PRAGATI বৈঠকে মোদীর কড়া বার্তা, গুণমানে আপস নয়
PRAGATI বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কড়া বার্তা—প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করতে গিয়ে গুণমানের সঙ্গে কোনও আপস নয়। মান নিয়ন্ত্রণ, অডিট ও কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয়ে জোর।
PRAGATI বৈঠকে মোদীর কড়া বার্তা, ‘কাজের গতি বাড়াতে গিয়ে মানের সঙ্গে আপস নয়’
নয়াদিল্লি, ন্যাশনাল ডেস্ক ১৫: দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো ও জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের কাজের গুণমান এবং তদারকি নিয়ে এবার কড়া বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
PRAGATI বৈঠকে সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নে গাফিলতি এবং কাজের মান নিয়ন্ত্রণে ঘাটতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করার লক্ষ্যে কোনওভাবেই গুণমানের সঙ্গে আপস করা যাবে না। কাজের মানে কোনও ধরনের অবহেলা বা ত্রুটি থাকলে তা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলেও বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

PRAGATI বা Pro-Active Governance and Timely Implementation ব্যবস্থার মাধ্যমে নিয়মিতভাবে দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প এবং জনঅভিযোগের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। এই বৈঠকে বিভিন্ন পরিকাঠামো প্রকল্পের বাস্তবায়ন, সময়সীমা, সমন্বয় এবং গুণমান নিয়ন্ত্রণের বিষয়গুলি গুরুত্ব দিয়ে পর্যালোচনা করা হয়।
‘গতি বাড়ানোর নামে মানের সঙ্গে আপস নয়’
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে দেন, সরকারি প্রকল্পের ক্ষেত্রে শুধু নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করাই সরকারের লক্ষ্য হতে পারে না। প্রকল্পের কাজ দীর্ঘস্থায়ী, নিরাপদ এবং নির্ধারিত মান অনুযায়ী হয়েছে কি না, সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রক, রাজ্য সরকার এবং প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলিকে প্রতিটি পর্যায়ে Quality Assurance বা গুণমান নিশ্চিত করার ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার নির্দেশ দেন।
প্রধানমন্ত্রীর বার্তা, কাজের গতি এবং কাজের মান—দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখেই প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হবে। দ্রুত কাজ শেষ করার তাগিদে যদি নিম্নমানের কাজ হয়, তাহলে সেই ধরনের গাফিলতি ভবিষ্যতে আরও বড় সমস্যা তৈরি করতে পারে।
থার্ড-পার্টি অডিট নিয়েও প্রশ্ন
সরকারি প্রকল্পে কাজের গুণমান যাচাই করার জন্য নিয়মিতভাবে তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে অডিট বা পরিদর্শনের ব্যবস্থা থাকে। কিন্তু এই ব্যবস্থা বাস্তবে কতটা কার্যকর হচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি জানতে চান, রুটিন মেনে থার্ড-পার্টি অডিট হলেও যদি কাজের গুণমান নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়, তাহলে সেই অডিট ব্যবস্থার কার্যকারিতা কতটা?
প্রয়োজনে আরও শক্তিশালী ও স্বাধীন যাচাই ব্যবস্থার প্রয়োজন রয়েছে কি না, সেই বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করার কথা বলেন তিনি। এমনকি ‘Fourth-party audit’ বা চতুর্থ পক্ষের মাধ্যমে অতিরিক্ত নজরদারি প্রয়োজন হবে কি না, সেই প্রশ্নও আলোচনায় উঠে আসে।
এর মাধ্যমে প্রকল্পের মান যাচাইয়ের বর্তমান পদ্ধতিকে আরও কার্যকর করার প্রয়োজনীয়তার দিকেই ইঙ্গিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রকল্পকে আলাদা আলাদা প্যাকেজ হিসেবে দেখলে চলবে না
পরিকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের পরিকল্পনা ও নজরদারির ক্ষেত্রেও নতুন করে জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বড় কোনও প্রকল্পকে শুধুমাত্র একাধিক ছোট কাজ বা আলাদা প্যাকেজে ভাগ করে দেখলে সামগ্রিক চিত্রটি অনেক সময় স্পষ্ট হয় না।
তাই একটি বড় পরিকাঠামো প্রকল্পের প্রতিটি অংশের কাজ আলাদাভাবে পর্যালোচনার পাশাপাশি পুরো প্রকল্পটি একটি সমন্বিত ব্যবস্থা বা Integrated System হিসেবে বিবেচনা করার প্রয়োজন রয়েছে।
কোনও একটি অংশ সময়মতো শেষ হলেও যদি অন্য অংশ পিছিয়ে থাকে, তাহলে গোটা প্রকল্পের সুফল পাওয়া সম্ভব নয়। তাই পরিকল্পনা থেকে বাস্তবায়ন—প্রতিটি স্তরে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রক, রাজ্য সরকার এবং বাস্তবায়নকারী সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর উপর জোর দেওয়া হয়েছে।
আধুনিক প্রযুক্তিতে নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ
প্রকল্পের কাজের স্বচ্ছতা এবং তদারকি আরও শক্তিশালী করতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর উপরও গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রকল্পের অগ্রগতি, কাজের গুণমান, সময়সীমা এবং মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি সম্পর্কে দ্রুত তথ্য পাওয়ার জন্য ডিজিটাল প্রযুক্তি ও আধুনিক মনিটরিং ব্যবস্থাকে আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এর ফলে প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় কোথাও সমস্যা তৈরি হলে দ্রুত তা চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয়েও জোর
দেশের বড় পরিকাঠামো ও জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের ক্ষেত্রে কেন্দ্র এবং রাজ্য—দুই পক্ষের একসঙ্গে কাজ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেক প্রকল্পে জমি, অনুমোদন, পরিবেশগত ছাড়পত্র, স্থানীয় প্রশাসন এবং অন্যান্য বিষয়ে একাধিক দপ্তর জড়িত থাকে।
ফলে কোনও একটি স্তরে সমন্বয়ের অভাব হলে গোটা প্রকল্পের কাজ পিছিয়ে যেতে পারে। সেই কারণে প্রকল্প বাস্তবায়নে কেন্দ্রীয় মন্ত্রক, রাজ্য সরকার এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেওয়া হয়েছে।
শুধু কাজ শেষ নয়, কাজের ফলও গুরুত্বপূর্ণ
PRAGATI বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, সরকারের কাছে কোনও প্রকল্পের সাফল্য শুধুমাত্র সেটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ করার উপর নির্ভর করবে না। প্রকল্পটি কতটা কার্যকর, কতটা টেকসই এবং সাধারণ মানুষের জন্য কতটা সুফল বয়ে আনছে—সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
সরকারি অর্থে তৈরি পরিকাঠামোর ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি গুণমান বজায় রাখার জন্য শুরু থেকেই শক্তিশালী মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন বলেই বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
সব মিলিয়ে PRAGATI বৈঠক থেকে সরকারি প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত সমস্ত সংস্থার উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা যথেষ্ট স্পষ্ট—দ্রুত কাজ শেষ করতে হবে, কিন্তু সেই গতি কখনও কাজের গুণমানের বিনিময়ে হতে পারে না। প্রকল্পের প্রতিটি পর্যায়ে কঠোর মান নিয়ন্ত্রণ, কার্যকর অডিট, কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয় এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির মাধ্যমে সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নের মান আরও উন্নত করার উপরই এখন বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
