জেলা বিচারকদের অবসরের বয়স ৬২ করার পক্ষে সুপ্রিম কোর্ট, সম্মতি ৭ রাজ্যের
জেলা বিচারকদের অবসরের বয়স ৬০ থেকে বাড়িয়ে ৬২ বছর করার পক্ষে সুপ্রিম কোর্ট। পশ্চিমবঙ্গসহ ৭ রাজ্য সম্মতি জানিয়েছে। ৬০ বছরে হবে কর্মদক্ষতার মূল্যায়ন।
জেলা বিচারকদের অবসরের বয়স ৬২ করার পক্ষে সুপ্রিম কোর্ট, তালিকায় পশ্চিমবঙ্গসহ ৭ রাজ্য

নয়াদিল্লি, ন্যাশনাল ডেস্ক ৯: জেলা বিচার বিভাগের বিচারকদের অবসরের বয়স ৬০ বছর থেকে বাড়িয়ে ৬২ বছর করার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ মত প্রকাশ করল ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। দেশের বিচার ব্যবস্থায় অভিজ্ঞ বিচারকদের আরও দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়ার লক্ষ্যে এই পদক্ষেপকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। আপাতত পশ্চিমবঙ্গসহ দেশের ৭টি রাজ্য এই প্রস্তাবের পক্ষে সম্মতি জানিয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের এই অবস্থানের ফলে পশ্চিমবঙ্গের জেলা ও অধস্তন আদালতের বিচারকরাও অবসরের বয়স বৃদ্ধির সুবিধা পেতে পারেন। তবে ৬০ বছর বয়স পূর্ণ করলেই সংশ্লিষ্ট বিচারক স্বয়ংক্রিয়ভাবে আরও দুই বছর দায়িত্বে বহাল থাকবেন না। তাঁর কাজের উপযুক্ততা ও কর্মদক্ষতা যাচাই করার পরই পরবর্তী সময়ের দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি নির্ধারিত হবে।
কোন কোন রাজ্য সম্মতি জানিয়েছে?
জেলা বিচারকদের অবসরের বয়স ৬২ বছর করার বিষয়ে যে সাতটি রাজ্য সম্মতি জানিয়েছে, সেগুলি হল—
পশ্চিমবঙ্গ
ছত্তিশগড়
কর্ণাটক
মধ্যপ্রদেশ
মহারাষ্ট্র
সিকিম
তামিলনাড়ু
এই রাজ্যগুলির সম্মতির ফলে সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলিতে জেলা বিচার বিভাগের বিচারকদের অবসর-সংক্রান্ত নিয়মে পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
৬০ বছর বয়সে হবে কর্মদক্ষতার মূল্যায়ন
প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল—৬০ বছর বয়স পূর্ণ করার পর সংশ্লিষ্ট বিচারকের কর্মদক্ষতা ও দায়িত্ব পালনের উপযুক্ততা যাচাই করা হবে। সংশ্লিষ্ট হাইকোর্ট এই মূল্যায়ন করবে।
অর্থাৎ, শুধু বয়সের ভিত্তিতে অবসরের সময়সীমা বাড়বে না। বিচারকের কাজের মান, কর্মদক্ষতা এবং দায়িত্ব পালনের উপযুক্ততা বিবেচনা করেই তাঁকে ৬২ বছর পর্যন্ত দায়িত্বে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এর ফলে দক্ষ ও অভিজ্ঞ বিচারকদের বিচার ব্যবস্থায় আরও বেশি সময় কাজে লাগানো সম্ভব হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
বাকি রাজ্যগুলিকেও পুনর্বিবেচনার বার্তা
শুধু যে সাতটি রাজ্য এই ব্যবস্থায় সম্মতি জানিয়েছে, তা নয়—দেশের অন্যান্য রাজ্যগুলিকেও বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করার জন্য বার্তা দিয়েছে শীর্ষ আদালত। ফলে আগামী দিনে আরও রাজ্য জেলা বিচারকদের অবসরের বয়স ৬২ বছর করার বিষয়ে সম্মতি জানাতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিচার ব্যবস্থায় অভিজ্ঞতার গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। দীর্ঘদিন ধরে বিচারিক দায়িত্ব পালন করা বিচারকদের অভিজ্ঞতা জটিল মামলা নিষ্পত্তি, প্রশাসনিক পরিচালনা এবং অধস্তন আদালতের কাজের গতি বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সেই দিক থেকে অবসরের বয়স বাড়ানোর উদ্যোগকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে কী প্রভাব পড়তে পারে?
পশ্চিমবঙ্গ ইতিমধ্যেই এই প্রস্তাবে সম্মতি জানিয়েছে। ফলে রাজ্যের জেলা বিচার বিভাগের বিচারকদের ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম কার্যকর হলে ৬০ বছর বয়সের পরও নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে আরও দুই বছর দায়িত্ব পালনের সুযোগ তৈরি হবে।
তবে পুরো বিষয়টি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে হাইকোর্টের মূল্যায়ন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। অর্থাৎ, ৬০ বছর বয়সে পৌঁছনোর পর বিচারকের কর্মদক্ষতা ও উপযুক্ততা যাচাই করে তবেই তাঁকে ৬২ বছর পর্যন্ত দায়িত্বে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বিচার ব্যবস্থায় সম্ভাব্য প্রভাব
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, অবসরের বয়স বাড়লে বিচার বিভাগের অভিজ্ঞ জনবল ধরে রাখা সম্ভব হতে পারে। বিশেষ করে জেলা আদালতগুলিতে দীর্ঘদিনের বিচারিক অভিজ্ঞতা থাকা বিচারকদের পরিষেবা আরও কিছুদিন পাওয়া গেলে জটিল ও গুরুত্বপূর্ণ মামলার নিষ্পত্তিতে তার ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
একইসঙ্গে কর্মদক্ষতা যাচাইয়ের শর্ত থাকায় বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে বিচারিক মান বজায় রাখার বিষয়টিও গুরুত্ব পাবে। ফলে একদিকে অভিজ্ঞ বিচারকদের পরিষেবা অব্যাহত রাখার সুযোগ তৈরি হবে, অন্যদিকে তাঁদের কাজের উপযুক্ততার মূল্যায়নও নিশ্চিত করা হবে।
সব মিলিয়ে, পশ্চিমবঙ্গসহ ৭টি রাজ্যের সম্মতির প্রেক্ষিতে জেলা বিচারকদের অবসরের বয়স ৬০ থেকে বাড়িয়ে ৬২ বছর করার বিষয়টি বিচার প্রশাসনে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এখন নজর থাকবে বাকি রাজ্যগুলি এই প্রস্তাব নিয়ে কী সিদ্ধান্ত নেয় এবং সংশ্লিষ্ট নিয়ম কীভাবে কার্যকর করা হয় তার দিকে।
