কোচবিহার রাসমেলায় ৫০টি স্বনির্ভর গোষ্ঠীর স্টল, মহিলাদের তৈরি পণ্য বিক্রির উদ্যোগ
কোচবিহার রাসমেলায় এবার স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের জন্য ৫০টি বিশেষ স্টল। হস্তশিল্প ও বিভিন্ন পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রির মাধ্যমে বাড়বে আয়ের সুযোগ।
রাসমেলায় ৫০টি স্বনির্ভর গোষ্ঠীর স্টল, মহিলাদের তৈরি পণ্যে বিশেষ নজর
কোচবিহার, ডিস্ট্রিক্ট ডেস্ক ৮: ঐতিহ্যবাহী কোচবিহার রাসমেলাকে ঘিরে এবার স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের জন্য বিশেষ উদ্যোগ জেলা প্রশাসনের। মেলা প্রাঙ্গণে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যদের তৈরি বিভিন্ন সামগ্রী প্রদর্শন ও বিক্রির জন্য তৈরি করা হবে ৫০টি বিশেষ স্টল। এর ফলে মেলায় আগত দর্শনার্থীরা যেমন স্থানীয় মহিলাদের তৈরি পণ্য কেনার সুযোগ পাবেন, তেমনই স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যদের আয়ের পথও আরও প্রসারিত হবে।

এই উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন নারী, শিশু ও সমাজকল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী মালতি রাভা। রাসমেলার প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে এদিন মেলা মাঠ সংলগ্ন স্টেডিয়াম মাঠ পরিদর্শন করেন তিনি। তাঁর সঙ্গে ছিলেন কোচবিহারের জেলা শাসক জিতিন যাদব-সহ জেলা প্রশাসন ও পুরসভার আধিকারিকরা।
পরিদর্শনের সময় রাসমেলাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন পরিকাঠামোগত প্রস্তুতি নিয়ে আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনা করেন মন্ত্রী। বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয় স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের জন্য নির্ধারিত ৫০টি স্টলের ব্যবস্থা এবং সেখানে তাঁদের তৈরি পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রির বিষয়টিতে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, এই স্টলগুলিতে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের তৈরি বিভিন্ন ধরনের সামগ্রী রাখা হবে। হস্তশিল্প, ঘরোয়া ব্যবহার্য পণ্য-সহ নানা ধরনের সামগ্রী সরাসরি ক্রেতাদের কাছে বিক্রির সুযোগ পাবেন গোষ্ঠীর সদস্যরা। ফলে রাসমেলায় আসা দর্শনার্থীদের কাছে স্থানীয়ভাবে তৈরি পণ্য তুলে ধরার পাশাপাশি তাঁদের ব্যবসারও প্রসার ঘটবে।
জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগকে মহিলাদের আর্থিক স্বনির্ভরতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এতদিন সীমিত পরিসরে যে পণ্যগুলি বিক্রি হত, রাসমেলার মতো বড় জনসমাগমের মঞ্চে সেগুলি তুলে ধরার সুযোগ পেলে স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলির বাজার আরও বড় হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
কোচবিহারের রাসমেলা উত্তরবঙ্গের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী ও জনপ্রিয় মেলা। প্রতিবছর মেলাকে কেন্দ্র করে জেলার পাশাপাশি বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষের সমাগম হয়। সেই বিশাল জনসমাগমকে কাজে লাগিয়ে স্থানীয় স্বনির্ভর গোষ্ঠীর উৎপাদিত পণ্যের প্রচার ও বিপণনে জোর দিতে চাইছে প্রশাসন।
মন্ত্রী ও প্রশাসনিক আধিকারিকদের পরিদর্শনের পর রাসমেলার প্রস্তুতিতে তৎপরতা আরও বাড়ানো হয়েছে। মেলা শুরুর আগেই পরিকাঠামোগত কাজ শেষ করার পাশাপাশি স্বনির্ভর গোষ্ঠীর জন্য নির্ধারিত স্টলগুলিও প্রস্তুত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে এবারের কোচবিহার রাসমেলায় ঐতিহ্য ও বিনোদনের পাশাপাশি মহিলাদের স্বনির্ভরতা, স্থানীয় পণ্যের প্রচার এবং ক্ষুদ্র ব্যবসার প্রসারেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ৫০টি স্টলকে ঘিরে মেলার বাণিজ্যিক পরিসরেও নতুন মাত্রা যোগ হবে বলে আশা প্রশাসনের।
