রাজ্যে ডেঙ্গি আক্রান্ত ৫ হাজার পেরোল, নজরদারিতে বিশেষ ‘ডেঙ্গি অবজার্ভার টিম’
পশ্চিমবঙ্গে চলতি মরশুমে ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা ৫ হাজার পেরিয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় দৈনিক ডেঙ্গি বুলেটিন, বিশেষ পর্যবেক্ষক দল এবং প্লেটলেট-সহ রক্তের উপাদান মজুতের নির্দেশ স্বাস্থ্য দফতরের।
রাজ্যে ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা পেরোল ৫ হাজার! নজরদারিতে বিশেষ দল

সিটি নিউজ বাংলা, স্টেট ডেস্ক ৩ : বর্ষার মরশুমে ফের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে ডেঙ্গি। পশ্চিমবঙ্গে চলতি মরশুমে ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা ইতিমধ্যেই ৫ হাজারের গণ্ডি পেরিয়ে গিয়েছে। কলকাতা-সহ একাধিক জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকায় পরিস্থিতির উপর বিশেষ নজরদারি শুরু করেছে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর।
ডেঙ্গির সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিকে আরও সক্রিয় করার পাশাপাশি রোগীদের শারীরিক পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণের উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক কমিয়ে সচেতনতা বাড়াতেও একাধিক পদক্ষেপ করা হয়েছে।
প্রতিদিন প্রকাশিত হবে ডেঙ্গি বুলেটিন
ডেঙ্গি পরিস্থিতি সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে নিয়মিত তথ্য জানাতে স্বাস্থ্য দফতরের পক্ষ থেকে দৈনিক ডেঙ্গি বুলেটিন প্রকাশ শুরু করা হয়েছে। আক্রান্তের সংখ্যা, পরিস্থিতির পরিবর্তন এবং বিভিন্ন এলাকার সংক্রমণের প্রবণতা সম্পর্কে আপডেট দেওয়ার মাধ্যমে পরিস্থিতি সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা দেওয়াই এর অন্যতম লক্ষ্য।
স্বাস্থ্য দফতরের নজরে রয়েছে কলকাতা-সহ রাজ্যের বেশ কয়েকটি এলাকা, যেখানে সাম্প্রতিক সময়ে ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা তুলনামূলক দ্রুত বাড়ছে।
হাসপাতালগুলিতে বিশেষ ‘ডেঙ্গি অবজার্ভার টিম’
পরিস্থিতি মোকাবিলায় হাসপাতাল এবং স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। এর জন্য তৈরি করা হয়েছে বিশেষ ‘ডেঙ্গি অবজার্ভার টিম’। চিকিৎসক ও নার্সদের নিয়ে গঠিত এই বিশেষ দলগুলি ডেঙ্গি আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা এবং শারীরিক অবস্থার উপর নজর রাখবে।
বিশেষ করে যেসব রোগীর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসা পরিষেবা নিশ্চিত করার উপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
প্লাজমা ও প্লেটলেট মজুত রাখার নির্দেশ
ডেঙ্গি মোকাবিলায় রক্তের জোগান যাতে কোনওভাবেই সমস্যায় না পড়ে, সেদিকেও বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে স্বাস্থ্য দফতর। রাজ্যের সমস্ত সরকারি ব্লাড ব্যাঙ্কে পর্যাপ্ত প্লাজমা ও প্লেটলেটের জোগান নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ডেঙ্গির ক্ষেত্রে কিছু রোগীর রক্তে প্লেটলেটের মাত্রা কমে যেতে পারে। সেই পরিস্থিতিতে প্রয়োজন অনুযায়ী রক্তের উপাদান সরবরাহে যাতে কোনও ঘাটতি না হয়, তার জন্য আগাম প্রস্তুতি রাখছে স্বাস্থ্য দফতর।
প্রতিদিন পোর্টালে আপলোড করতে হবে রোগীর তথ্য
শুধু হাসপাতাল বা ব্লাড ব্যাঙ্কের উপর নজরদারি নয়, ডেঙ্গি আক্রান্ত রোগীদের ক্লিনিক্যাল পরিস্থিতি সম্পর্কেও নিয়মিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
রাজ্যের প্রতিটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রকে প্রতিদিন ডেঙ্গি আক্রান্ত রোগীদের ক্লিনিক্যাল অবস্থা সংশ্লিষ্ট পোর্টালে আপলোড করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে কোথায় আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে এবং কোন রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছে, সেই বিষয়ে স্বাস্থ্য দফতর দ্রুত তথ্য পেতে পারবে।
আতঙ্ক নয়, সচেতন থাকার বার্তা
ডেঙ্গির আক্রান্তের সংখ্যা ৫ হাজার ছাড়িয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে স্বাস্থ্য দফতরের পক্ষ থেকে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক ও সচেতন থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিশেষ করে জ্বর, শরীর ব্যথা, মাথাব্যথা, দুর্বলতা কিংবা ডেঙ্গির মতো কোনও উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। নিজের থেকে ওষুধ না খেয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরীক্ষা ও চিকিৎসা করানো জরুরি।
বাড়ির আশপাশে জমা জল নিয়ে সতর্কতা
ডেঙ্গির মশা যাতে বংশবিস্তার করতে না পারে, তার জন্য বাড়ি ও আশপাশের এলাকায় জল জমতে না দেওয়ার উপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, টায়ার, ছাদ কিংবা অন্য কোনও জায়গায় জমে থাকা জল দ্রুত পরিষ্কার করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, রাজ্যে ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা ৫ হাজারের গণ্ডি পেরিয়ে যাওয়ার পর স্বাস্থ্য দফতরের নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে। দৈনিক বুলেটিন, বিশেষ পর্যবেক্ষক দল, সরকারি ব্লাড ব্যাঙ্কে প্লেটলেট ও প্লাজমার জোগান এবং প্রতিদিন রোগীর ক্লিনিক্যাল তথ্য আপডেট—একাধিক পদক্ষেপের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা চলছে। এখন সাধারণ মানুষের সচেতনতা এবং প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়ই ডেঙ্গি মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে
