দীনেশনগরে বেআইনি অনলাইন জুয়া ও ক্রিকেট বেটিং চক্র, গ্রেফতার ৪
কলকাতার দীনেশনগরে বেআইনি অনলাইন জুয়া ও ক্রিকেট বেটিং চক্রের হদিশ। ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে ৯টি মোবাইল, ল্যাপটপ, ট্যাব, ৪টি ডেবিট কার্ড ও নগদ টাকা উদ্ধার, গ্রেফতার ৪।
বেআইনি অনলাইন জুয়া ও ক্রিকেট বেটিং চক্রের হদিশ! গ্রেফতার ৪

কলকাতা, স্টেট ডেস্ক ৮ : শহরে ফের বেআইনি অনলাইন জুয়া ও ক্রিকেট বেটিং চক্রের সন্ধান। পূর্ব যাদবপুর থানার অন্তর্গত দীনেশনগরের একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে এমনই একটি চক্রের হদিশ পেল পুলিশ। গোপন সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে একাধিক ইলেকট্রনিক ডিভাইস, ডেবিট কার্ড এবং নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দীনেশনগরের ৫৯ নম্বর ফ্ল্যাটে বেশ কিছুদিন ধরেই বেআইনি অনলাইন জুয়া এবং ক্রিকেট বেটিং সংক্রান্ত কার্যকলাপ চলছিল বলে সন্দেহ ছিল। সেই সূত্র ধরেই তদন্ত শুরু করেন পুলিশ আধিকারিকরা।
গোপন সূত্রে খবর, রাতেই ফ্ল্যাটে হানা
গত ৭ সেপ্টেম্বর রাতে গোপন সূত্রে খবর পায় পূর্ব যাদবপুর থানার পুলিশ। খবরের ভিত্তিতে সাব-ইনস্পেক্টর দীপক মণ্ডলের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল দীনেশনগরের ওই ফ্ল্যাটে অভিযান চালায়।
অভিযানের সময় ফ্ল্যাটে থাকা ব্যক্তিদের কার্যকলাপ খতিয়ে দেখা হয়। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে বেআইনি অনলাইন জুয়া এবং ক্রিকেট বেটিংয়ের সঙ্গে যোগসূত্রের অভিযোগ সামনে আসে।
এরপর তদন্তের ভিত্তিতে ৮ সেপ্টেম্বর ভোরে চার অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়।
ধৃত চারজনের নাম
পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়া চার অভিযুক্ত হলেন—
সৌলভ কুমার সিন্দুরিয়া
বিকাশ কুমার বর্মা
ধীরজ কুমার ঠাকুর
ওম প্রকাশ সাহ
তাঁদের বিরুদ্ধে বেআইনি অনলাইন জুয়া ও বেটিং সংক্রান্ত কার্যকলাপে যুক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এই চক্রের সঙ্গে আর কারা যুক্ত, সেই তথ্য জানার চেষ্টা করছে পুলিশ।
বিপুল ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম ও নগদ টাকা উদ্ধার
অভিযানের সময় ওই ফ্ল্যাট থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সামগ্রী উদ্ধার করেছে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে—
৯টি মোবাইল ফোন, একটি ট্যাব, একটি ল্যাপটপ, ৪টি ডেবিট কার্ড এবং নগদ ২৬ হাজার ৫০০ টাকা।
এই সমস্ত সামগ্রী কীভাবে ব্যবহার করা হত, সেগুলির মাধ্যমে কোনও বেটিং প্ল্যাটফর্ম বা অনলাইন জুয়া পরিচালনা করা হত কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
বিশেষ করে মোবাইল ফোন, ট্যাব ও ল্যাপটপ থেকে পাওয়া তথ্য তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র দিতে পারে বলে মনে করছে পুলিশ।
সাধারণ মানুষকে টার্গেট করার অভিযোগ
পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, এই চক্রের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে বিভিন্নভাবে প্রলোভন দেখিয়ে অনলাইন জুয়া বা ক্রিকেট বেটিংয়ে যুক্ত করা হত। এর মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলত বলেও সন্দেহ তদন্তকারীদের।
অনলাইন বেটিংয়ের ক্ষেত্রে প্রথমে অল্প টাকার বিনিময়ে লাভের প্রলোভন দেখিয়ে পরে বড় অঙ্কের টাকা বিনিয়োগে উৎসাহিত করা হত কি না, সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মূল চক্রীদের খোঁজে তদন্ত
চারজনকে গ্রেফতার করলেও তদন্তকারীদের অনুমান, এই চক্রের পিছনে আরও একাধিক ব্যক্তি থাকতে পারেন। গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে মূল চক্রীদের পরিচয় এবং তাঁদের সঙ্গে অভিযুক্তদের যোগাযোগের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।
এই চক্রের সঙ্গে কোনও নির্দিষ্ট অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, বেটিং নেটওয়ার্ক বা আর্থিক লেনদেনের যোগ রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
বেআইনি অনলাইন জুয়া নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ
স্মার্টফোন ও ইন্টারনেটের সহজলভ্যতার সুযোগ নিয়ে অনলাইন জুয়া এবং ক্রিকেট বেটিংয়ের বিভিন্ন চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ। অনেক ক্ষেত্রেই সাধারণ মানুষকে দ্রুত টাকা উপার্জনের প্রলোভন দেখিয়ে এই ধরনের কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত করা হয়।
পুলিশের পক্ষ থেকে বারবার সতর্ক করা হলেও অনলাইন বেটিংয়ের ফাঁদে পড়ে বহু মানুষ আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে অভিযোগ।
দীনেশনগরের এই ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতারের পর এখন তদন্তকারীদের নজর মূল চক্রীদের দিকে। উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, ট্যাব ও অন্যান্য নথি বা তথ্য বিশ্লেষণ করে তদন্তের পরবর্তী দিক নির্ধারণ করা হবে। পাশাপাশি ধৃতদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে পুরো চক্রের কার্যকলাপের বিস্তারিত তথ্য খতিয়ে দেখছে পূর্ব যাদবপুর থানার পুলিশ।
