হরমুজে সংঘাত, ১০০ ডলার ছাড়াল ব্রেন্ট ক্রুড
হরমুজ প্রণালিতে সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়াল। বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ও মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা।
হরমুজ প্রণালিতে সংঘাতের জেরে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়াল ব্রেন্ট ক্রুড, বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা

সিটি নিউজ বাংলা, আন্তর্জাতিক ডেস্ক ৪ :
মধ্যপ্রাচ্যে ফের তীব্র উত্তেজনা। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত আরও বাড়ার পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে তেলবাহী জাহাজ ও সামরিক জাহাজে হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনায় বড়সড় ধাক্কা খেল আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার। সংঘাতের প্রভাব সরাসরি পড়েছে অপরিশোধিত তেলের দামে। আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের গণ্ডি পেরিয়ে গিয়েছে।
বাজার সূত্রে খবর, ব্রেন্ট ক্রুডের দাম একসময় প্রায় ১০১ ডলার প্রতি ব্যারেল পর্যন্ত উঠে যায়। গত জুলাইয়ের পর এই প্রথম আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক তেলের দাম ফের ১০০ ডলারের গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক অতিক্রম করল। ফলে বিশ্ব অর্থনীতি, পরিবহণ খরচ এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
হরমুজ প্রণালিকে ঘিরেই মূল উদ্বেগ
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহণপথ হল হরমুজ প্রণালি। মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদনকারী দেশগুলি থেকে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও অন্যান্য জ্বালানি এই জলপথের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছয়। ফলে এই রুটে সামরিক সংঘাত বা জাহাজ চলাচলে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটলে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে গোটা বিশ্বের তেল সরবরাহ ব্যবস্থায়।
বর্তমান পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি তেলবাহী ট্যাংকার এবং সামরিক জাহাজকে ঘিরে হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ আরও ব্যাহত হতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সরবরাহ কমার আশঙ্কায় বাড়ছে তেলের দাম
আন্তর্জাতিক তেল বাজারে দামের অন্যতম বড় চালিকাশক্তি হল সরবরাহ ও চাহিদার ভারসাম্য। হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতার কারণে সরবরাহ ব্যবস্থায় অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। সেই আশঙ্কার প্রতিফলনই দেখা যাচ্ছে অপরিশোধিত তেলের দামে।
বাজারে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে এশিয়া, ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে তেল সরবরাহে বড় ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। আর সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে।
বিশ্ব অর্থনীতিতে পড়তে পারে বড় প্রভাব
তেলের দাম বাড়ার প্রভাব শুধু জ্বালানি বাজারেই সীমাবদ্ধ থাকে না। অপরিশোধিত তেলের দাম দীর্ঘ সময় ধরে বেশি থাকলে পরিবহণ থেকে শুরু করে শিল্প উৎপাদন, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং বিভিন্ন পণ্যের পরিবহণ খরচ বাড়তে পারে। এর ফলে বিভিন্ন দেশে মূল্যস্ফীতির চাপও নতুন করে বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
বিশেষ করে যেসব দেশ নিজেদের চাহিদার বড় অংশের জন্য আমদানিকৃত অপরিশোধিত তেলের ওপর নির্ভরশীল, তাদের অর্থনীতিতে এই পরিস্থিতির প্রভাব তুলনামূলকভাবে বেশি পড়তে পারে।
নজরে হরমুজ প্রণালি
এই মুহূর্তে আন্তর্জাতিক মহলের নজর রয়েছে হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতির দিকে। সংঘাত দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসে কি না, নাকি সামরিক উত্তেজনা আরও ছড়িয়ে পড়ে—তার ওপরই অনেকটাই নির্ভর করছে আগামী দিনে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারের গতিপথ।
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, হরমুজ প্রণালিতে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা তৈরি হলে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে থাকা তেলের দাম আরও ঊর্ধ্বমুখী হতে পারে। ফলে আগামী দিনে জ্বালানি বাজারে আরও অস্থিরতা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত তাই এখন শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তার বিষয় নয়, বরং তার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে গোটা বিশ্বের অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে।
