দামোদরের চরে মিলল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার জং ধরা মর্টার শেল, আতঙ্ক সোনামুখীতে
বাঁকুড়ার সোনামুখীতে দামোদর নদীর চরে উদ্ধার হল জং ধরা মর্টার শেল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার বলে অনুমান। ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য।
দামোদরের চরে মিলল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার জং ধরা মর্টার শেল!

সিটি নিউজ বাংলা, বাঁকুড়া, স্টেট ডেস্ক ৬: নদীর চরে মাটি খুঁড়তে গিয়ে বা নদীর জল কমে যাওয়ার পর নানা ধরনের পুরনো সামগ্রী উদ্ধারের ঘটনা নতুন নয়। কিন্তু বাঁকুড়ার সোনামুখীতে দামোদর নদের চর থেকে উদ্ধার হল এমন একটি বস্তু, যা ঘিরে রীতিমতো আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এলাকায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের নজরে এসেছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার বলে অনুমান করা একটি জং ধরা মর্টার শেল। ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে সোনামুখীর রাঙামাটি সংলগ্ন এলাকায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে সোমবার ও মঙ্গলবারের মধ্যে কোনও এক সময় দামোদর নদের চরে মাটিতে কিছুটা গেঁথে থাকা অবস্থায় ওই মর্টার শেলটি দেখতে পান স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রথমে বিষয়টি নিয়ে ধন্দ তৈরি হলেও পরে সেটি পুরনো বিস্ফোরক হতে পারে বলে সন্দেহ হয়। খবর পৌঁছয় পুলিশের কাছে।
📍 কোথা থেকে উদ্ধার হল মর্টার শেল?
ঘটনাটি ঘটেছে বাঁকুড়া জেলার সোনামুখী ব্লকের ডিহিপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের রাঙামাটি সংলগ্ন দামোদর নদে।
বর্ষার মরশুমে নদীতে জল বাড়লেও জল কমার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন জায়গায় চর জেগে উঠেছে। সেই চরেই মাটির কিছুটা নিচে গেঁথে থাকা অবস্থায় ধাতব বস্তুটি দেখতে পান স্থানীয়রা।
প্রথমে অনেকেই সেটিকে সাধারণ কোনও লোহার বস্তু বলে মনে করেছিলেন। কিন্তু আকার ও আকৃতি দেখে সেটি মর্টার শেল হতে পারে বলে সন্দেহ তৈরি হয়। এরপর আর ঝুঁকি না নিয়ে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
👮 ঘটনাস্থলে পুলিশ, তৈরি করা হল নিরাপত্তা বলয়
খবর পাওয়ার পরই সোনামুখী থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। সম্ভাব্য বিপদের কথা মাথায় রেখে মর্টার শেলটির আশপাশের এলাকা ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে ফেলা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ওই জায়গার কাছে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। শেলটি যাতে কেউ কৌতূহলবশত স্পর্শ না করেন বা সরানোর চেষ্টা না করেন, সেই বিষয়েও সতর্ক করা হয়।
নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশ ঘটনাস্থল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়।
💣 এখনও সক্রিয় কি না, তা নিয়েই উদ্বেগ
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হল, বহু বছর ধরে মাটির নিচে বা নদীর চরে পড়ে থাকা ওই মর্টার শেলটি এখনও সক্রিয় কি না।
শেলটি অত্যন্ত জং ধরা অবস্থায় রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। তবে বাইরে থেকে দেখে কোনও পুরনো বিস্ফোরক নিরাপদ কি না, তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। সেই কারণেই পুলিশ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে।
ঘটনাস্থলে সাধারণ মানুষের প্রবেশ বন্ধ রেখে বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে সেটি পরীক্ষা ও নিরাপদে নিষ্ক্রিয় করার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
🪖 সেনাবাহিনীকে খবর, অপেক্ষা বিশেষজ্ঞদের
ঘটনার গুরুত্ব বুঝে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ সেনাবাহিনীকে খবর দিয়েছে। কারণ পুরনো মর্টার শেল উদ্ধার হওয়ার ক্ষেত্রে প্রশিক্ষিত বোম্ব ডিসপোজাল বা সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের সাহায্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
শেলটি কোথা থেকে এল, কীভাবে দামোদরের চরে পৌঁছল এবং সত্যিই এটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার কি না—এসব বিষয়ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
প্রাথমিকভাবে স্থানীয়দের মধ্যে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার পুরনো অস্ত্র বা সামরিক সরঞ্জাম হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞ পরীক্ষা না হওয়া পর্যন্ত এর সঠিক সময়কাল বা কার্যক্ষমতা সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।
😨 বারবার মর্টার শেল উদ্ধারে আতঙ্ক
সোনামুখী এলাকায় এই ধরনের পুরনো বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনা একেবারে নতুন নয়। স্থানীয় সূত্রের দাবি, কয়েক মাস আগেও সোনামুখী এলাকার দামোদর ও দ্বারকেশ্বর নদ থেকে একই ধরনের মর্টার শেল উদ্ধার হয়েছিল।
ফলে পরপর এমন ঘটনা সামনে আসায় স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্ক বাড়ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে।
নদীর চর বা নদী সংলগ্ন এলাকায় অনেক সময় মানুষ মাছ ধরতে, চাষাবাদ করতে কিংবা বিভিন্ন কাজে যাতায়াত করেন। সেখানে মাটির নিচে এই ধরনের পুরনো বিস্ফোরক পড়ে থাকলে অসাবধানতাবশত কেউ সেটিতে আঘাত করতে পারেন বা তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতে পারেন—এই আশঙ্কাই এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে।
⚠️ স্থানীয়দের সতর্ক থাকার পরামর্শ
পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নদীর চর বা ফাঁকা এলাকায় অস্বাভাবিক আকৃতির কোনও ধাতব বস্তু দেখতে পেলে সেটিতে হাত না দেওয়ার জন্য বলা হচ্ছে।
বিশেষ করে কৌতূহলবশত পুরনো শেল বা সন্দেহজনক কোনও বস্তু বাড়িতে নিয়ে যাওয়া কিংবা সেটিকে নাড়াচাড়া করা বিপজ্জনক হতে পারে।
প্রশাসনের বার্তা, এমন কোনও বস্তু নজরে এলে দূরত্ব বজায় রেখে দ্রুত পুলিশকে খবর দেওয়াই নিরাপদ।
🔎 তদন্তে একাধিক প্রশ্ন
দামোদরের চরে উদ্ধার হওয়া মর্টার শেলকে ঘিরে এখন একাধিক প্রশ্ন সামনে এসেছে। এটি ঠিক কত বছরের পুরনো? কোথা থেকে এখানে এল? নদীর স্রোতে ভেসে এসেছে, নাকি বহু বছর ধরেই মাটির নিচে পড়ে ছিল? এরকম আরও কোনও বিস্ফোরক আশপাশে রয়েছে কি না?
এই সমস্ত বিষয়ই খতিয়ে দেখার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছে প্রশাসন।
বিশেষজ্ঞদের পরীক্ষার পরই শেলটির প্রকৃত পরিচয় এবং সেটি কতটা বিপজ্জনক, সে বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।
🚨 নদীর চরে ‘যুদ্ধের স্মৃতি’, আতঙ্কে এলাকাবাসী
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হয়েছে প্রায় আট দশক আগে। সেই সময়কার কোনও সামরিক অস্ত্রের অংশ যদি সত্যিই সোনামুখীর দামোদরের চরে থেকে থাকে, তাহলে তা নিঃসন্দেহে বিস্ময়কর। তবে ইতিহাসের এমন নিদর্শন যতই কৌতূহল তৈরি করুক, পুরনো বিস্ফোরককে কোনওভাবেই নিরাপদ ধরে নেওয়া যায় না।
তাই আপাতত পুলিশের ব্যারিকেডে ঘেরা রয়েছে উদ্ধার হওয়া মর্টার শেল। সেনাবাহিনী বা বোমা নিষ্ক্রিয়কারী বিশেষজ্ঞদের পরীক্ষার পরই সেটিকে নিরাপদে সরানোর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সোনামুখীতে বারবার নদীর চর থেকে এই ধরনের পুরনো বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনায় শুধু কৌতূহল নয়, বাড়ছে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগও। প্রশাসন এখন নজর রাখছে, নদী ও আশপাশের এলাকায় আরও এমন কোনও বিপজ্জনক বস্তু লুকিয়ে রয়েছে কি না।
