রেকর্ড অষ্টমবার এশিয়া কাপ জয় ভারতের, ট্রফি গ্রহণ ঘিরে বিতর্ক
শ্রীলঙ্কাকে ৭২ রানে হারিয়ে রেকর্ড অষ্টমবার উইমেনস এশিয়া কাপ জিতল ভারত। তবে ট্রফি গ্রহণ না করায় পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান ঘিরে তৈরি হয়েছে বিতর্ক।
রেকর্ড অষ্টমবার এশিয়া কাপ জয় ভারতের, ট্রফি গ্রহণ ঘিরে বিতর্কের ঝড়

দুবাই, স্পোর্টস্ ডেস্ক ২ : মাঠে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে রেকর্ড অষ্টমবারের মতো উইমেনস এশিয়া কাপের শিরোপা নিজেদের ঘরে তুলল ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দল। রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে শ্রীলঙ্কাকে ৭২ রানে হারিয়ে এশিয়া সেরার মুকুট ছিনিয়ে নেয় হরমনপ্রীত কৌরের নেতৃত্বাধীন ভারত। তবে ম্যাচের ফলাফলের পাশাপাশি পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানকে ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক।
ফাইনালে ভারত প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৮৩ রান তোলে। দলের হয়ে ইনিংসের শুরুতেই স্মৃতি মান্ধানা ও শেফালি বর্মা দুর্দান্ত ব্যাটিং করেন। দুজনের উদ্বোধনী জুটিতে আসে ১২৯ রান, যা ভারতের বড় রানের ভিত গড়ে দেয়। এই শক্তিশালী শুরু পরবর্তীতে ভারতকে বড় স্কোরে পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।
১৮৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে শ্রীলঙ্কা। ভারতীয় বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট হারাতে থাকে তারা। শেষ পর্যন্ত মাত্র ১১১ রানে অলআউট হয়ে যায় শ্রীলঙ্কার ইনিংস। ভারতের হয়ে এন শ্রী চারণী দুর্দান্ত বোলিং করে চারটি উইকেট তুলে নেন।
ফলে ৭২ রানের বড় ব্যবধানে জয় পেয়ে রেকর্ড অষ্টমবারের মতো মহিলা এশিয়া কাপের চ্যাম্পিয়ন হয় ভারত। মাঠে তখন ভারতীয় ক্রিকেটারদের উচ্ছ্বাস চোখে পড়ার মতো ছিল। কিন্তু ম্যাচ শেষ হওয়ার পর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান ঘিরে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
ট্রফি গ্রহণ ঘিরে নজিরবিহীন বিতর্ক
ম্যাচ শেষ হওয়ার পর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান শুরু হতে প্রায় ৪৫ মিনিট দেরি হয়। অনুষ্ঠানের মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের সভাপতি তথা পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভী। কিন্তু ভারতীয় দলের পক্ষ থেকে তাঁর হাত থেকে চ্যাম্পিয়ন ট্রফি গ্রহণ করা হয়নি বলে জানা যায়।
ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের অবস্থান ছিল, পাকিস্তানের কোনও শীর্ষ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের কাছ থেকে ভারতীয় দল ট্রফি গ্রহণ করবে না। সেই সিদ্ধান্তের সঙ্গে ভারতীয় দলের প্রধান কোচ অমল মুজুমদারও একমত বলে জানানো হয়। ফলে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পরও ট্রফি নেওয়ার জন্য ভারতীয় দলের সদস্যদের মঞ্চে দেখা যায়নি।
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন নাকভী রানার্স-আপ শ্রীলঙ্কা দলের হাতে চেক ও মেডেল তুলে দেন। এরপর ভারতীয় দলের জন্য ট্রফি বা ব্যক্তিগত পুরস্কার বিতরণের কোনও আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন না করেই সম্প্রচার বন্ধ হয়ে যায় বলে জানা যায়। পরে নাকভী মঞ্চ ত্যাগ করেন।
অন্যদিকে ভারতীয় দলের ক্রিকেটাররা মাঠের একপাশে বিসিসিআই কর্তাদের উপস্থিতিতে নিজেদের মধ্যে মেডেল পর্ব সম্পন্ন করেন। ফলে এশিয়া কাপের ফাইনালের শেষ দৃশ্য হয়ে ওঠে অত্যন্ত ব্যতিক্রমী।
পুরুষ দলের ঘটনারই পুনরাবৃত্তি?
এই ঘটনা নতুন নয়। গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে পুরুষদের এশিয়া কাপের ফাইনালেও প্রায় একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। সেবারও ভারতীয় পুরুষ ক্রিকেট দল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর মহসিন নাকভীর হাত থেকে ট্রফি গ্রহণ করেনি।
ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনার প্রভাব ক্রিকেটেও পড়েছে। বিশেষ করে পহেলগাম জঙ্গি হামলা এবং তার পরবর্তী অপারেশন সিঁদুর-কে কেন্দ্র করে দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েন আরও তীব্র হয়। সেই প্রেক্ষাপটে ভারতীয় ক্রিকেটের পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়েও বারবার আলোচনা হয়েছে।
বিসিসিআই সম্পাদক দেবজিৎ সাইকিয়ার বক্তব্য অনুযায়ী, পুরুষ দলের নেওয়া অবস্থানের সঙ্গে সংহতি জানিয়েই এবার ভারতীয় মহিলা দলও একই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
মাঠে ভারতের দাপট, মাঠের বাইরেও চর্চায় ফাইনাল
একদিকে শ্রীলঙ্কাকে ৭২ রানে হারিয়ে ভারতীয় মহিলা দলের রেকর্ড অষ্টম এশিয়া কাপ জয় ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য বড় সাফল্য। অন্যদিকে ট্রফি গ্রহণ না করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মহলে শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা।
ফাইনালের পর তাই একই সঙ্গে দুটি বিষয় সামনে এসেছে—একটি ভারতের অসাধারণ ক্রিকেটীয় সাফল্য এবং অন্যটি পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে তৈরি হওয়া নজিরবিহীন পরিস্থিতি। শিরোপা জয়ের আনন্দের মধ্যেই ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দলকে ঘিরে এই বিতর্ক আগামী দিনে আরও কতটা জলঘোলা করে, এখন সেদিকেই নজর ক্রিকেটমহলের।
