কোরন দ্বীপের কাছে যাত্রীবাহী ফেরিতে ভয়াবহ আগুন, মৃত ৫, নিখোঁজ ৮৬ জনের বেশি
ফিলিপাইনের কোরন দ্বীপের কাছে যাত্রীবাহী ফেরি ‘এমভি জুন অ্যাস্টার’-এ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড। মৃত অন্তত ৫, নিখোঁজ ৮৬ জনের বেশি। চলছে উদ্ধার অভিযান।
যাত্রীবাহী ফেরিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মৃত অন্তত ৫, নিখোঁজ ৮৬ জনেরও বেশি

সিটি নিউজ বাংলা, আন্তর্জাতিক ডেস্ক ৫ :
ফিলিপাইনের জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র কোরন দ্বীপের কাছে সমুদ্রে যাত্রীবাহী ফেরিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড। ‘এমভি জুন অ্যাস্টার’ (MV June Aster) নামে ওই ফেরিতে আচমকা আগুন ছড়িয়ে পড়ার পর সমুদ্রে চরম আতঙ্কের পরিস্থিতি তৈরি হয়। দুর্ঘটনায় এখনও পর্যন্ত অন্তত ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পাশাপাশি ৮৬ থেকে ৮৭ জন যাত্রী ও ক্রু নিখোঁজ রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ফিলিপাইনের কোস্টগার্ড সূত্রে জানা গিয়েছে, দুর্ঘটনার সময় ফেরিটিতে মোট ১৩৪ জন যাত্রী ও ক্রু ছিলেন। তাঁদের মধ্যে এখনও পর্যন্ত ৪৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে প্রতিকূল আবহাওয়া, উত্তাল সমুদ্র এবং প্রবল ঢেউয়ের কারণে উদ্ধারকাজ চালাতে গিয়ে যথেষ্ট সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে উদ্ধারকারী দলকে।
কোরন দ্বীপের কাছেই বিপদ
ফিলিপাইনের পালাওয়ান প্রদেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র কোরন। প্রতিদিনই এই অঞ্চলের জলপথে বহু পর্যটক ও স্থানীয় মানুষ যাতায়াত করেন। সেই কোরন দ্বীপের কাছাকাছি জলসীমাতেই ‘এমভি জুন অ্যাস্টার’-এ আগুন লাগে।
আগুন লাগার পর মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় বলে জানা গিয়েছে। আতঙ্কে বহু যাত্রী নিরাপদে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করেন। কেউ কেউ সমুদ্রে ঝাঁপ দিয়েও প্রাণ বাঁচানোর চেষ্টা করেন বলে উদ্ধারকারী সূত্রে জানা যাচ্ছে।
এখনও চলছে উদ্ধার অভিযান
দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু করে ফিলিপাইনের কোস্টগার্ড ও অন্যান্য উদ্ধারকারী দল। সমুদ্র থেকে এখনও পর্যন্ত ৪৩ জনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজদের সন্ধানে জলসীমার বিস্তীর্ণ এলাকায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
তবে আবহাওয়া উদ্ধারকারীদের বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। উত্তাল ঢেউ এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে উদ্ধারকাজ বারবার ব্যাহত হচ্ছে। ফলে নিখোঁজ যাত্রী ও ক্রুদের দ্রুত খুঁজে বের করা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা
এখনও বহু যাত্রীর কোনও সন্ধান না মেলায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। নিখোঁজদের মধ্যে কতজন আগুনের সময় ফেরিতে আটকে পড়েছিলেন এবং কতজন সমুদ্রে পড়ে গিয়েছেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
উদ্ধারকারী দল সমুদ্রের বিভিন্ন অংশে তল্লাশি চালানোর পাশাপাশি জীবিতদের নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়ার কাজ করছে। আহত বা অসুস্থ যাত্রীদের প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।
কীভাবে আগুন লাগল, খতিয়ে দেখা হচ্ছে
ফেরিটিতে কীভাবে আগুনের সূত্রপাত হল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। আগুন লাগার সঠিক কারণ জানতে তদন্ত শুরু হতে পারে বলে জানা গিয়েছে। ফেরিটিতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল কি না, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ঠিকমতো কাজ করেছিল কি না এবং দুর্ঘটনার সময় যাত্রীদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়ায় কোনও সমস্যা হয়েছিল কি না—সেসব বিষয়ও তদন্তের আওতায় আসতে পারে।
এদিকে, কোরনের কাছে এই ভয়াবহ ফেরি দুর্ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে যাত্রীদের পরিবার এবং স্থানীয়দের মধ্যে। নিখোঁজদের দ্রুত উদ্ধারের জন্য প্রার্থনা করছেন তাঁদের পরিজনেরা। উদ্ধার অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত দুর্ঘটনায় মোট হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা স্পষ্ট হবে না বলেই মনে করা হচ্ছে।
