সংশোধিত সার্ভিস রুল প্রকাশ ও শূন্যপদে নিয়োগের দাবিতে কোচবিহার আদালতে দু’দিনের ধর্মঘট
সংশোধিত ওয়েস্ট বেঙ্গল ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট রুল ২০১৫ প্রকাশ ও আদালতের শূন্যপদে দ্রুত নিয়োগের দাবিতে দু’দিনের ধর্মঘটে কোচবিহার আদালত কর্মীরা।
সংশোধিত সার্ভিস রুল প্রকাশ ও শূন্যপদে নিয়োগের দাবিতে কোচবিহার আদালতে দু’দিনের ধর্মঘট
কোচবিহার, ডিস্ট্রিক্ট ডেস্ক ১৯: সংশোধিত ওয়েস্ট বেঙ্গল ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট রুল ২০১৫ অবিলম্বে প্রকাশ এবং রাজ্যের সমস্ত আদালতে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা শূন্যপদে দ্রুত নিয়োগের দাবিতে দু’দিনের ধর্মঘটে সামিল হল পশ্চিমবঙ্গ আদালত কর্মচারী সমিতি। সংগঠনের কোচবিহার শাখার উদ্যোগে সোমবার থেকে শুরু হওয়া এই ধর্মঘটের দ্বিতীয় দিনে মঙ্গলবার কোচবিহার আদালত চত্বরে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন আদালত কর্মীরা।

আদালত কর্মীদের দাবি, ২০১৫ সালের ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট সার্ভিস রুলে একাধিক ত্রুটি ও অসঙ্গতি রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই ওই সার্ভিস রুল সংশোধনের দাবি জানিয়ে আসছেন তাঁরা। বিভিন্ন সময়ে কর্তৃপক্ষের কাছে ডেপুটেশন দেওয়ার পাশাপাশি আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেও নিজেদের দাবির কথা জানানো হয়েছে বলে আন্দোলনকারীদের দাবি।
সমিতির সদস্যদের অভিযোগ, সংশোধিত সার্ভিস রুল প্রকাশের বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে সেই প্রক্রিয়া এখনও সম্পূর্ণ হয়নি। তাঁদের বক্তব্য, গত মে মাসে হাইকোর্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ডেপুটেশন দেওয়া হয়েছিল। সেই সময় ৪৫ দিনের মধ্যে সংশোধিত সার্ভিস রুল প্রকাশ করা হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও সংশোধিত রুল প্রকাশ করা হয়নি।
আন্দোলনকারীদের দাবি, ৪৫ দিনের আশ্বাসের পর ইতিমধ্যেই প্রায় তিন মাস অতিক্রান্ত হয়েছে। তারপরও সংশোধিত সার্ভিস রুল কার্যকর না হওয়ায় ক্ষোভ আরও বেড়েছে আদালত কর্মীদের মধ্যে। তাঁদের বক্তব্য, বারবার আবেদন, ডেপুটেশন এবং আইনি প্রক্রিয়ার পরেও যদি দাবি পূরণ না হয়, তাহলে আন্দোলনের পথে যাওয়া ছাড়া তাঁদের সামনে আর কোনও বিকল্প ছিল না।
এই পরিস্থিতিতেই ২৪ ও ২৫ আগস্ট দু’দিনের ধর্মঘটের ডাক দেয় পশ্চিমবঙ্গ আদালত কর্মচারী সমিতি। সেই কর্মসূচির অংশ হিসেবেই মঙ্গলবার ধর্মঘটের দ্বিতীয় দিনে কোচবিহার আদালত চত্বরে জমায়েত হয়ে বিক্ষোভ দেখান সংগঠনের সদস্যরা। বিভিন্ন দাবিতে তাঁরা স্লোগান দেন এবং কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জানান।
শুধু সংশোধিত সার্ভিস রুল প্রকাশ নয়, রাজ্যের বিভিন্ন আদালতে দীর্ঘদিন ধরে থাকা কর্মী-শূন্যপদে দ্রুত নিয়োগের দাবিও জোরালোভাবে তুলেছেন আন্দোলনকারীরা। তাঁদের বক্তব্য, পর্যাপ্ত সংখ্যক কর্মী না থাকায় আদালতের দৈনন্দিন প্রশাসনিক কাজের উপরও চাপ তৈরি হচ্ছে। শূন্যপদ পূরণ হলে আদালতের কাজ আরও দ্রুত ও সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে বলে তাঁদের দাবি।
আদালত কর্মীদের আরও অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে শূন্যপদ পূরণ না হওয়ায় কর্মরত কর্মীদের উপর অতিরিক্ত কাজের চাপ তৈরি হচ্ছে। ফলে একদিকে যেমন কর্মীদের সমস্যা বাড়ছে, অন্যদিকে আদালতের স্বাভাবিক প্রশাসনিক কাজেও তার প্রভাব পড়ছে। তাই দ্রুত শূন্যপদে নিয়োগের বিষয়টিকেও তাঁরা আন্দোলনের অন্যতম প্রধান দাবি হিসেবে তুলে ধরেছেন।
আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, তাঁদের দাবি দ্রুত কার্যকর না হলে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের পথে যাওয়ার বিষয়েও সংগঠন সিদ্ধান্ত নিতে পারে। সংশোধিত সার্ভিস রুল প্রকাশ এবং আদালতের শূন্যপদ পূরণে কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ করবে—এই প্রত্যাশাতেই আপাতত আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন তাঁরা।
দু’দিনের ধর্মঘট ও কোচবিহার আদালত চত্বরে কর্মীদের বিক্ষোভকে ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই চর্চা শুরু হয়েছে। এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই দাবিগুলির বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেয়, সংশোধিত সার্ভিস রুল কবে প্রকাশিত হয় এবং শূন্যপদ পূরণের জন্য কবে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়, সেদিকেই নজর আদালত কর্মী মহলের।
