প্রেমানন্দ মহারাজের আশ্রমে যেতে ৫ কোটি টাকা? বিস্ফোরক দাবি, খারিজ কোহলির টিমের
বিরাট কোহলি ও অনুষ্কা শর্মার প্রেমানন্দ মহারাজের আশ্রমে যাওয়াকে ঘিরে ৫ কোটি টাকার বিস্ফোরক দাবি। অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে খারিজ করেছে কোহলির টিম।
প্রেমানন্দ মহারাজের আশ্রমে যেতে ৫ কোটি টাকা! বিরাট কোহলিকে ঘিরে বিস্ফোরক দাবি

নিজস্ব সংবাদদাতা, সিটি নিউজ বাংলা, ন্যাশনাল ডেস্ক ১১ : বৃন্দাবনের প্রেমানন্দ মহারাজের আশ্রমে তারকা ক্রিকেটার বিরাট কোহলির যাতায়াতকে কেন্দ্র করে নতুন করে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। আশ্রমে যাওয়ার জন্য বিরাট কোহলি ও তাঁর স্ত্রী অনুষ্কা শর্মাকে ৫ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছিল বা এই বিপুল অঙ্কের অর্থ খরচ করা হয়েছিল—এমনই একটি দাবি ঘিরে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। তবে এই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে বিরাট কোহলির টিম।
জানা গিয়েছে, শ্রীকৃষ্ণ জন্মভূমি সংগ্রাম ন্যাসের সভাপতি দিনেশ শর্মা ওরফে ফালাহারি মহারাজ উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথকে লেখা একটি চিঠিতে এই অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, ২০২৩ সালে বিরাট কোহলি ও অনুষ্কা শর্মার প্রথমবার বৃন্দাবনের প্রেমানন্দ মহারাজের আশ্রমে যাওয়ার বিষয়টি ঘিরে একটি রাজস্থানভিত্তিক বেসরকারি সংস্থা এবং সম্পত্তি নির্মাণকারী একটি গোষ্ঠীর তরফে বিপুল অর্থ ব্যয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
অভিযোগে আরও দাবি করা হয়, আশ্রমের প্রচার এবং জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যেই এই ধরনের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। সেই সূত্রেই ৫ কোটি টাকার অঙ্কটি সামনে আসে। যদিও এই দাবির পক্ষে কোনও অর্থনৈতিক লেনদেনের প্রমাণ প্রকাশ্যে এসেছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
এই বিতর্কের মধ্যেই বিরাট কোহলির মুখপাত্রের তরফে দেওয়া বিবৃতি নিয়ে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়েছে। টিম কোহলি অভিযোগটি সরাসরি খারিজ করে জানিয়েছে, বিরাট কোহলি কোনও অর্থের বিনিময়ে প্রেমানন্দ মহারাজের আশ্রমে যাননি। তাঁর আশ্রমে যাওয়ার সঙ্গে কোনও বাণিজ্যিক চুক্তি বা আর্থিক লেনদেনের সম্পর্ক নেই বলেও জানানো হয়েছে।
টিমের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রেমানন্দ মহারাজের প্রতি বিরাট কোহলি ও তাঁর পরিবারের গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে। সেই আধ্যাত্মিক টান এবং আত্মিক শান্তির উদ্দেশ্যেই তাঁরা আশ্রমে গিয়েছিলেন। সেখানে যাওয়ার পিছনে কোনও প্রচারমূলক বা ব্যবসায়িক উদ্দেশ্য ছিল না বলেও স্পষ্ট করা হয়েছে।
টিম কোহলির পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, কোনও অভিযোগ বা দাবি সামনে এলেই সেটিকে যাচাই না করে প্রচার করা উচিত নয়। সংবাদমাধ্যম থেকে শুরু করে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদেরও তথ্যের সত্যতা যাচাই করে তবেই তা প্রকাশ বা শেয়ার করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, প্রেমানন্দ মহারাজের আশ্রমকে ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক বিষয় নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। আশ্রমের এক শিষ্যের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বিতর্কের আবহের মধ্যেই বিরাট কোহলি-অনুষ্কা শর্মার আশ্রমে যাওয়া এবং তার সঙ্গে ৫ কোটি টাকার আর্থিক দাবির প্রসঙ্গ সামনে আসে।
ফলে বিষয়টি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে নানা আলোচনা শুরু হলেও, বিরাট কোহলির টিমের বক্তব্যে পরিষ্কার করা হয়েছে—৫ কোটি টাকা নেওয়া বা কোনও আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে আশ্রমে যাওয়ার যে অভিযোগ উঠেছে, সেটি তারা সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করছে।
এখন প্রশ্ন উঠছে, অভিযোগের পক্ষে কোনও নির্দিষ্ট নথি বা আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ সামনে আসে কি না। অন্যদিকে, টিম কোহলির স্পষ্ট অস্বীকারের পর এই বিতর্ক কোন দিকে এগোয়, সেদিকেই নজর রয়েছে ক্রিকেটমহল থেকে সাধারণ মানুষের।
