ব্রিকসের রাজকীয় নৈশভোজে অনুপস্থিত শি জিনপিং, কারণ নিয়ে বাড়ছে কৌতূহল
ব্রিকসের রাজকীয় নৈশভোজে অনুপস্থিত চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। দীর্ঘ বিমানযাত্রা ও ব্যস্ত কর্মসূচির পর তাঁর অনুপস্থিতির কারণ ঘিরে বাড়ছে কৌতূহল।
ব্রিকসের রাজকীয় নৈশভোজে অনুপস্থিত শি জিনপিং

নয়াদিল্লি, ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক ৫ : নতুন দিল্লিতে আয়োজিত ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের প্রথম দিনেই নজর কাড়ল একটি ঘটনা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আয়োজিত রাজকীয় নৈশভোজে উপস্থিত থাকলেন না চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। ভারত মণ্ডপমে আয়োজিত এই বিশেষ নৈশভোজে ব্রিকসের একাধিক রাষ্ট্রপ্রধান, ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা উপস্থিত থাকলেও শি জিনপিংকে সেখানে দেখা যায়নি।
তবে তাঁর অনুপস্থিতি নিয়ে এখনও পর্যন্ত ভারত বা চিন—কোনও দেশের পক্ষ থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে নির্দিষ্ট কারণ জানানো হয়নি। বিভিন্ন সূত্রের দাবি, দীর্ঘ বিমানযাত্রা, দিল্লিতে পৌঁছানোর পর টানা কর্মসূচি এবং আন্তর্জাতিক সময়ের পার্থক্যের কারণে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন চিনের প্রেসিডেন্ট। সেই কারণেই তিনি নৈশভোজে যোগ না দিয়ে হোটেলে ফিরে বিশ্রাম নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন বলে জানা যাচ্ছে।
দীর্ঘ বিমানযাত্রার পরেই ব্যস্ত কর্মসূচি
শনিবার দুপুরে দীর্ঘ বিমানযাত্রা শেষে নয়াদিল্লিতে পৌঁছন শি জিনপিং। রাজধানীতে পৌঁছানোর পর খুব বেশি সময় বিশ্রামের সুযোগ পাননি তিনি। ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গেও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হয়।
দীর্ঘ সফরের পর পরই একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ও সম্মেলনের কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার ফলে শারীরিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়ার সম্ভাবনাই তাঁর নৈশভোজে অনুপস্থিত থাকার অন্যতম কারণ বলে সূত্রের দাবি।
মোদির সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পরেই বিশ্রাম
দীর্ঘ প্রায় সাত বছর পর শি জিনপিংয়ের ভারত সফর হওয়ায় তাঁর দিল্লি সফরকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে বিশেষ আগ্রহ তৈরি হয়েছে। ভারত-চিন সম্পর্কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তাঁর বৈঠকও হয়েছে।
দুই দেশের সম্পর্কের পাশাপাশি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, বাণিজ্য ও অন্যান্য পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়েও আলোচনার সম্ভাবনা ছিল এই বৈঠকে। ফলে দিনভর ব্যস্ত কর্মসূচির পর শি জিনপিংয়ের নৈশভোজে না থাকা স্বাভাবিক ক্লান্তির ফল হিসেবেই দেখছে সংশ্লিষ্ট মহল।
নৈশভোজে উপস্থিত ছিলেন পুতিন-সহ একাধিক রাষ্ট্রনেতা
ভারত মণ্ডপমে আয়োজিত এই রাজকীয় নৈশভোজে ব্রিকসের একাধিক শীর্ষ নেতা উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এছাড়াও ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
ব্রিকস সম্মেলনের মতো গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক মঞ্চে আয়োজিত এই নৈশভোজ ছিল নেতাদের মধ্যে আনুষ্ঠানিকতার বাইরে পারস্পরিক যোগাযোগ এবং সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। সেই অনুষ্ঠানে শি জিনপিংয়ের অনুপস্থিতিই স্বাভাবিকভাবেই নজর কেড়েছে।
শুধু শি নন, নৈশভোজে ছিলেন না UAE-এর প্রতিনিধিও
শি জিনপিং ছাড়াও নৈশভোজে উপস্থিত থাকতে পারেননি সংযুক্ত আরব আমিরশাহির প্রতিনিধি তথা আবুধাবির যুবরাজ শেখ খালেদ বিন মোহাম্মদ। জানা গিয়েছে, ব্রিকস সম্মেলনের কর্মসূচি শেষ করে তিনি বিকেলেই দেশের উদ্দেশে রওনা হয়ে যান।
অর্থাৎ, নৈশভোজে কোনও একজন নেতার অনুপস্থিতির ঘটনা নয়—বিভিন্ন কারণে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধিই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেননি।
আন্তর্জাতিক মহলে বাড়ছে কৌতূহল
শি জিনপিংয়ের ভারত সফর এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তাঁর বৈঠক ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে যথেষ্ট গুরুত্ব পেয়েছে। দীর্ঘ সাত বছর পর তাঁর ভারত সফর হওয়ায় দুই দেশের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ গতিপথ নিয়েও আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
তার মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রনেতাদের উপস্থিতিতে আয়োজিত নৈশভোজে তাঁর অনুপস্থিতি নতুন করে কৌতূহল তৈরি করেছে। যদিও এখনও পর্যন্ত কোনও সরকারি সূত্র থেকে রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক কারণের কথা বলা হয়নি। ফলে আপাতত দীর্ঘ বিমানযাত্রা ও ব্যস্ত কর্মসূচির পর শারীরিক ক্লান্তির কারণেই তিনি নৈশভোজ এড়িয়ে গিয়েছেন—এমনটাই সূত্রভিত্তিক ব্যাখ্যা সামনে এসেছে।
ব্রিকস সম্মেলনে ভারতের কূটনৈতিক গুরুত্ব
এবারের ব্রিকস সম্মেলন ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক আয়োজন। সম্মেলনকে কেন্দ্র করে বিশ্বের বিভিন্ন প্রভাবশালী দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও প্রতিনিধিদের সঙ্গে ভারতের শীর্ষ নেতৃত্বের একাধিক বৈঠক হচ্ছে।
বিশেষ করে দীর্ঘ সময় পর শি জিনপিংয়ের দিল্লি সফর ভারত-চিন সম্পর্কের ক্ষেত্রে আলাদা গুরুত্ব বহন করছে। তাঁর সঙ্গে মোদির বৈঠক এবং পরবর্তী কূটনৈতিক তৎপরতার দিকে নজর রয়েছে আন্তর্জাতিক মহলের।
সব মিলিয়ে, ব্রিকসের প্রথম দিনের ব্যস্ত কর্মসূচির শেষে শি জিনপিংয়ের নৈশভোজে অনুপস্থিতি আপাতত ক্লান্তির কারণেই বলে জানা গেলেও, ঘটনাটি আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে যথেষ্ট আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
