প্রতিরক্ষায় বড় সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের, ১.১০ লক্ষ কোটি টাকার সরঞ্জাম কেনায় অনুমোদন
ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর জন্য ১.১০ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনার প্রস্তাবে অনুমোদন দিল DAC। সেনা, নৌবাহিনী ও বায়ুসেনার আধুনিকীকরণে জোর।
প্রতিরক্ষায় বড় সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের! ১.১০ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি সরঞ্জাম কেনায় অনুমোদন

সিটি নিউজ বাংলা, ন্যাশনাল ডেস্ক ৮: দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে বড়সড় পদক্ষেপ কেন্দ্রের। ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর জন্য ১.১০ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনার প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে প্রতিরক্ষা অধিগ্রহণ পরিষদ বা Defence Acquisition Council (DAC)। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
স্থলবাহিনী, নৌবাহিনী এবং বায়ুসেনার সামরিক সক্ষমতা আরও বাড়ানোর লক্ষ্যেই একাধিক অত্যাধুনিক সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি সংগ্রহের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। সীমান্ত নিরাপত্তা থেকে শুরু করে যুদ্ধক্ষেত্রে দ্রুত মোতায়েন, নজরদারি, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং বাহিনীর অপারেশনাল সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এই সরঞ্জামগুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
🛡️ সেনাবাহিনীর জন্য একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম
DAC-এর অনুমোদিত প্রস্তাবগুলির মধ্যে ভারতীয় স্থলবাহিনীর জন্য রয়েছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সরঞ্জাম।
এর মধ্যে অন্যতম হল Chemical, Biological, Radiological and Nuclear (CBRN) Reconnaissance Vehicle। রাসায়নিক, জৈবিক, তেজস্ক্রিয় এবং পারমাণবিক হুমকি শনাক্ত ও মূল্যায়নের ক্ষেত্রে এই ধরনের বিশেষায়িত যান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যুদ্ধক্ষেত্রে বা কোনও বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য CBRN হুমকি চিহ্নিত করতে এগুলি ব্যবহার করা যেতে পারে।
এছাড়াও সেনাবাহিনীর জন্য High Mobility Vehicle কেনার প্রস্তাব রয়েছে। দুর্গম এলাকা এবং কঠিন ভূখণ্ডে সেনা ও সরঞ্জাম দ্রুত পরিবহণের ক্ষেত্রে এই ধরনের উচ্চ-গতিশীল যান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
💣 মাইন মোকাবিলায় বিশেষ সক্ষমতা
সেনাবাহিনীর জন্য Self-Propelled Mechanical Mine Layer সংগ্রহের প্রস্তাবেও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে দ্রুত এবং কার্যকরভাবে মাইন স্থাপনের সক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে এই সরঞ্জাম গুরুত্বপূর্ণ।
এর পাশাপাশি সেনাবাহিনীর জন্য Advanced Light Helicopter বা ALH, Trawl Tank এবং Sarvatra Bridge System সংগ্রহের প্রস্তাবও রয়েছে।
বিশেষ করে নদী, খাল বা অন্যান্য জলপথ এবং কঠিন ভূখণ্ড অতিক্রম করে সেনা ও সামরিক যানবাহন দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে ব্রিজিং সিস্টেম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে এই সরঞ্জামগুলি সেনাবাহিনীর গতিশীলতা ও অপারেশনাল সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা নিতে পারে।
🚢 নৌবাহিনীর নজরদারি ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়াতে পদক্ষেপ
ভারতীয় নৌবাহিনীর জন্যও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি সংগ্রহের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে DAC।
এর মধ্যে রয়েছে Arudhra Radar। সমুদ্রসীমায় নজরদারি এবং আকাশপথে বিভিন্ন ধরনের গতিবিধি শনাক্ত করার ক্ষেত্রে উন্নত রাডার ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে এই রাডার ব্যবস্থার সংযোজন নৌবাহিনীর নজরদারি সক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।
এছাড়াও নৌবাহিনীর জন্য দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি Marine Gas Turbine সংগ্রহের প্রস্তাব রয়েছে। দেশীয় প্রযুক্তির উপর নির্ভরতা বাড়ানোর পাশাপাশি সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনে আত্মনির্ভরতার লক্ষ্য পূরণেও এই সিদ্ধান্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
✈️ বায়ুসেনার যুদ্ধক্ষমতা বৃদ্ধিতেও বড় জোর
ভারতীয় বায়ুসেনার জন্যও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম সংগ্রহের প্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে যুদ্ধবিমান, পরিবহণ বিমান এবং হেলিকপ্টারের যুদ্ধক্ষমতা বাড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কেনার প্রস্তাব রয়েছে।
বর্তমান সময়ে শুধু নতুন যুদ্ধবিমান বা হেলিকপ্টার সংযোজনই নয়, বাহিনীর হাতে থাকা প্ল্যাটফর্মগুলির সক্ষমতা আধুনিকীকরণও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই লক্ষ্যেই বিভিন্ন যুদ্ধবিমান, পরিবহণ বিমান এবং হেলিকপ্টারের অপারেশনাল ক্ষমতা বাড়াতে এই সরঞ্জাম সংগ্রহের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
এর পাশাপাশি বায়ুসেনার জন্য Ground-Based Multi-Purpose Jammer এবং DEFSAC Smart Card System-এর প্রস্তাবও অনুমোদিত হয়েছে।
📡 ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ও নিরাপত্তায় গুরুত্ব
Ground-Based Multi-Purpose Jammer-এর মতো ব্যবস্থা আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে ইলেকট্রনিক যুদ্ধ সক্ষমতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। শত্রুপক্ষের যোগাযোগ বা ইলেকট্রনিক সিস্টেমকে প্রভাবিত করার মতো পরিস্থিতিতে এই ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করা যেতে পারে।
অন্যদিকে DEFSAC Smart Card System-এর অন্তর্ভুক্তি বায়ুসেনার নির্দিষ্ট প্রযুক্তিগত ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক করার উদ্যোগের অংশ।
🇮🇳 দেশীয় প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতায় জোর
DAC-এর এই সিদ্ধান্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর জন্য অত্যাধুনিক সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহের পাশাপাশি দেশীয় প্রযুক্তির ব্যবহার এবং প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতার উপর গুরুত্ব দেওয়া।
নৌবাহিনীর জন্য দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি Marine Gas Turbine-এর প্রস্তাব সেই দিকটিই তুলে ধরে। প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনে দেশীয় সক্ষমতা বাড়ানো হলে দীর্ঘমেয়াদে বিদেশি নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি দেশের প্রতিরক্ষা শিল্পও আরও শক্তিশালী হতে পারে।
💰 ১.১০ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি ব্যয়
সব মিলিয়ে DAC-এর বৈঠকে অনুমোদিত প্রস্তাবগুলির আর্থিক মূল্য ১.১০ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি। এত বড় অঙ্কের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সংগ্রহের নীতিগত অনুমোদন দেশের সামরিক আধুনিকীকরণ প্রক্রিয়ায় একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ।
তবে নীতিগত অনুমোদনের পর সংশ্লিষ্ট ক্রয় প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপগুলি সম্পন্ন হবে। সরঞ্জামের ধরন, প্রযুক্তিগত প্রয়োজনীয়তা এবং অন্যান্য নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী পরবর্তী পর্যায়ে ক্রয় কার্যক্রম এগিয়ে যাবে।
🔥 তিন বাহিনীকেই আধুনিকীকরণের বার্তা
DAC-এর সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তে স্পষ্ট যে, স্থলবাহিনী, নৌবাহিনী এবং বায়ুসেনা—তিন বাহিনীরই সামরিক সক্ষমতা আরও উন্নত করার দিকে জোর দেওয়া হচ্ছে।
স্থলবাহিনীর জন্য উন্নত যান, মাইন লেয়িং ও ব্রিজিং ব্যবস্থা; নৌবাহিনীর জন্য আধুনিক রাডার ও মেরিন প্রযুক্তি; আর বায়ুসেনার জন্য যুদ্ধক্ষমতা বৃদ্ধির সরঞ্জাম, জ্যামিং প্রযুক্তি এবং স্মার্ট কার্ড ব্যবস্থা—সব মিলিয়ে প্রতিরক্ষা আধুনিকীকরণের একটি বিস্তৃত পরিকল্পনার ছবি উঠে এসেছে।
১.১০ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে আগামী দিনে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর অপারেশনাল সক্ষমতা, প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি এবং আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে কার্যকারিতা আরও বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে।
