রামপুরহাটে আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার, চিঠি ঘিরে রহস্য
রামপুরহাটে প্রাক্তন ডেপুটি স্পিকার আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার। ঘটনাস্থল থেকে চিঠি উদ্ধার হয়েছে বলে দাবি। মৃত্যুর কারণ খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
রামপুরহাটে প্রাক্তন ডেপুটি স্পিকার আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের রহস্যমৃত্যু, দলীয় কার্যালয় থেকে উদ্ধার ঝু*লন্ত দেহ
সিটি নিউজ বাংলা, স্টেট ডেস্ক : রামপুরহাটে চাঞ্চল্যকর ঘটনা। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার প্রাক্তন ডেপুটি স্পিকার, প্রাক্তন মন্ত্রী তথা পাঁচবারের তৃণমূল বিধায়ক আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। রবিবার সকালে রামপুরহাটের হাটতলাপাড়ায় তাঁর বাড়ি সংলগ্ন দলীয় কার্যালয় থেকে দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে একটি কথিত ‘সুইসাইড নোট’ও উদ্ধার হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সকালে কয়েকজন জানলা দিয়ে দলীয় কার্যালয়ের ভিতরে তাঁর দেহ ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। খবর দেওয়া হয় রামপুরহাট থানায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠায়। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় রামপুরহাট বিধানসভা কেন্দ্র থেকে টানা পাঁচবার নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০২১ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত তিনি বিধানসভার ডেপুটি স্পিকারের দায়িত্ব সামলেছেন। এর আগে রাজ্য সরকারের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দফতরের মন্ত্রীও ছিলেন তিনি। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রামপুরহাটে বিজেপির ধ্রুব সাহার কাছে পরাজিত হন আশিস।
উদ্ধার চিঠিতে দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার
আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেহের সঙ্গে পাওয়া চিঠিটিকে প্রাথমিকভাবে ‘সুইসা*ইড নোট’ বলে মনে করা হচ্ছে। সেখানে তিনি নিজের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়েছে। বিশেষ করে তারাপীঠ-রামপুরহাট উন্নয়ন পর্ষদ বা TRDA-কে ঘিরে ওঠা অভিযোগের প্রসঙ্গও চিঠিতে রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
চিঠিতে তিনি দাবি করেছেন, TRDA-র টেন্ডার, চেক সংক্রান্ত কাজ, প্ল্যান অনুমোদন বা NOC দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর কোনও সরাসরি ভূমিকা ছিল না। নিজের রাজনৈতিক জীবন নিয়েও আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন তিনি। এমনকি রাজনীতিতে আসাটাই ভুল হয়েছিল বলেও চিঠিতে উল্লেখ রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
TRDA নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর
তারাপীঠ-রামপুরহাট উন্নয়ন পর্ষদকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ রয়েছে। বিজেপির পক্ষ থেকে TRDA-র মাধ্যমে উন্নয়নের নামে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তোলা হয়েছে। বিশেষ করে হোটেল নির্মাণ, প্ল্যান অনুমোদন ও বিভিন্ন সরকারি ছাড়পত্র দেওয়ার ক্ষেত্রে দুর্নীতির অভিযোগ সামনে এসেছে।
তবে আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের চিঠিতে TRDA-র আর্থিক অনিয়মের সঙ্গে নিজের কোনও যোগ নেই বলে দাবি করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা এবং চিঠিটির প্রামাণিকতা—দুই বিষয়ই এখন পুলিশের তদন্তের আওতায়।
আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের আকস্মিক মৃত্যুতে রামপুরহাটের রাজনৈতিক মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তবে এটি আত্মহত্যা নাকি মৃত্যুর পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে, তা এখনও নিশ্চিত নয়। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং পুলিশের তদন্তের পরই মৃ*ত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে।
