কিয়েভে ৭২ ঘণ্টা হামলা বন্ধের নির্দেশ পুতিনের, শান্তি আলোচনায় নতুন মোড়
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে কিয়েভে ৭২ ঘণ্টার হামলা স্থগিতের নির্দেশ। মস্কো ও কিয়েভ সফরে ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার।
কিয়েভে ৭২ ঘণ্টা হামলা বন্ধের নির্দেশ পুতিনের, শান্তি আলোচনায় নতুন মোড়
মস্কো/কিয়েভ, ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক ৩ : রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যেই ফের জোরালো হয়েছে কূটনৈতিক তৎপরতা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের মস্কো ও কিয়েভ সফরকে ঘিরে নতুন করে শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কিয়েভে ৭২ ঘণ্টার জন্য হামলা স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলে জানা যাচ্ছে।

তবে এই সিদ্ধান্তকে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি হিসেবে দেখা হচ্ছে না। মার্কিন প্রতিনিধিদের সফর এবং সম্ভাব্য আলোচনার জন্য সাময়িকভাবে উত্তেজনা কমানোর পদক্ষেপ হিসেবেই এই বিরতিকে দেখা হচ্ছে।
মস্কোর পর কিয়েভে মার্কিন প্রতিনিধিরা
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানের লক্ষ্যে কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার করতে ট্রাম্প প্রশাসনের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার মস্কোয় রুশ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেন। আলোচনায় যুদ্ধের সম্ভাব্য সমাধান এবং শান্তির পথ নিয়ে বিভিন্ন বিষয় উঠে আসে বলে জানা যাচ্ছে।
মস্কো সফরের পর মার্কিন প্রতিনিধিদের কিয়েভ যাওয়ার কথা রয়েছে। তাঁদের এই সফরের আগে কিয়েভে রুশ হামলা সাময়িক বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তকে তাই বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
শনিবার মধ্যরাত থেকে ৭২ ঘণ্টার বিরতি
ক্রেমলিনের তরফে জানানো হয়েছে, মার্কিন প্রতিনিধিদের নিরাপত্তা এবং কিয়েভে তাঁদের কূটনৈতিক তৎপরতার পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই তিন দিনের জন্য হামলা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এই ৭২ ঘণ্টার বিরতি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কার্যকর থাকবে। তবে এর ফলে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সামগ্রিক সামরিক পরিস্থিতিতে স্থায়ী পরিবর্তন আসবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
ইউক্রেনের তরফেও সংযমের বার্তা
রাশিয়ার সাময়িক হামলা স্থগিতের পাশাপাশি মার্কিন প্রতিনিধিদের সফর চলাকালীন ইউক্রেনও মস্কোর বিরুদ্ধে হামলা থেকে বিরত থাকার ঘোষণা দিয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
দুই পক্ষের এই সাময়িক সংযমকে কূটনৈতিক আলোচনার ক্ষেত্রে ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন পর্যবেক্ষকদের একাংশ। তবে ৭২ ঘণ্টার বিরতি শেষ হওয়ার পর দুই দেশের সামরিক অবস্থান কী হয়, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
দীর্ঘ যুদ্ধের মাঝে ফের শান্তির উদ্যোগ
রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা সংঘাতে প্রাণহানি ও ব্যাপক পরিকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। যুদ্ধ বন্ধে বিভিন্ন সময়ে আন্তর্জাতিক মহলের তরফে একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হলেও এখনও পর্যন্ত স্থায়ী শান্তিচুক্তি সম্ভব হয়নি।
এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্প প্রশাসনের বিশেষ দূতদের মস্কো ও কিয়েভ সফর নতুন করে আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি করেছে। দুই পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতির কোনও কার্যকর কাঠামো তৈরি করতে পারে কি না, এখন সেদিকেই নজর আন্তর্জাতিক মহলের।
৭২ ঘণ্টার বিরতি কি বড় চুক্তির সূচনা?
কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, মাত্র তিন দিনের সাময়িক বিরতি দিয়ে দীর্ঘস্থায়ী রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের সমাধান সম্ভব নয়। তবে এই সময়ের মধ্যে যদি সরাসরি আলোচনা এগিয়ে নেওয়া যায় এবং দু’পক্ষের মধ্যে আস্থার পরিবেশ তৈরি হয়, তাহলে ভবিষ্যতে বৃহত্তর যুদ্ধবিরতি বা শান্তিচুক্তির পথ খুলতে পারে।
বিশেষ করে একই সময়ে মার্কিন প্রতিনিধিদের মস্কো ও কিয়েভ সফর এবং দুই পক্ষের সাময়িক সামরিক সংযম—এই ঘটনাগুলিকে কূটনৈতিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
এখন নজর আলোচনার ফলাফলে
৭২ ঘণ্টার বিরতি শেষ হওয়ার পর রাশিয়া ও ইউক্রেনের সামরিক পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, সেটিই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। পাশাপাশি উইটকফ ও কুশনারের সফর থেকে কোনও বাস্তবসম্মত শান্তি-প্রস্তাব বা দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধবিরতির কাঠামো সামনে আসে কি না, সেদিকেও নজর রয়েছে।
আপাতত স্থায়ী শান্তির কোনও নিশ্চয়তা তৈরি হয়নি। তবে দীর্ঘ যুদ্ধের মধ্যেই এই সাময়িক বিরতি এবং নতুন করে মার্কিন কূটনৈতিক তৎপরতা রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের সমাধানের পথে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকদের একাংশ।
