২৪ ঘণ্টার মধ্যেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা, বাঘাযতীন পার্ক পরিষ্কারে দীপা চক্রবর্তী
কোচবিহারের ১০ নম্বর ওয়ার্ডের বাঘাযতীন পার্কের অপরিচ্ছন্নতার ছবি দেখে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পরিচ্ছন্নতা অভিযানে নামলেন বিজেপি নেত্রী দীপা চক্রবর্তী। সঙ্গে ছিলেন বিজেপি কর্মী ও পৌরসভার কর্মীরা।
২৪ ঘণ্টার মধ্যেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা, বাঘাযতীন পার্ক পরিষ্কারে নামলেন দীপা চক্রবর্তী

কোচবিহার, ডিস্ট্রিক্ট ডেস্ক ১০ : জনসংযোগে বেরিয়ে মানুষের সমস্যার কথা শুনেছিলেন। চোখে পড়েছিল কোচবিহার শহরের ১০ নম্বর ওয়ার্ডের বেহাল ও অপরিচ্ছন্ন বাঘাযতীন পার্কের ছবি। পার্কের দুরবস্থা দেখে দ্রুত পরিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন বিজেপির জেলা সহ সভাপতি তথা ১০ নম্বর ওয়ার্ডের নেত্রী দীপা চক্রবর্তী। আর সেই প্রতিশ্রুতি দেওয়ার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই কাজে নেমে পড়লেন তিনি।
বৃহস্পতিবার জনসংযোগ কর্মসূচিতে গিয়ে পার্কটির অপরিচ্ছন্ন পরিস্থিতি দেখে শুক্রবার সকালেই ১০ নম্বর ওয়ার্ডের বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে বাঘাযতীন পার্কে পৌঁছে যান দীপা চক্রবর্তী। এরপর কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে নিজেও হাতে হাত মিলিয়ে শুরু করেন পরিচ্ছন্নতা অভিযান।
পার্ক পরিষ্কারে নেতৃত্বে দীপা, সঙ্গে বিজেপি কর্মীরা
এদিন বাঘাযতীন পার্কের বিভিন্ন অংশে জমে থাকা আবর্জনা ও ময়লা পরিষ্কার করা হয়। পার্কের ভিতরে থাকা মূর্তিগুলিও পরিষ্কার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। বিজেপি নেতা ভানু ঘোষ-সহ দলের অন্যান্য কর্মী ও সমর্থকরাও এই পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশ নেন।
দীর্ঘদিন ধরে অপরিচ্ছন্ন অবস্থায় পড়ে থাকা পার্কটিকে নতুন করে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে সাধারণ মানুষের ব্যবহারযোগ্য করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে বিজেপি নেতৃত্বের দাবি। শুধু একদিনের পরিষ্কার নয়, পার্কটিকে নতুনভাবে সাজিয়ে তোলার বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।
পৌরসভার কর্মীদেরও সহযোগিতা
বিজেপি কর্মীদের পাশাপাশি এই কাজে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন পৌরসভার কর্মীরাও। ফলে দলীয় উদ্যোগের সঙ্গে প্রশাসনিক স্তরের সহযোগিতাও যুক্ত হয়। স্থানীয়দের একাংশের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে পার্কটির পরিচ্ছন্নতা ও রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে সমস্যা ছিল। সেই জায়গায় হঠাৎ করে পরিষ্কারের কাজ শুরু হওয়ায় তাঁদের মধ্যে উৎসাহ তৈরি হয়েছে।
‘১৫ বছরেও গুরুত্ব দেওয়া হয়নি’, দাবি বিজেপির
বাঘাযতীন পার্কের উন্নয়ন প্রসঙ্গে বিজেপি নেতৃত্বের অভিযোগ, দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে আগের সরকার পার্কটির উন্নয়নে যথাযথ গুরুত্ব দেয়নি। তাঁদের দাবি, সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জায়গাগুলির উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণের ক্ষেত্রে আরও বেশি নজর দেওয়া প্রয়োজন ছিল।
বিজেপি নেতৃত্বের বক্তব্য, রাজনৈতিক কর্মসূচির পাশাপাশি এলাকার মানুষের দৈনন্দিন সমস্যাগুলিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার। সেই লক্ষ্যেই জনসংযোগের সময় সমস্যাগুলি চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
খুশি স্থানীয় বাসিন্দারাও
পার্ক পরিষ্কারের কাজ শুরু হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই খুশি এলাকার বাসিন্দাদের একাংশ। তাঁদের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে পার্কটি যেভাবে অপরিচ্ছন্ন অবস্থায় পড়েছিল, তাতে সাধারণ মানুষের ব্যবহারে সমস্যা হচ্ছিল। এবার পরিষ্কারের কাজ শুরু হওয়ায় পার্কটি ফের আগের মতো প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে বলে আশা করছেন তাঁরা।
এক স্থানীয় বাসিন্দার কথায়, “পার্কটি এভাবে নতুন রূপ পাবে, তা ভাবতেই পারিনি। পরিষ্কারের কাজ শুরু হওয়ায় আমরা খুবই খুশি।”
জনসংযোগের পরেই বাস্তব পদক্ষেপ
রাজনীতিতে জনসংযোগ কর্মসূচি নতুন কিছু নয়। তবে মানুষের কাছ থেকে সমস্যা শুনে দ্রুত সেই সমস্যার সমাধানে মাঠে নামার ঘটনাই এবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। বৃহস্পতিবার প্রতিশ্রুতি, আর শুক্রবার সকালেই সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের উদ্যোগ—এই সময়ের ব্যবধান নিয়েই রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে।
বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, “কথা নয়, কাজে প্রমাণ”—এই বার্তাকেই সামনে রেখে এলাকার মানুষের সমস্যা সমাধানে এগিয়ে চলেছেন দীপা চক্রবর্তী। বাঘাযতীন পার্ক পরিষ্কারের এই উদ্যোগের মাধ্যমে ১০ নম্বর ওয়ার্ডে তাঁর জনসংযোগ কর্মসূচি নতুন মাত্রা পেল বলেই মনে করছেন দলীয় কর্মী-সমর্থকরা।
এদিকে, পার্ক পরিষ্কার হওয়ার পর সেটির রক্ষণাবেক্ষণ ও ভবিষ্যতে নিয়মিত পরিচর্যার দিকেও নজর দেওয়া হবে কি না, সেদিকেও তাকিয়ে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে আপাতত ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজে নেমে পড়ার ঘটনায় এলাকার একাংশের প্রশংসা কুড়িয়েছেন বিজেপি নেত্রী দীপা চক্রবর্তী।
