রিয়াদ বিমানবন্দরে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, নিহত ১২, আহত ৩০৯
সৌদি আরবের রিয়াদে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি। নিহত ১২, আহত ৩০৯, বন্ধ বিমানবন্দরের পরিষেবা। তথ্যের স্বাধীন যাচাই বাকি।
রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা!

নিহত অন্তত ১২, আহত ৩০৯, বন্ধ বিমানবন্দরের পরিষেবা
সিটি নিউজ বাংলা, আন্তর্জাতিক ডেস্ক ৩ : সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনায় ব্যাপক হতাহতের খবর সামনে এসেছে। এই হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত এবং ৩০৯ জন আহত হয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানানো হয়েছে। হামলার জেরে বিমানবন্দরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে বিমানবন্দরের কার্যক্রম। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রিয়াদ-সহ সৌদি আরবের বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
বিমানবন্দরের দুই টার্মিনালে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল ৩ ও ৪ এই হামলায় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিমানবন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোয় হামলার ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ ছড়িয়েছে। বিমান ওঠানামা, যাত্রী পরিষেবা এবং বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।
হামলার পর নিরাপত্তাজনিত কারণে বিমানবন্দরের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এর ফলে যাত্রীদের যাতায়াত এবং আন্তর্জাতিক বিমান পরিষেবার উপর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে কতক্ষণ বিমানবন্দরের পরিষেবা বন্ধ থাকবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
নিহতদের মধ্যে একাধিক দেশের নাগরিক
এই ঘটনায় অন্তত ১২ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে এবং আহত হয়েছেন ৩০৯ জন। নিহতদের মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, জর্ডান, ফিলিস্তিন, সিরিয়া, সুদান ও মিশরের একজন করে নাগরিক রয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, এই হামলায় বিভিন্ন দেশের নাগরিকের হতাহতের ঘটনা আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।
এ ছাড়া হামলার আগের দিন আরও তিনজন সৌদি নাগরিকের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছিল বলে জানানো হয়েছে। পরপর হামলার ঘটনায় সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। আহতদের চিকিৎসা এবং ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব নিয়ে আরও বিস্তারিত তথ্যের অপেক্ষা রয়েছে।
হামলার দায় স্বীকার হুথিদের
ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহী গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করেছে বলে দাবি করা হয়েছে। হুথি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল-বুখাইতির বক্তব্য অনুযায়ী, ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের হামলার জবাব দিতেই এই পাল্টা অভিযান চালানো হয়েছে।
হুথিদের এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, ইয়েমেনকে কেন্দ্র করে চলা সংঘাতের প্রভাব সৌদি আরবের ভূখণ্ডেও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে হামলার ব্যবহৃত অস্ত্র, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার চেষ্টা এবং বিমানবন্দরের নিরাপত্তাব্যবস্থার বিস্তারিত তথ্য স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
নিরাপত্তা নিয়ে সতর্ক বিভিন্ন দেশের দূতাবাস
হামলার পর রিয়াদে অবস্থিত বিভিন্ন দেশের দূতাবাস নিজেদের নাগরিকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। নাগরিকদের নিরাপদ স্থানে থাকার পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশিকা মেনে চলার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।
বিশেষ করে বিমানবন্দর ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার আশপাশে নিরাপত্তা পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে। বিমান পরিষেবা বন্ধ থাকায় যাত্রীদেরও যাত্রার আগে সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থার কাছ থেকে পরিষেবার সর্বশেষ অবস্থা জেনে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
সৌদি আরব-ইয়েমেন সংঘাত ঘিরে বাড়ছে উদ্বেগ
ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী এবং সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মধ্যে দীর্ঘদিনের সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এই হামলার ঘটনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হুথিদের দাবি অনুযায়ী, ইয়েমেনে সৌদি জোটের সামরিক অভিযানের পাল্টা জবাব হিসেবেই এই হামলা চালানো হয়েছে। তবে এই ঘটনার পর সংঘাত আরও বিস্তৃত হবে কি না, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ তৈরি হতে পারে।
সব মিলিয়ে, রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার খবর সামনে আসার পর সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতি, আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠেছে। হতাহতের সংখ্যা, বিমানবন্দরের ক্ষয়ক্ষতি এবং পরিষেবা পুনরায় চালুর বিষয়ে সরকারি ও স্বাধীন সূত্রে নিশ্চিত তথ্য সামনে আসা এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই প্রতিবেদনে দেওয়া হতাহতের সংখ্যা, হামলার বিবরণ এবং দায় স্বীকারের তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।
