পদত্যাগ, ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মায়া সাহা ইস্তফা দিলেন
কোচবিহার পুরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মায়া সাহা পারিবারিক সমস্যা, শারীরিক অসুস্থতা ও পুত্রের চিকিৎসার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করলেন। চেয়ারম্যান দিলীপ সাহার পদত্যাগের পর ফের রাজনৈতিক চর্চা শুরু হয়েছে।কোচবিহার পুরসভায় আরও এক পদত্যাগ, ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মায়া সাহা ইস্তফা দিলেনপারিবারিক সমস্যা, শারীরিক অসুস্থতা ও পুত্রের চিকিৎসার কারণ উল্লেখ; রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা
নিজস্ব প্রতিনিধি | CT News Bangla | কোচবিহার
কোচবিহার পুরসভায় রাজনৈতিক অস্থিরতার আবহের মধ্যেই আরও এক গুরুত্বপূর্ণ পদত্যাগ সামনে এল। বর্তমান পুরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শ্রীমতী মায়া সাহা তাঁর পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। বুধবার (২২ জুলাই, ২০২৬) সদর মহকুমা শাসক তথা কোচবিহার পুরসভার প্রশাসকের উদ্দেশে একটি লিখিত পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে তিনি দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তের কথা জানান।

উল্লেখ্য, রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর বেশ কয়েক মাস কেটে গেলেও কোচবিহার পুরসভা বিরোধী দলের দখলেই ছিল। রাজনৈতিক চাপ ও টানাপোড়েনের আবহে গত ২০ জুলাই কোচবিহার পুরসভার চেয়ারম্যান দিলীপ সাহা সদর মহকুমা শাসকের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। তিনি তাঁর পদত্যাগের ক্ষেত্রে শারীরিক অসুস্থতার কথা উল্লেখ করেন। যদিও রাজনৈতিক মহলে এই ঘটনাকে ঘিরে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, তাঁর বাড়িকে লক্ষ্য করে হামলার ঘটনাও ঘটেছিল। যদিও সেই অভিযোগের সত্যতা নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা হয়নি।

চেয়ারম্যানের পদত্যাগের দু’দিনের মধ্যেই এবার পদত্যাগ করলেন ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মায়া সাহা। তাঁর জমা দেওয়া পদত্যাগপত্রে তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, দীর্ঘদিন ধরে চলা পারিবারিক সমস্যা, নিজের শারীরিক অসুস্থতা এবং তাঁর পুত্রের গুরুতর লিভার সিরোসিসজনিত অসুস্থতার কারণে কাউন্সিলরের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা তাঁর পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। তাই সমস্ত বিষয় বিবেচনা করেই তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং ২২ জুলাই থেকেই তা কার্যকর করার আবেদন জানিয়েছেন।

CT News Bangla-এর প্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মায়া সাহা বলেন, বর্তমানে পরিবারের দায়িত্ব এবং ছেলের চিকিৎসার জন্য তাঁকে অধিকাংশ সময় ব্যয় করতে হচ্ছে। সেই কারণে ওয়ার্ডবাসীর প্রয়োজন অনুযায়ী সময় দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারলে সেই পদে থেকে যাওয়াকে তিনি সমীচীন মনে করেন না। সেই কারণেই তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন।
পদত্যাগপত্রে তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে ওয়ার্ডবাসী এবং কোচবিহার পুরসভার নাগরিকদের সেবা করার চেষ্টা করেছেন। এই সময়ে পুরসভার প্রশাসন, সহকর্মী এবং সাধারণ মানুষের কাছ থেকে যে সহযোগিতা ও সমর্থন পেয়েছেন, তার জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে কোচবিহার পুরসভার উন্নয়ন এবং ৩ নম্বর ওয়ার্ডের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেছেন।
এদিকে, এই পদত্যাগকে ঘিরে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও শুরু হয়েছে। জেলা বিজেপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, বর্তমান চেয়ারম্যান বা কাউন্সিলরদের এই পদে থাকার কোনও নৈতিক অধিকার নেই। কারণ, তাদের দাবি অনুযায়ী রাজ্যের মানুষ ইতিমধ্যেই তাদের প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাই এই পদত্যাগ অবশ্যম্ভাবী ছিল এবং আগামী দিনে আরও জনপ্রতিনিধি পদত্যাগ করতে পারেন বলেও বিজেপি নেতৃত্বের ধারণা।তবে এই বিষয়ে শাসক দলের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
অসুস্থতার কারণেই পদত্যাগ, রাজনৈতিক চাপ নয়:সাক্ষাৎকারে বিস্ফোরক দাবি পৌরপ্রধানের
মায়া সাহার পদত্যাগপত্র গ্রহণের পর পুরসভার পক্ষ থেকে পরবর্তী প্রশাসনিক প্রক্রিয়া কীভাবে এগোয় এবং ৩ নম্বর ওয়ার্ডের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহল এবং সাধারণ মানুষের।
