবং ভারতীয় ক্রিকেট প্রশাসনে কাজ করার অভিজ্ঞতা দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।
এদিকে দিল্লি ফ্র্যাঞ্চাইজিকে ঘিরে একাধিক সম্ভাব্য পরিবর্তনের খবরও ক্রিকেট মহলে আলোচনায় রয়েছে। ঋষভ পন্থের প্রত্যাবর্তন নিয়ে চর্চার পাশাপাশি যুবরাজ সিং এবং অমিত মিশ্রের মতো প্রাক্তন তারকাদের সম্ভাব্য কোচিং প্যানেলে যুক্ত হওয়ার বিষয়েও জল্পনা চলছে।
এখন নজর বিসিসিআই লোকপালের দিকে
সৌরভ তাঁর অবস্থান স্পষ্ট করলেও অভিযোগ জমা পড়ায় বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে নজর রয়েছে ক্রিকেট মহলের। শেষ পর্যন্ত বিসিসিআই-এর লোকপাল বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই দ্বৈত দায়িত্বকে কীভাবে ব্যাখ্যা করেন, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ।
অর্থাৎ, আপাতত CAB সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ই দিল্লি ক্যাপিটালসের প্রধান কোচ হিসেবে ২০২৭ আইপিএলে নতুন দায়িত্ব নিতে চলেছেন। তবে একই সঙ্গে দুটি গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটীয় ভূমিকায় তাঁর থাকা নিয়ে যে বিতর্ক শুরু হয়েছে, তা আগামী দিনে আরও বিস্তৃত আইনি ও প্রশাসনিক আলোচনার দিকে গড়ায় কি না, সেদিকেই নজর থাকবে ক্রিকেট প্রেমীদের।
