Toxic Movie Review: খুন-জখম আর রোম্যান্সে হারাল গল্প! যশের কামব্যাক কতটা জমল?
Toxic Movie Review: যশের কামব্যাক ছবি ‘Toxic’-এ দুর্দান্ত অ্যাকশন ও ভিজ্যুয়াল থাকলেও চিত্রনাট্য, দীর্ঘ রানটাইম ও চরিত্রায়ন নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। পড়ুন রিভিউ।
Toxic Movie Review: খুন-জখম, রোম্যান্স আর রক্তারক্তির মাঝে হারিয়ে গেল গল্প! যশের কামব্যাক কতটা জমল?
সিটি নিউজ বাংলা, এন্টারটেইনমেন্ট ডেস্ক, ২৬ আগস্ট ২০২৬: ‘KGF’ ফ্র্যাঞ্চাইজির পর বড় পর্দায় যশের প্রত্যাবর্তন ঘিরে উত্তেজনা ছিল তুঙ্গে। তার সঙ্গে পরিচালক গীতু মোহনদাসের মতো প্রশংসিত নির্মাতার জুটি—স্বাভাবিকভাবেই ‘Toxic: A Fairy Tale for Grown-Ups’ নিয়ে প্রত্যাশা ছিল অনেক। ২৬ আগস্ট প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে ছবিটি। কিন্তু প্রথম দিনের প্রতিক্রিয়া বলছে, চোখধাঁধানো অ্যাকশন, তারকাখচিত কাস্ট এবং যশের দুর্দান্ত স্ক্রিন প্রেজেন্স থাকলেও গল্প ও চিত্রনাট্যের জায়গায় ছবিটি বড় ধাক্কা খেয়েছে।

গল্পের কেন্দ্রে কী?
‘Toxic’-এর গল্প আবর্তিত হয়েছে অপরাধ, ক্ষমতা, পরিবার, অতীতের ক্ষত এবং সম্পর্ককে ঘিরে। গোয়ার অপরাধ জগতের অন্ধকার দুনিয়ায় জড়িয়ে পড়া রায়ার জীবন এবং তার বোন গঙ্গার সঙ্গে সম্পর্ক গল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তর।
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে প্রেম, পারিবারিক টানাপোড়েন এবং ক্ষমতার লড়াই। ফলে পরিচালক একসঙ্গে ক্রাইম, অ্যাকশন, রোম্যান্স ও পারিবারিক আবেগকে পর্দায় তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন।
কাগজে-কলমে গল্পের উপাদান আকর্ষণীয় হলেও সমস্যা তৈরি হয়েছে সেগুলিকে একসঙ্গে বুনতে গিয়ে।
যশের পারফরম্যান্স কেমন?
যশের সবচেয়ে বড় শক্তি তাঁর স্ক্রিন প্রেজেন্স। ক্যামেরার সামনে তাঁর উপস্থিতি, লুক, স্টাইল এবং অ্যাকশন দৃশ্য ছবির অন্যতম আকর্ষণ।
বড় পর্দায় যশকে ঘিরে তৈরি করা হয়েছে একাধিক ‘মাস’ মুহূর্ত। অ্যাকশনপ্রেমী দর্শক সেগুলি উপভোগ করতে পারেন। তবে এখানেই ছবির একটি বড় প্রশ্নও উঠে আসে।
অনেকেরই মনে হতে পারে, যশের নতুন চরিত্রের মধ্যে ‘KGF’-এর রকি ভাইয়ের ছায়া বারবার ফিরে আসছে। স্টাইল, হাঁটার ধরন, পোজ এবং অ্যাকশন—কিছু কিছু জায়গায় চরিত্রটি নিজস্ব পরিচয় তৈরি করার বদলে পুরনো ইমেজের উপর নির্ভর করেছে বলে মনে হয়েছে।
সবচেয়ে বড় সমস্যা চিত্রনাট্যে
‘Toxic’-এর মূল দুর্বলতা সম্ভবত এখানেই।
প্রায় ৩ ঘণ্টা ১৪ মিনিটের রানটাইমে একাধিক চরিত্র, উপকাহিনি, সম্পর্ক, অ্যাকশন এবং আবেগকে জায়গা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সবকটি স্তর সমানভাবে বিকশিত হয়নি।
একদিকে দ্রুতগতির অ্যাকশন, অন্যদিকে চরিত্রগুলির অতীত ও সম্পর্ক ব্যাখ্যা করার চেষ্টা—দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য অনেক জায়গায় নষ্ট হয়েছে।
ফলে ছবির একটি অংশ দর্শককে গল্পের সঙ্গে যুক্ত করার বদলে পরবর্তী অ্যাকশন দৃশ্যের দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়।
অ্যাকশন বেশি, গল্প কোথায়?
ছবিতে বন্দুক, ছুরি, কুঠার, বিস্ফোরণ এবং রক্তাক্ত সংঘর্ষের অভাব নেই। অ্যাকশনকে আরও বড় এবং আরও আক্রমণাত্মক করে তোলার চেষ্টা স্পষ্ট।
কিন্তু সমস্যা হল, অ্যাকশনের পরিমাণ যত বাড়ে, গল্পের গুরুত্ব ততটাই যেন পিছিয়ে যায়।
একটি সময়ের পর অতিরিক্ত হিংস্রতা এবং ক্রমাগত অ্যাকশন দর্শকের উপর প্রত্যাশিত প্রভাব তৈরি করার বদলে একঘেয়েমি তৈরি করতে পারে।
অর্থাৎ, অ্যাকশন ছবির শক্তি হলেও সেটিই কিছু জায়গায় ছবির দুর্বলতার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ভিজ্যুয়াল দুর্দান্ত, কিন্তু সম্পাদনা?
‘Toxic’-এর ভিজ্যুয়াল স্কেল নিয়ে খুব বেশি অভিযোগ করার জায়গা নেই। বড় সেট, স্টাইলাইজড ফ্রেম, অ্যাকশন কোরিওগ্রাফি এবং সিনেমাটিক উপস্থাপনায় ছবিটি উচ্চাকাঙ্ক্ষী।
কিন্তু দ্রুত কাট, খণ্ডিত বর্ণনা এবং গল্প বলার পরীক্ষামূলক ধরন অনেক দর্শকের কাছে বিভ্রান্তিকর হয়ে উঠতে পারে।
দৃশ্যের জাঁকজমক রয়েছে, কিন্তু সেই দৃশ্যগুলিকে এক সুতোয় বাঁধার ক্ষেত্রে চিত্রনাট্য ও সম্পাদনা সবসময় সমান সফল নয়।
নায়নথারা, কিয়ারা, হুমারা কতটা জায়গা পেলেন?
ছবির কাস্ট নিঃসন্দেহে নজরকাড়া। নায়নথারার গঙ্গা চরিত্র গল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কিন্তু এত বড় অভিনেত্রীকে ঘিরে যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তাঁর চরিত্রের সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
কিয়ারা আডবাণীও ছবিতে গুরুত্বপূর্ণ উপস্থিতি তৈরি করেছেন। যশের সঙ্গে তাঁর রোম্যান্টিক সমীকরণ গল্পে অন্য মাত্রা যোগ করার চেষ্টা করেছে। তবে তাঁর চরিত্র আরও গভীরতা পেতে পারত বলে মনে হয়েছে।
হুমা কুরেশি, তারা সুতারিয়া এবং রুক্মিণী বসন্তের মতো অভিনেত্রীদের উপস্থিতিও ছবির কাস্টকে সমৃদ্ধ করেছে। কিন্তু তাঁদের চরিত্রগুলির ক্ষেত্রে গল্পের প্রয়োজনই অনেক সময় অভিনেতাদের সম্ভাবনার চেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে বলে মনে হতে পারে।
তাহলে ‘Toxic’ কি একেবারেই হতাশার?
না, এতটা সরলভাবে ছবিটিকে বিচার করা ঠিক হবে না।
যাঁরা যশের ভক্ত এবং বড় পর্দায় মাস অ্যাকশন, স্টাইলিশ ভিজ্যুয়াল ও তারকার দাপট দেখতে চান, তাঁদের কাছে ছবির বেশ কিছু অংশ উপভোগ্য হতে পারে।
সমস্যা মূলত তাঁদের জন্য, যাঁরা ‘KGF’-এর মতো শক্তিশালী চরিত্র, টানটান গল্প এবং স্মরণীয় চিত্রনাট্য প্রত্যাশা করে প্রেক্ষাগৃহে যাবেন।
‘Toxic’-এ উচ্চাকাঙ্ক্ষা রয়েছে, স্কেল রয়েছে, তারকাদের উপস্থিতি রয়েছে। কিন্তু সেই সমস্ত উপাদানকে একটি শক্তিশালী গল্পের মধ্যে দীর্ঘ সময় ধরে ধরে রাখার ক্ষেত্রে ছবিটি সবসময় সফল নয়।
শেষ কথা
যশের কামব্যাক নিয়ে যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, ‘Toxic’ তার পুরোটা পূরণ করতে পেরেছে—এমনটা বলা কঠিন।
দুর্দান্ত স্ক্রিন প্রেজেন্স, বড় মাপের অ্যাকশন, স্টাইলিশ ভিজ্যুয়াল এবং শক্তিশালী কাস্ট ছবির ইতিবাচক দিক। অন্যদিকে দীর্ঘ রানটাইম, চিত্রনাট্যের অসংলগ্নতা, অতিরিক্ত অ্যাকশন এবং কিছু চরিত্রের পর্যাপ্ত বিকাশের অভাব ছবির অভিজ্ঞতাকে দুর্বল করেছে।
সব মিলিয়ে, ‘Toxic’ চোখকে ব্যস্ত রাখে, কিন্তু গল্প দিয়ে মনকে ধরে রাখতে পারে না।
আমাদের রেটিং: ⭐⭐/৫
যাঁরা দেখতে পারেন: যশের অন্ধভক্ত, অ্যাকশনপ্রেমী এবং বড় পর্দায় স্টাইলিশ ভিজ্যুয়াল উপভোগ করতে চান এমন দর্শক।
যাঁরা হতাশ হতে পারেন: যাঁরা শক্তিশালী গল্প, টানটান চিত্রনাট্য এবং চরিত্রনির্ভর সিনেমা প্রত্যাশা করছেন।
