প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানস্থলের কাছে ভুয়ো PMO আইডি ও বন্দুকসহ গ্রেফতার ২
মুম্বইয়ের BKC-তে প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানস্থলের কাছে ভুয়ো PMO পরিচয়পত্র ও লাইসেন্সপ্রাপ্ত বন্দুকসহ দুই ব্যক্তি গ্রেফতার। ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ।
প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানস্থলের কাছে ভুয়ো PMO আইডি ও বন্দুকসহ গ্রেফতার ২

মুম্বই, ন্যাশনাল ডেস্ক ৫ : প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর অনুষ্ঠানস্থলের কাছাকাছি এলাকা থেকে ভুয়ো প্রধানমন্ত্রীর দফতর বা PMO-র পরিচয়পত্র এবং অস্ত্রসহ দু’জনকে গ্রেফতার করল পুলিশ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে মুম্বইয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছে মুম্বইয়ের গুরুত্বপূর্ণ বান্দ্রা-কুর্লা কমপ্লেক্স (BKC) এলাকায়, জিও ওয়ার্ল্ড প্লাজার কাছাকাছি। প্রধানমন্ত্রীর একটি কর্মসূচিকে ঘিরে যখন ওই এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছিল, সেই সময় সন্দেহজনক গতিবিধির অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়।
ধৃতদের পরিচয় প্রকাশ
পুলিশের হাতে আটক দু’জনের মধ্যে রয়েছে ২৪ বছর বয়সি রোহান পারেখ এবং তাঁর সহযোগী দিলীপ কুন্দে। তাঁদের গতিবিধি নিয়ে সন্দেহ তৈরি হওয়ার পর পুলিশ তল্লাশি চালায়।
তদন্তকারীদের দাবি, রোহান পারেখের মোবাইল ফোনে PMO-র একটি ভুয়ো পরিচয়পত্র পাওয়া যায়। এই পরিচয়পত্র কেন তৈরি করা হয়েছিল এবং সেটি ব্যবহার করে তাঁরা কোনও সরকারি দফতর বা নিরাপত্তা ব্যবস্থার সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
সহযোগীর কাছে মিলল আগ্নেয়াস্ত্র
শুধু ভুয়ো পরিচয়পত্রই নয়, রোহানের সঙ্গে থাকা ব্যক্তির কাছ থেকে একটি লাইসেন্সপ্রাপ্ত বন্দুকও উদ্ধার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
অস্ত্রটির বৈধ লাইসেন্স থাকলেও প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানস্থলের কাছাকাছি ওই অস্ত্র নিয়ে উপস্থিত থাকার কারণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পুলিশ গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। একইসঙ্গে ভুয়ো PMO পরিচয়পত্রের সঙ্গে ওই অস্ত্রের কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় রাখা হয়েছে।
নিরাপত্তা ঘিরে বাড়ছে প্রশ্ন
প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে BKC এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা সাধারণত অত্যন্ত কড়া থাকে। তার মধ্যেই অনুষ্ঠানস্থলের কাছাকাছি ভুয়ো PMO পরিচয়পত্র নিয়ে দুই ব্যক্তির উপস্থিতির ঘটনা নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ঘিরে প্রশ্ন তুলেছে।
পুলিশ ইতিমধ্যেই ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে। তাঁরা কোথা থেকে ওই ভুয়ো পরিচয়পত্র পেলেন, কেন নিজেদের PMO-র সঙ্গে যুক্ত বলে পরিচয় দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন এবং তাঁদের আসল উদ্দেশ্য কী ছিল—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পুলিশ হেফাজত
গ্রেফতারের পর দু’জনকে আদালতে পেশ করা হয়। আদালত তাঁদের ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে। এই সময়ের মধ্যে তদন্তকারীরা তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার পিছনে থাকা আসল উদ্দেশ্য জানার চেষ্টা করবেন।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। ভুয়ো পরিচয়পত্র তৈরির সঙ্গে আরও কেউ যুক্ত রয়েছে কি না, কিংবা এর পিছনে কোনও বড় চক্র কাজ করছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানস্থলের কাছাকাছি এই ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই নিরাপত্তা মহলে সতর্কতা বেড়েছে। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে এই ঘটনায় আরও তথ্য সামনে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
