SRCC শতবর্ষে মোদী, ২০৪৭-এর বিকশিত ভারতের লক্ষ্যে যুবশক্তিকে আহ্বান
SRCC-এর শতবর্ষ উদযাপনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বক্তব্য। ‘পলিসি প্যারালাইসিস’ থেকে ‘পলিসি ডায়নামিজম’, ৭.৮% GDP বৃদ্ধি, Make in India এবং ২০৪৭-এর বিকশিত ভারত নিয়ে বড় বার্তা।
SRCC-র শতবর্ষের মঞ্চে মোদী, ২০৪৭-এর বিকশিত ভারতের লক্ষ্যে যুবশক্তিকে এগিয়ে আসার আহ্বান
নয়াদিল্লি, ন্যাশনাল ডেস্ক ৪: দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি, নীতিগত সংস্কার এবং ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার লক্ষ্যে যুবসমাজের ভূমিকার উপর বিশেষ জোর দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দিল্লির শ্রী রাম কলেজ অফ কমার্স (SRCC)-এর শতবর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি দাবি করেন, গত এক দশকে ‘পলিসি প্যারালাইসিস’-এর পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে ভারত এখন ‘পলিসি ডায়নামিজম’-এর পথে এগিয়েছে।

প্রায় ১৩ বছর পর SRCC-এর মঞ্চে ফিরে এসে দেশের অর্থনীতি, সংস্কার, উৎপাদন শিল্প, প্রযুক্তি এবং ভবিষ্যতের সম্ভাবনা নিয়ে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর ভাষণের অন্যতম প্রধান বিষয় ছিল দেশের তরুণ প্রজন্ম এবং ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতকে একটি উন্নত অর্থনীতিতে পরিণত করার লক্ষ্য।
‘পলিসি প্যারালাইসিস’ থেকে ‘পলিসি ডায়নামিজম’
২০১৩ সালের ভারতের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে মোদী বলেন, সেই সময় দেশ নীতিগত জটিলতা ও সিদ্ধান্তহীনতার মতো সমস্যার মুখোমুখি হয়েছিল। বর্তমানে সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য, সরকার এখন কোনও সমস্যা তৈরি হওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে আগাম পরিকল্পনা, সংস্কার এবং সুশাসনের মাধ্যমে অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করার দিকে গুরুত্ব দিচ্ছে। তাঁর কথায়, ভারত এখন দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নীতিগত পরিবর্তনের মাধ্যমে নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরি করছে।
৭.৮ শতাংশ GDP বৃদ্ধির প্রসঙ্গ
বিশ্ব অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা এবং ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেও ভারতের অর্থনীতি শক্তিশালী গতিতে এগোচ্ছে বলে দাবি করেন প্রধানমন্ত্রী। বক্তব্যে তিনি ভারতের ৭.৮ শতাংশ ত্রৈমাসিক GDP বৃদ্ধির হার তুলে ধরেন।
তাঁর মতে, অর্থনৈতিক অগ্রগতি শুধু GDP-র পরিসংখ্যানেই সীমাবদ্ধ নয়। উৎপাদন, পরিকাঠামো, প্রযুক্তি, ডিজিটাল অর্থনীতি এবং কর্মসংস্থানের মতো ক্ষেত্রেও ভারতের পরিবর্তন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
‘মেক ইন ইন্ডিয়া’-র সাফল্যের দাবি
উৎপাদন ক্ষেত্রের প্রসঙ্গে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগের সাফল্যের কথা তুলে ধরেন মোদী। তাঁর দাবি, বর্তমানে ভারতে ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের প্রায় ৯৯ শতাংশই দেশে তৈরি হচ্ছে।
একসময় প্রযুক্তিপণ্যের ক্ষেত্রে আমদানিনির্ভরতার যে ছবি ছিল, উৎপাদন বৃদ্ধি, বিনিয়োগ এবং নীতিগত পরিবর্তনের ফলে সেই পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
ভারতকে শুধু বিশ্বের অন্যতম বড় বাজার নয়, বরং উৎপাদন ও উদ্ভাবনের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে বলেও জানান তিনি।
Gen Z-কে বার্তা, ভাষণে ‘OG’ ও ‘Flex’
SRCC-এর তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ তৈরি করতে ভাষণে একাধিক জনপ্রিয় Gen Z শব্দও ব্যবহার করেন প্রধানমন্ত্রী। কলেজের প্রাক্তনীদের সাফল্যের প্রশংসা করতে গিয়ে তাঁদের ‘OG’ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
SRCC-এর সঙ্গে যুক্ত থাকার গর্ব বোঝাতে ‘Flex’ শব্দটিও ব্যবহার করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে SRCC-এর প্রাক্তনীদের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথা।
অর্থনীতি, প্রশাসন, ব্যবসা, রাজনীতি-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এই প্রতিষ্ঠানের প্রাক্তনীরা নেতৃত্ব দিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
স্মরণে অরুণ জেটলি
SRCC-এর প্রাক্তন ছাত্র এবং দেশের প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলিকেও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী।
জেটলির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কেবল ডিগ্রি দেওয়ার জায়গা নয়; দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দেওয়ার মতো প্রতিভা তৈরিতেও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
তরুণদের উদ্দেশে রসিকতার সুরে SRCC-এর প্রাক্তনীদের সাফল্যের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
২০৪৭-এর ‘বিকশিত ভারত’, লক্ষ্য তরুণ প্রজন্ম
স্বাধীনতার ১০০ বছর পূর্তিতে অর্থাৎ ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতকে একটি উন্নত দেশে পরিণত করার লক্ষ্যের কথাও ফের সামনে আনেন মোদী।
তাঁর মতে, ভারতের বিপুল তরুণ জনসংখ্যা দেশের অন্যতম বড় শক্তি। এই জনসংখ্যাগত সুবিধাকে দক্ষতা, শিক্ষা, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে কাজে লাগাতে পারলে আগামী কয়েক দশকে ভারত বিশ্ব অর্থনীতিতে আরও শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে পারবে।
তরুণদের শুধু চাকরি খোঁজার মধ্যে নিজেদের সীমাবদ্ধ না রেখে উদ্যোক্তা, উদ্ভাবক এবং নতুন উদ্যোগের স্রষ্টা হওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
ম্যানুফ্যাকচারিং ও স্কিলিং হাব হওয়ার লক্ষ্য
আগামী দিনের ভারতের জন্য দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির উপরও জোর দেন মোদী। তাঁর মতে, আধুনিক প্রযুক্তি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং উন্নত উৎপাদন ব্যবস্থার সঙ্গে তাল মিলিয়ে ভারতকে আরও এগিয়ে যেতে হবে।
ভারতকে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ম্যানুফ্যাকচারিং ও স্কিলিং হাব হিসেবে গড়ে তুলতে তরুণদের জ্ঞান, দক্ষতা এবং উদ্ভাবনী ক্ষমতাকে কাজে লাগানোর প্রয়োজন রয়েছে বলে জানান তিনি।
তাঁর বক্তব্য, ভবিষ্যতের ভারত শুধু বিশ্বের জন্য পণ্য তৈরি করবে না; প্রযুক্তি, উদ্ভাবন, দক্ষতা এবং নতুন ধারণার ক্ষেত্রেও নেতৃত্ব দেবে।
১৩ বছর পর SRCC-এর মঞ্চে মোদী
SRCC-এর শতবর্ষ উদযাপনে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি ছিল অনুষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আকর্ষণ। প্রায় ১৩ বছর পর একই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মঞ্চে ফিরে এসে তিনি অতীতের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে বর্তমান ভারতের তুলনা করেন।
অর্থনৈতিক সংস্কার থেকে নীতিগত সিদ্ধান্ত, উৎপাদন থেকে প্রযুক্তি এবং যুবশক্তি থেকে ২০৪৭-এর জাতীয় লক্ষ্য—তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
মেট্রোয় চেপে অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী
শতবর্ষের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে দিল্লি মেট্রোয় করে SRCC প্রাঙ্গণে পৌঁছন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাঁর এই মেট্রো সফরও অনুষ্ঠানের অন্যতম আলোচিত বিষয় হয়ে ওঠে।
কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান-সহ একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। শতবর্ষ উপলক্ষে কলেজের ঐতিহ্য, প্রাক্তনীদের অবদান এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও তুলে ধরা হয়।
যুবশক্তিকে সামনে রেখেই ‘বিকশিত ভারত’-এর লক্ষ্য
SRCC-এর শতবর্ষের মঞ্চ থেকে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের মূল সুর ছিল—অর্থনৈতিক সংস্কার ও নীতিগত পরিবর্তনের পাশাপাশি ভারতের ভবিষ্যৎ নির্মাণে যুবসমাজকেই সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে কাজে লাগানো।
শিক্ষা, দক্ষতা, প্রযুক্তি, উদ্ভাবন এবং উদ্যোক্তা মানসিকতার মাধ্যমে দেশের তরুণরা এগিয়ে এলে ২০৪৭ সালের ‘বিকশিত ভারত’-এর লক্ষ্য অর্জনের পথ আরও শক্তিশালী হবে—এই বার্তাই এদিনের ভাষণে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
