কোচবিহার জেলা পরিষদে অনাস্থার হাওয়া, সভাধিপতি-সহকারী সভাধিপতির বিরুদ্ধে ১৭ সদস্যের আবেদন
কোচবিহার জেলা পরিষদে সভাধিপতি ও সহকারী সভাধিপতির বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবের দাবিতে জেলাশাসকের দপ্তরে আবেদন ১৭ সদস্যের। ঘিরে রাজনৈতিক জল্পনা।
কোচবিহার জেলা পরিষদে অনাস্থার হাওয়া, সভাধিপতি ও সহকারী সভাধিপতির বিরুদ্ধে ১৭ সদস্যের আবেদন
কোচবিহার, ডিস্ট্রিক্ট ডেস্ক, ১৮ আগস্ট: কোচবিহার জেলা পরিষদে এবার অনাস্থা প্রস্তাব ঘিরে শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক চর্চা। মঙ্গলবার দুপুরে কোচবিহার জেলাশাসকের দপ্তরে গিয়ে জেলা পরিষদের সভাধিপতি ও সহকারী সভাধিপতির বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব বিবেচনার দাবিতে লিখিত আবেদন জমা দিলেন জেলা পরিষদের ১৭ জন সদস্য। তাঁদের এই পদক্ষেপকে ঘিরে জেলা পরিষদের অন্দরমহলে রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।

জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার দুপুরে ওই ১৭ সদস্য একসঙ্গে জেলাশাসকের দপ্তরে উপস্থিত হয়ে সভাধিপতি ও সহকারী সভাধিপতির বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনার বিষয়ে আবেদন জানান। আচমকা এই পদক্ষেপে জেলা পরিষদের রাজনৈতিক পরিস্থিতি সরগরম হয়ে উঠেছে।
আবেদন জমা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সদস্যরা তাঁদের ক্ষোভের কারণ জানান। তাঁদের অভিযোগ, গত প্রায় চার মাস ধরে জেলা পরিষদে নিজেদের দায়িত্ব ও কাজকর্ম পরিচালনা করতে একাধিক সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করতে গিয়েও বাধার সম্মুখীন হওয়ার অভিযোগ করেছেন তাঁরা।
সদস্যদের বক্তব্য, নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে সাধারণ মানুষের উন্নয়নমূলক কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকা তাঁদের দায়িত্ব। কিন্তু গত কয়েক মাসে কাজ করতে গিয়ে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তাতে স্বাভাবিকভাবে দায়িত্ব পালন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ভবিষ্যতে যাতে এই ধরনের সমস্যা না হয় এবং তাঁরা নিজেদের দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে পালন করতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই সভাধিপতি ও সহকারী সভাধিপতির বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দাবি তাঁদের।
১৭ জন সদস্য একসঙ্গে অনাস্থার আবেদন জমা দেওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই জেলা পরিষদের বর্তমান সংখ্যাগরিষ্ঠতার সমীকরণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এই আবেদন পরবর্তী সময়ে কোন পথে এগোয়, জেলা পরিষদের রাজনীতিতে তার কী প্রভাব পড়ে—সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।
তবে অনাস্থা প্রস্তাবের পরবর্তী প্রক্রিয়া কী হবে এবং জেলা প্রশাসনের তরফে কী পদক্ষেপ করা হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। একইসঙ্গে সভাধিপতি ও সহকারী সভাধিপতির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তাঁদের বক্তব্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
জেলা পরিষদের অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন প্রকাশ্যে আসায় কোচবিহারের রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। ১৭ সদস্যের এই আবেদনের পর ক্ষমতার সমীকরণ কোন দিকে যায়, অনাস্থা প্রস্তাব আদৌ আলোচনায় আসে কি না এবং শেষ পর্যন্ত তা ভোটাভুটির পর্যায়ে পৌঁছয় কি না—এখন সেদিকেই নজর সকলের।
সব মিলিয়ে, মঙ্গলবারের এই আবেদনকে ঘিরে কোচবিহার জেলা পরিষদের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। আগামী দিনে বিষয়টি আরও জটিল হয়, নাকি আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতির সমাধান হয়, এখন সেটাই দেখার।
