৩৬ হাজার ফুটে বিমানের ইঞ্জিনে তেলের লিক! ইঞ্জিন বন্ধ করে কোচিতে ফিরল Air India Express
৩৬ হাজার ফুট উচ্চতায় Air India Express-এর বিমানের ইঞ্জিনে তেলের চাপ বিপজ্জনকভাবে কমে যায়। ইঞ্জিন বন্ধ করে নিরাপদে কোচিতে ফেরানো হয় বিমানটি। যাত্রীদের জন্য বিকল্প ফ্লাইটের ব্যবস্থা।
৩৬ হাজার ফুট উচ্চতায় বিমানে তেলের লিক! নিরাপদে কোচিতে অবতরণ Air India Express।

।
কোচি, ৭ সেপ্টেম্বর, ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক ২: মাঝ আকাশে হঠাৎ বিমানের তেলের পরিমাণ দ্রুত কমতে শুরু করায় বড়সড় বিপদের মুখে পড়ল Air India Express-এর একটি বিমান। কোচি থেকে আবু ধাবির উদ্দেশে উড়ে যাওয়ার প্রায় ৫০ মিনিট পর, প্রায় ৩৬,০০০ ফুট উচ্চতায় বিমানের একটি ইঞ্জিনে তেলের মাত্রা দ্রুত কমে যাওয়ার বিষয়টি ক্রুদের নজরে আসে। পরিস্থিতি বুঝে তড়িঘড়ি নিরাপত্তামূলক পদক্ষেপ করেন পাইলট।
জানা গিয়েছে, বিমানের ইঞ্জিনের তেলের চাপ ধীরে ধীরে বিপজ্জনক মাত্রায় পৌঁছে যাচ্ছিল। পরিস্থিতি আরও গুরুতর হওয়ার আগেই স্ট্যান্ডার্ড সেফটি প্রোটোকল মেনে সংশ্লিষ্ট ইঞ্জিনটি বন্ধ করে দেন পাইলট। এরপর ঝুঁকি না নিয়ে বিমানটিকে ফের কোচি বিমানবন্দরের দিকে ঘুরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
৩৬ হাজার ফুট উচ্চতায় বিপদের সংকেত
কোচি থেকে আবু ধাবির উদ্দেশে বিমানটি স্বাভাবিকভাবেই উড্ডয়ন করেছিল। প্রায় ৫০ মিনিট ধরে যাত্রার পর বিমানটি যখন প্রায় ৩৬ হাজার ফুট উচ্চতায় পৌঁছয়, তখন ক্রুরা ইঞ্জিনের তেলের পরিমাণ অস্বাভাবিক দ্রুত হ্রাস পাওয়ার বিষয়টি লক্ষ্য করেন।
বিষয়টি নজরে আসার পর বিমানের ইঞ্জিন সংক্রান্ত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে শুরু করেন ক্রুরা। কিছুক্ষণের মধ্যেই তেলের চাপ বিপদসীমার দিকে চলে যায়। ফলে পরিস্থিতিকে আর কোনওভাবেই হালকা করে দেখেননি পাইলট।
নিরাপত্তার স্বার্থে ইঞ্জিন বন্ধ
ইঞ্জিনে তেলের চাপ রেড জোনে পৌঁছনোর পর নিরাপত্তার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট ইঞ্জিনটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। বিমানের ক্ষেত্রে ইঞ্জিনের তেলের চাপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাই পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আগেই পাইলট প্রয়োজনীয় জরুরি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেন।
ইঞ্জিন বন্ধ করার পর বিমানটিকে ফের কোচির দিকে ঘুরিয়ে নেওয়া হয়। পুরো প্রক্রিয়ায় বিমানটির ক্রুরা নির্ধারিত নিরাপত্তা বিধি অনুসরণ করেন বলে জানা গিয়েছে।
নিরাপদে কোচিতে অবতরণ
মাঝ আকাশে ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত কোনও বড় দুর্ঘটনা ঘটেনি। বিমানটি নিরাপদে কোচি বিমানবন্দরে ফিরে এসে অবতরণ করে।
বিমানটি নিরাপদে মাটিতে নামার পর যাত্রীদের পরবর্তী যাত্রার ব্যবস্থা করা হয়। তাঁদের আবু ধাবি পৌঁছে দেওয়ার জন্য একটি বিকল্প ফ্লাইটের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
ফলে আতঙ্কের পরিস্থিতি তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত যাত্রী ও ক্রুদের নিরাপদেই বিমান থেকে নামানো সম্ভব হয়েছে।
কী কারণে তেলের পরিমাণ কমছিল?
বিমানের ইঞ্জিনের তেলের পরিমাণ কেন এত দ্রুত কমে গেল, তা এখন তদন্তের বিষয়। প্রাথমিকভাবে তেল লিক হওয়ার সম্ভাবনার কথাই সামনে এসেছে। তবে ঠিক কোথায় এবং কীভাবে তেলের লিক হয়েছিল, তা প্রযুক্তিগত পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরই স্পষ্ট হবে।
বিমানটির ইঞ্জিন এবং সংশ্লিষ্ট যন্ত্রাংশ পরীক্ষা করে দেখছেন প্রযুক্তিবিদরা। কী কারণে তেলের চাপ বিপদসীমায় পৌঁছেছিল, সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
যাত্রীদের বিকল্প বিমানে পাঠানোর ব্যবস্থা
ঘটনার পর যাত্রীদের নিরাপত্তাকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কোচিতে বিমানটি অবতরণের পর যাত্রীদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হয় এবং তাঁদের গন্তব্য আবু ধাবিতে পৌঁছে দিতে বিকল্প ফ্লাইটের ব্যবস্থা করা হয়।
মাঝ আকাশে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হলেও পাইলটের দ্রুত সিদ্ধান্ত এবং ক্রুদের প্রশিক্ষিত তৎপরতার কারণে বড় বিপদ এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিমান চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে ফের প্রশ্ন
এই ঘটনার পর ফের একবার বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং ইঞ্জিনের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশের নজরদারির বিষয়টি সামনে এসেছে। বিশেষ করে আকাশে ওঠার পর কোনও যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে পাইলটদের দ্রুত সিদ্ধান্তই অনেক সময় বড় দুর্ঘটনা এড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
৩৬ হাজার ফুট উচ্চতায় ইঞ্জিনের তেলের চাপ বিপদসীমায় পৌঁছনোর পর পাইলট যেভাবে নির্ধারিত নিরাপত্তা প্রোটোকল মেনে ইঞ্জিন বন্ধ করে বিমানটিকে কোচিতে ফিরিয়ে আনেন, তাতেই শেষ পর্যন্ত বড়সড় বিপদ এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে বিমানটির প্রযুক্তিগত পরীক্ষা এবং তদন্তের দিকে এখন নজর রয়েছে।
