কোচবিহারে দামি রেস্তোরায় ফের প্রশাসনের অভিযান, মিলল অপরিচ্ছন্নতা
দুদিনের সময়সীমা শেষ হতেই কোচবিহারের নামী রেস্তোরায় ফের প্রশাসনের অভিযান। রান্নাঘর ও খাবার সংরক্ষণে অপরিচ্ছন্নতা মেলায় ফের দুদিনের সময়সীমা।
ফের দামি রেস্তোরায় প্রশাসনের অভিযান, মিলল অপরিচ্ছন্নতার অভিযোগ

কোচবিহার: প্রশাসনের দেওয়া দুদিনের সময়সীমা শেষ হতে ফের কোচবিহারের একটি নামী ও দামি রেস্তোরায় অভিযান চালাল জেলা প্রশাসন ও খাদ্য দপ্তর। খাবারের গুণগত মান, খাদ্য সুরক্ষা এবং রেস্তোরার সামগ্রিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিয়ে আগের অভিযানে একাধিক বিষয় সামনে আসার পরই এই দ্বিতীয় দফার পরিদর্শন। রবিবার রাতে আচমকা এই অভিযানে প্রশাসনের আধিকারিকদের উপস্থিতিতে রেস্তোরার বিভিন্ন অংশ খতিয়ে দেখা হয়।
জানা গিয়েছে, গত শুক্রবার ওই রেস্তোরায় প্রথম দফায় অভিযান চালিয়েছিল জেলা প্রশাসন ও খাদ্য দপ্তরের আধিকারিকরা। সেই সময় রান্নাঘর থেকে শুরু করে খাবার সংরক্ষণের ব্যবস্থা, পরিবেশনের স্থান এবং রেস্তোরার বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখা হয়। পাশাপাশি খাবারের গুণগত মান, খাদ্য সুরক্ষা বিধি মেনে চলা হচ্ছে কি না এবং কর্মীদের স্বাস্থ্যবিধি ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয়গুলিও খতিয়ে দেখা হয়।
প্রথম অভিযানের সময় প্রশাসনের নজরে আসে বেশ কিছু বিষয়, যা নিয়ে রেস্তোরার কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করা হয়। বিশেষ করে রেস্তোরার বিভিন্ন অংশ আরও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কর্তৃপক্ষকে নির্দিষ্টভাবে দুদিনের সময়সীমা দেওয়া হয়েছিল, যাতে ওই সময়ের মধ্যে সমস্ত ত্রুটি ও অপরিচ্ছন্নতা দূর করা যায়।
সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার পর রবিবার রাতে ফের রেস্তোরায় পৌঁছন প্রশাসনের আধিকারিকরা। এদিনের অভিযানে উপস্থিত ছিলেন কোচবিহারের এসডিও গোবিন্দ নন্দী, কোচবিহার কোতোয়ালি থানার আইসি সুকুমার ঘোষ-সহ জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অন্যান্য আধিকারিকরা।
দ্বিতীয় দফার পরিদর্শনে রেস্তোরার বিভিন্ন জায়গা ঘুরে দেখেন আধিকারিকরা। বিশেষ নজর দেওয়া হয় রান্নাঘর, খাবার প্রস্তুত ও সংরক্ষণের জায়গা এবং রেস্তোরার সামগ্রিক পরিচ্ছন্নতার দিকে। প্রশাসনের দাবি, প্রথম অভিযানের পর রেস্তোরার বেশ কিছু অংশ পরিষ্কার করা হয়েছে। তবে এখনও কিছু জায়গায় অপরিচ্ছন্নতা রয়ে গিয়েছে বলে পরিদর্শনের সময় নজরে আসে।
এরপরই রেস্তোরার কর্তৃপক্ষকে ফের দুদিনের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, এই সময়ের মধ্যে বাকি থাকা সমস্ত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ সম্পূর্ণ করতে হবে। শুধু বাইরে থেকে পরিষ্কার করলেই হবে না, খাবার তৈরির জায়গা, সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং কর্মীদের স্বাস্থ্যবিধি—প্রতিটি ক্ষেত্রেই প্রয়োজনীয় মান বজায় রাখতে হবে।
এসডিও গোবিন্দ নন্দীর বক্তব্য অনুযায়ী, রেস্তোরাটি আপাতত খোলা থাকলেও আগামী দুদিনের মধ্যে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ আরও উন্নত করতে হবে। নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে ফের সেখানে অভিযান চালানো হবে এবং পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হবে।
শুধু নির্দিষ্ট সময় অন্তর অভিযান নয়, আগামী দিনগুলিতে আচমকা পরিদর্শনও চালানো হবে বলে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে। অর্থাৎ, রেস্তোরার কর্তৃপক্ষকে শুধু দুদিনের জন্য নয়, নিয়মিতভাবে খাদ্য সুরক্ষা ও পরিচ্ছন্নতার মান বজায় রাখার বার্তা দিয়েছে প্রশাসন।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, পরবর্তী পরিদর্শনে যদি ফের কোনও ধরনের অপরিচ্ছন্নতা, খাদ্য সুরক্ষা বিধি লঙ্ঘন বা অন্য কোনও অনিয়ম ধরা পড়ে, তাহলে রেস্তোরার বিরুদ্ধে জরিমানা-সহ আরও কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
ফলে আপাতত রেস্তোরার সামনে আরও দুদিনের সময়সীমা। এই সময়ের মধ্যে প্রশাসনের নির্দেশ মেনে সমস্ত ঘাটতি পূরণ করা হয় কি না, সেদিকেই নজর থাকবে। একই সঙ্গে পরবর্তী অভিযানে প্রশাসনের তরফে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়, তা নিয়েও তৈরি হয়েছে কৌতূহল।
খাবারের মান ও খাদ্য সুরক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কোনওরকম গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না—কোচবিহারে পরপর দুই দফায় অভিযানের মাধ্যমে কার্যত সেই বার্তাই দিল জেলা প্রশাসন।
