ছাত্র- ছাত্রীদের সারা দেশজুড়ে আন্দোলন এ পিছু হাটলো কেন্দ্রীয় সরকার, অবশেষে কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান এর পদত্যাগ ।
অবশেষে পদত্যাগ। দেশ জুড়ে উত্তাল বিক্ষোভের জেরে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করলেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। নিট (NEET) প্রশ্নপত্র ফাঁস কাণ্ড, ধারাবাহিক দুর্নীতি এবং দেশজুড়ে তৈরি হওয়া অভূতপূর্ব বিক্ষোভের জেরেই তিনি পদত্যাগ করতে বাধ্য হন ।

দীর্ঘদিন ধরে চলা ছাত্র বিক্ষোভ, যন্তরমন্তর থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে হাজার হাজার পড়ুয়ার লাগাতার আন্দোলন এবং বিরোধী দলগুলির চরম চাপের মুখে এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয় কেন্দ্র।ইস্তফাপত্রে ধর্মেন্দ্র পৃরধান লিখেছেন, ‘গত ১০ দিনের ঘটনাক্রমে আমার মন ভারাক্রান্ত। দেশের যুবশক্তিই আসল শক্তি।

গত কয়েক মাস ধরে নিট ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস নিয়ে দেশজুড়ে অসন্তোষ দানা বেঁধেছিল। ‘ককরোচ জনতা পার্টির’ ব্যানারে এবং বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতৃত্বে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা রাজপথে নেমে আন্দোলন তীব্র করে তোলে। পুলিশের লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস এবং জলকামানের সামনে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে থেকে তাঁরা দাবি তুলেছিলেন—কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে এর আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পক্ষ থেকে ফাস্ট ট্র্যাক আদালত গঠন, কঠোর আইন আনার ঘোষণা এবং মধ্যরাতে পড়ুয়াদের উদ্দেশে বার্তা দেওয়ার মতো একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তাতেও আন্দোলন দমেনি। প্রায় এক মাস ধরে চলতে থাকা আন্দোলনে ইতি টানতে গতকাল ককরোচ জনতা পার্টির নেতৃত্বের সঙ্গে দ্বিতীয় দফায় বৈঠকে বসেছিলেন সরকারের দুই শীর্ষ মন্ত্রী, জেপি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিং। কিন্তু দু’ঘণ্টা আলোচনার শেষে ধর্মেন্দ্রর ইস্তফার দাবিতে অনড় ছিলেন CJP-র দুই প্রতিনিধি সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কা। ধর্মেন্দ্রকে সরানোর প্রশ্নে এদিন বিকেল পর্যন্ত সময়ও দেওয়া হয়। যা না-মানা হলে আন্দোলনের ঝাঁঝ আরও বাড়ানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন CJP নেতৃত্ব।
অন্যদিকে শনিবারও এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে উত্তাপ ছড়ায় দিল্লি সহ বিভিন্ন রাজ্যে। অবশেষে চাপের মুখে শেষপর্যন্ত ইস্তফা দিতেই হলো ধর্মেন্দ্র প্রধানকে। সরকারের এই পদক্ষেপে দেশজুড়ে রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে।
