কেতন আগরওয়াল হত্যা মামলায় বড় মোড়, ষড়যন্ত্রের অভিযোগে গ্রেপ্তার রীতেশ হাঙ্গে
কেতন আগরওয়াল হত্যা মামলায় নতুন গ্রেপ্তার। ষড়যন্ত্রের অভিযোগে রীতেশ হাঙ্গেকে গ্রেপ্তার করেছে পুণে গ্রামীণ পুলিশ। তদন্তে উঠে আসছে পূর্বপরিকল্পনার তথ্য।
কেতন আগরওয়াল হত্যা মামলায় বড় মোড়, ষড়যন্ত্রের অভিযোগে গ্রেপ্তার রীতেশ হাঙ্গে
পুণে, ন্যাশনাল ডেস্ক ৪ : কেতন আগরওয়াল হত্যা মামলার তদন্তে ফের বড়সড় মোড়। হত্যাকাণ্ডের পূর্বপরিকল্পনা ও ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে রীতেশ হাঙ্গে ওরফে রীতেশ হিঙ্গেকে গ্রেপ্তার করেছে পুণে গ্রামীণ পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, মূল অভিযুক্ত চেতন চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ বন্ধু রীতেশ হত্যার পরিকল্পনা সম্পর্কে আগে থেকেই অবগত ছিলেন।

রীতেশের গ্রেপ্তারের পর মামলার তদন্ত আরও জটিল হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের আগে ও পরে অভিযুক্তদের মধ্যে কী ধরনের যোগাযোগ হয়েছিল, সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
হত্যার পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতেন রীতেশ?
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে আসা তথ্য অনুযায়ী, কেতন আগরওয়ালকে কীভাবে হত্যা করা হবে এবং ঘটনার পর তাঁর দেহ কীভাবে সরিয়ে দেওয়া হবে—সেই পরিকল্পনা সম্পর্কে রীতেশ আগে থেকেই জানতেন বলে অভিযোগ।
তদন্তকারীদের দাবি, কেতনের হাত-পা ভেঙে তাঁকে সম্পূর্ণভাবে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনার বিষয়েও রীতেশ অবগত ছিলেন। তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই তাঁকে ষড়যন্ত্রের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুণে (গ্রামীণ) পুলিশ সুপার সন্দীপ সিংহ গিলের বক্তব্য অনুযায়ী, তদন্তে এমন কিছু তথ্য পাওয়া গিয়েছে, যা কেতন হত্যার পরিকল্পনার সঙ্গে রীতেশের যোগসূত্রের ইঙ্গিত দেয়।
হত্যার পরও যোগাযোগের অভিযোগ
পুলিশের দাবি, কেতনকে হত্যার পর চেতন চৌধুরী মোবাইল ফোনের মাধ্যমে রীতেশের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন এবং তাঁকে ঘটনার কথা জানিয়েছিলেন। এই যোগাযোগের বিষয়টিকে তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে দেখা হচ্ছে।
চেতন ও রীতেশের মধ্যে কথোপকথন, যোগাযোগের সময় এবং হত্যাকাণ্ডের আগে-পরে তাঁদের গতিবিধি খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। একই সঙ্গে এই ঘটনায় আরও কেউ জড়িত ছিলেন কি না, সেই সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছে না পুলিশ।
আগেই গ্রেপ্তার সিয়া ও চেতন
এই মামলায় রীতেশের আগে কেতনের বাগদত্তা সিয়া গোয়েল এবং সিয়ার প্রেমিক চেতন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। গত জুনে লোহগড় দুর্গ থেকে কেতনকে ফেলে দেওয়ার ঘটনার পর থেকেই তদন্ত শুরু করে পুলিশ।
তদন্ত এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে কেতন ও অভিযুক্তদের পারস্পরিক সম্পর্ক, তাঁদের যোগাযোগ এবং ঘটনার আগে-পরে গতিবিধি নিয়ে একাধিক তথ্য সামনে আসে বলে পুলিশের দাবি।
পূর্বপরিকল্পিত হত্যার তত্ত্ব খতিয়ে দেখছে পুলিশ
রীতেশের গ্রেপ্তারের পর তদন্তকারীদের মূল নজর এখন হত্যাকাণ্ডের পূর্বপরিকল্পনার দিকে। কেতনকে হত্যার সিদ্ধান্ত কখন এবং কীভাবে নেওয়া হয়েছিল, পরিকল্পনায় কারা যুক্ত ছিলেন এবং ঘটনার পর দেহ সরানো বা প্রমাণ লোপাটের কোনও পরিকল্পনা ছিল কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা।
পুলিশের আশা, রীতেশকে জিজ্ঞাসাবাদ করে হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা এবং অভিযুক্তদের পারস্পরিক ভূমিকা সম্পর্কে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
আদালতেই নির্ধারিত হবে অভিযোগের সত্যতা
নতুন গ্রেপ্তারের ফলে কেতন আগরওয়াল হত্যা মামলায় তদন্তের পরিধি আরও বাড়ল। পুলিশের দাবি অনুযায়ী, ঘটনাটি আকস্মিক নয়, বরং এর পিছনে পূর্বপরিকল্পনা থাকতে পারে। তবে রীতেশ হাঙ্গের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এখনও তদন্তাধীন এবং অভিযোগের সত্যতা আদালতের বিচারপ্রক্রিয়ার মাধ্যমেই চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হবে।
এখন তদন্তকারীদের নজর রীতেশের জিজ্ঞাসাবাদ, অভিযুক্তদের পারস্পরিক যোগাযোগ এবং হত্যাকাণ্ডের আগে-পরে তাঁদের ভূমিকার দিকে। এই ঘটনায় আরও কেউ জড়িত কি না, আগামী তদন্তেই তা স্পষ্ট হতে পারে।
