SFI সম্মেলনে হামলার অভিযোগ, কোচবিহারে পুলিশ সুপারের দপ্তর ঘেরাও
পুন্ডিবাড়ি ও মাথাভাঙায় SFI সম্মেলনে হামলার অভিযোগে কোচবিহারে জেলা পুলিশ সুপারের দপ্তর ঘেরাও। নিরপেক্ষ তদন্ত ও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থার দাবি SFI-এর।
পুন্ডিবাড়ি ও মাথাভাঙায় SFI সম্মেলনে হামলার অভিযোগে পুলিশ সুপারের দপ্তর ঘেরাও

কোচবিহার, লোকাল ডেস্ক ১১ : পুন্ডিবাড়ি ও মাথাভাঙায় SFI-এর সম্মেলন চলাকালীন হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়াল কোচবিহারে। সংগঠনের অভিযোগ, সম্মেলন চলাকালীন পরিকল্পিতভাবে SFI কর্মী-সমর্থকদের উপর হামলা চালানো হয়েছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার কোচবিহারে জেলা পুলিশ সুপারের দপ্তর ঘেরাও কর্মসূচি পালন করল SFI কোচবিহার জেলা কমিটি।
SFI-এর পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, রবিবার পুন্ডিবাড়ি ও মাথাভাঙায় সংগঠনের সম্মেলন চলাকালীন ABVP ও BJP-র দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে হামলার ঘটনা ঘটে। সম্মেলনের মতো সাংগঠনিক কর্মসূচির মধ্যে এই ধরনের হামলার অভিযোগ ঘিরে সংগঠনের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। তাঁদের দাবি, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু সম্মেলনে এসে কর্মীদের উপর হামলা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
এই ঘটনার প্রতিবাদেই সোমবার কোচবিহারে জেলা পুলিশ সুপারের দপ্তরের সামনে জমায়েত করেন SFI-এর জেলা নেতৃত্ব, কর্মী ও সমর্থকেরা। বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য, তাঁদের কর্মীদের উপর হামলার অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর এবং ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, তা দ্রুত তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।
SFI নেতৃত্বের অভিযোগ, পুন্ডিবাড়ি ও মাথাভাঙায় সম্মেলন বানচাল করার উদ্দেশ্যেই পরিকল্পিতভাবে তাঁদের কর্মীদের উপর হামলা চালানো হয়েছে। তাঁদের দাবি, ঘটনাগুলির নিরপেক্ষ তদন্ত করা প্রয়োজন এবং হামলার সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তিকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।
এদিনের কর্মসূচিতে SFI নেতৃত্ব স্পষ্ট জানিয়ে দেন, শুধুমাত্র অভিযোগ গ্রহণ করলেই হবে না, পুলিশ প্রশাসনকে কার্যকর পদক্ষেপ করতে হবে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাতে কোনও রাজনৈতিক বা ছাত্র সংগঠনের কর্মসূচিতে হামলার ঘটনা না ঘটে, তার জন্যও প্রশাসনের কাছে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তার দাবি জানানো হয়।
বিক্ষোভকারীদের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, তাঁরা জেলা পুলিশ সুপারের সঙ্গে দেখা করে সরাসরি তাঁদের অভিযোগ জানাতে চান। তাঁদের বক্তব্য, যতক্ষণ পর্যন্ত পুলিশ সুপারের সঙ্গে তাঁদের সাক্ষাৎ না হচ্ছে এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় আশ্বাস না দেওয়া হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত এই কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ফলে সোমবার পুলিশ সুপারের দপ্তর চত্বরে SFI-এর এই কর্মসূচিকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ তৈরি হয়। একদিকে হামলার অভিযোগের তদন্ত এবং অন্যদিকে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পুলিশের পদক্ষেপ—এই দুই বিষয়েই এখন নজর রয়েছে।
তবে SFI-এর পক্ষ থেকে যে অভিযোগগুলি তোলা হয়েছে, সেগুলির সত্যতা তদন্ত সাপেক্ষ। হামলার ঘটনায় ABVP ও BJP-র বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়েও সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য এবং পুলিশের তদন্তের ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। রাজনৈতিক চাপানউতোরের বাইরে গিয়ে ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং কারা এই ঘটনায় জড়িত, তা তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়াই এখন মূল বিষয়।
SFI নেতৃত্বের দাবি, ছাত্র রাজনীতিতে মতাদর্শগত বিরোধ থাকলেও তার জেরে হামলা বা হিংসার পরিবেশ তৈরি হওয়া উচিত নয়। গণতান্ত্রিকভাবে সংগঠনের সম্মেলন করার অধিকার সুনিশ্চিত করার পাশাপাশি কর্মীদের নিরাপত্তার বিষয়টিও প্রশাসনকে গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে।
পুন্ডিবাড়ি ও মাথাভাঙার ঘটনার প্রতিবাদে জেলা পুলিশ সুপারের দপ্তর ঘেরাও কর্মসূচির মাধ্যমে SFI কার্যত প্রশাসনের উপর দ্রুত পদক্ষেপের জন্য চাপ তৈরি করল। এখন পুলিশ কীভাবে অভিযোগগুলি খতিয়ে দেখে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।
