৯৪তম বায়ুসেনা দিবসে হিন্দনে শক্তি প্রদর্শন, আকাশে নজরকাড়া মহড়া
৯৪তম বায়ুসেনা দিবসে গাজিয়াবাদের হিন্দন ঘাঁটিতে শক্তি প্রদর্শন। রাফাল, সুখোই-৩০ এমকেআই, জাগুয়ার, প্রচণ্ড ও ধ্রুব-সহ নজরকাড়া সামরিক মহড়া।
৯৪তম বায়ুসেনা দিবসে হিন্দন ঘাঁটিতে শক্তির প্রদর্শন, আকাশে নজরকাড়া মহড়া

গাজিয়াবাদ, ন্যাশনাল ডেস্ক ৯ : দেশের আকাশসীমার নিরাপত্তায় ভারতীয় বায়ুসেনার ভূমিকা ও সামরিক সক্ষমতাকে সামনে রেখে বৃহস্পতিবার গাজিয়াবাদের হিন্দন বিমান ঘাঁটিতে শুরু হয়েছে ৯৪তম ভারতীয় বায়ুসেনা দিবসের জমকালো অনুষ্ঠান। আনুষ্ঠানিক কুচকাওয়াজ, যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টারের প্রদর্শনী এবং বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জামের মাধ্যমে বিশেষ মর্যাদায় পালিত হচ্ছে এবারের বায়ুসেনা দিবস।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই ছিল আনুষ্ঠানিক প্যারেড। বায়ুসেনার প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল এ পি সিং ১৯৬০-এর দশকের একটি ভিন্টেজ গাড়িতে করে প্যারেডস্থলে পৌঁছন। তাঁর প্রবেশের সময় আকাশে তিনটি হেলিকপ্টারের ‘ধ্বজ’ ফরমেশন দর্শকদের বিশেষভাবে আকর্ষণ করে। কুচকাওয়াজে বায়ুসেনার বিভিন্ন শাখার সদস্যরা অংশ নেন।
এবারের বায়ুসেনা দিবসের মূল প্রতিপাদ্য— “ভারতীয় বিমান বাহিনী – নির্ভুল, অবিচল ও নিখুঁত” (Indian Air Force – Infallible, Impervious and Precise)। এই থিমের মাধ্যমে ভারতীয় বায়ুসেনার পেশাদারিত্ব, নির্ভুলতা, দৃঢ়তা এবং আধুনিক যুদ্ধক্ষমতার দিকটি তুলে ধরা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ হিন্দন বিমান ঘাঁটির টারম্যাকে সাজানো সামরিক সরঞ্জামের স্ট্যাটিক ডিসপ্লে। সেখানে রাখা হয়েছে ভারতীয় বায়ুসেনার গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার। প্রদর্শনীতে রয়েছে রাফাল, সুখোই-৩০ এমকেআই (Su-30 MKI) এবং জাগুয়ার যুদ্ধবিমান। পাশাপাশি দেশীয় সামরিক সক্ষমতার গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে প্রদর্শিত হচ্ছে এলসিএইচ ‘প্রচণ্ড’ এবং এএলএইচ ‘ধ্রুব’ হেলিকপ্টার।
যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টারের এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে ভারতীয় বায়ুসেনার আধুনিক প্রযুক্তি এবং বিভিন্ন ধরনের সামরিক অভিযানে ব্যবহৃত প্ল্যাটফর্মগুলিকে সামনে আনা হয়েছে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত সামরিক আধিকারিক এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা এই প্রদর্শনী ঘুরে দেখছেন।
৯৪তম বায়ুসেনা দিবসের অনুষ্ঠানে তিন বাহিনীর প্রধান-সহ দেশের শীর্ষ সামরিক আধিকারিক এবং বিশিষ্ট বেসামরিক কর্মকর্তারাও উপস্থিত রয়েছেন। তাঁদের উপস্থিতিতে হিন্দন বিমান ঘাঁটিতে এদিনের অনুষ্ঠান আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বায়ুসেনা দিবস উপলক্ষে প্রতি বছরই ভারতীয় বায়ুসেনার ইতিহাস, বীরত্ব, দক্ষতা এবং দেশের আকাশসীমা রক্ষায় বাহিনীর অবদানের কথা স্মরণ করা হয়। একইসঙ্গে আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে প্রযুক্তি ও দ্রুত প্রতিক্রিয়াশীলতার গুরুত্বও তুলে ধরা হয়। হিন্দন বিমান ঘাঁটিতে এবারের আয়োজনেও সেই বার্তাই বিশেষভাবে ফুটে উঠছে।
রাফাল থেকে সুখোই, জাগুয়ার থেকে দেশীয় ‘প্রচণ্ড’—বিভিন্ন সামরিক প্ল্যাটফর্মের উপস্থিতি এবং আনুষ্ঠানিক কুচকাওয়াজের মধ্য দিয়ে এদিন ভারতীয় বায়ুসেনার ঐতিহ্য ও আধুনিক সক্ষমতার এক সমন্বিত চিত্র সামনে এসেছে।
