ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক ‘রিসেট’ করতে চায় বাংলাদেশ, সমতার ভিত্তিতে নতুন বার্তা
ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক ‘রিসেট’ করতে চায় বাংলাদেশ। সমতা, পারস্পরিক স্বার্থ ও সম্মানের ভিত্তিতে নতুন সম্পর্ক গড়ার বার্তা ঢাকার। চুক্তি পর্যালোচনা ও সরাসরি দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় জোর।
ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক ‘রিসেট’ করতে চায় বাংলাদেশ, সমতার ভিত্তিতে নতুন সম্পর্কের বার্তা

ঢাকা, ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক ৪ : ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নতুন করে সাজাতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ। পারস্পরিক স্বার্থ, সমতা ও সম্মানের ভিত্তিতে দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার বার্তা দিয়েছে ঢাকা। গত প্রায় ১৫ বছরের সম্পর্কের ধরন থেকে বেরিয়ে এসে ভারতের সঙ্গে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও পারস্পরিকভাবে গ্রহণযোগ্য সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায় বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের বর্তমান প্রশাসনের বক্তব্য অনুযায়ী, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে কোনও একটি দেশের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতার পরিবর্তে দুই দেশের স্বার্থকে সমান গুরুত্ব দেওয়াই আগামী দিনের মূল লক্ষ্য। ঢাকার তরফে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার পাশাপাশি বাংলাদেশের নিজস্ব জাতীয় স্বার্থ ও কূটনৈতিক অগ্রাধিকারকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।
সরাসরি দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় জোর
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে সরাসরি দ্বিপাক্ষিক আলোচনার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বহুপক্ষীয় আন্তর্জাতিক বা আঞ্চলিক ফোরামের সাইডলাইনে বৈঠকের পরিবর্তে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি আলোচনা এবং সমাধানের পথ খোঁজার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে ঢাকা।
বাণিজ্য, সীমান্ত, জলবণ্টন, নিরাপত্তা, যোগাযোগ এবং অন্যান্য দ্বিপাক্ষিক ইস্যুতে নিয়মিত ও সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে পারস্পরিক আস্থা আরও বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও সামনে আসছে।
হাসিনা আমলের সম্পর্ক নিয়ে অস্বস্তির ইঙ্গিত
বাংলাদেশের বর্তমান প্রশাসনের তরফে গত ১৫ বছরের সম্পর্কের ধরন নিয়ে অসন্তোষের ইঙ্গিতও দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন পূর্ববর্তী সরকারের আমলে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের যে কাঠামো তৈরি হয়েছিল, বর্তমান প্রশাসনের একাংশ সেটিকে ‘অস্বস্তিকর’ বলে মনে করছে।
ঢাকার বক্তব্য অনুযায়ী, ভবিষ্যতের সম্পর্ক কোনও নির্দিষ্ট রাজনৈতিক সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার ওপর নির্ভর না করে দুই দেশের রাষ্ট্রীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব এবং পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে গড়ে তোলা প্রয়োজন।
বিভিন্ন চুক্তি ও সমঝোতা পর্যালোচনার উদ্যোগ
ভারতের সঙ্গে অতীতে স্বাক্ষরিত বিভিন্ন চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক নিয়েও পর্যালোচনার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গিয়েছে। বাংলাদেশের বর্তমান প্রশাসন চাইছে, আগের চুক্তিগুলির প্রতিটি বিষয় বর্তমান পরিস্থিতি এবং বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থের দৃষ্টিকোণ থেকে খতিয়ে দেখা হোক।
এই পর্যালোচনার ক্ষেত্রে সংসদীয় প্রক্রিয়াকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। ফলে পুরনো চুক্তি বা সমঝোতা বাতিল করার পরিবর্তে সেগুলির কার্যকারিতা, বাস্তবায়ন এবং বাংলাদেশের জন্য সুফল কতটা—তা যাচাই করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়ার পথে এগোতে চাইছে ঢাকা।
ভারতের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমানোর বার্তা
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতেও পরিবর্তনের ইঙ্গিত স্পষ্ট। ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখেও কোনও একটি দেশের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল না হয়ে আরও ভারসাম্যপূর্ণ বিদেশনীতি অনুসরণের কথা বলা হচ্ছে।
অর্থাৎ ভারত বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী ও অংশীদার হলেও, একইসঙ্গে অন্যান্য দেশ ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গেও সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করার নীতিতে এগোতে চাইছে ঢাকা। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের কূটনৈতিক পরিসর বাড়ানো এবং জাতীয় স্বার্থকে কেন্দ্র করে স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্য রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
সম্পর্কের নতুন সমীকরণ কতটা কার্যকর হবে?
বাংলাদেশের এই ‘রিসেট’ নীতি আগামী দিনে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে। দীর্ঘদিনের সহযোগিতা ও পারস্পরিক নির্ভরতার সম্পর্ক বজায় রেখেও যদি দুই দেশ সমতা ও পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে নতুন করে আলোচনায় বসে, তাহলে একাধিক অমীমাংসিত ইস্যুতে সমাধানের পথ খোলার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে সম্পর্কের এই পুনর্গঠন কতটা বাস্তবায়িত হবে, তা অনেকটাই নির্ভর করবে ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে রাজনৈতিক আস্থা, কূটনৈতিক যোগাযোগ এবং গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বিষয়গুলিতে আলোচনার ওপর। এখন নজর, বাংলাদেশের ‘রিসেট’ বার্তার পর ভারত কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানায় এবং দুই প্রতিবেশী দেশ ভবিষ্যতে সম্পর্ককে কোন পথে এগিয়ে নিয়ে যায়।
