তরুণ তেজপাল ধ*র্ষণ মামলা: ২১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আত্মসমর্পণ, ২২ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্টে শুনানি
তরুণ তেজপাল ধ*র্ষণ মামলায় বম্বে হাই কোর্টের ১০ বছরের সাজা চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন। ২১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ, ২২ সেপ্টেম্বর শুনানি।
তরুণ তেজপালের ধ*র্ষণ মামলা: ২১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আত্মসমর্পণ

নয়াদিল্লি, ন্যাশনাল ডেস্ক ১০ : ২০১৩ সালের গোয়ার একটি পাঁচতারা হোটেলের লিফটে সহকর্মীকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় ‘তহেলকা’-র প্রতিষ্ঠাতা তথা প্রাক্তন সাংবাদিক তরুণ তেজপালকে ঘিরে আইনি প্রক্রিয়া ফের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে। গোয়ার আদালত থেকে শুরু হওয়া এই মামলায় প্রথমে বেকসুর খালাস পেলেও পরবর্তী সময়ে বম্বে হাই কোর্টের রায়ে দোষী সাব্যস্ত হন তিনি। এবার সেই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন তেজপাল।
ঘটনার সূত্রপাত ২০১৩ সালে। অভিযোগ, গোয়ার একটি পাঁচতারা হোটেলের লিফটে তেজপাল তাঁর এক তরুণী সহকর্মীকে ধর্ষণ করেছিলেন। অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয় এবং দীর্ঘদিন ধরে গোয়ার নিম্ন আদালতে সেই মামলার বিচারপ্রক্রিয়া চলে।
এরপর ২০২১ সালে গোয়ার নিম্ন আদালত তাঁকে এই মামলায় বেকসুর খালাস করে দেয়। নিম্ন আদালতের সেই রায়ের পর মামলাটি পরবর্তী সময়ে বম্বে হাই কোর্টে যায়। সেখানে দীর্ঘ শুনানি ও নথিপত্র পর্যালোচনার পর মামলায় নতুন মোড় আসে।
চলতি বছরের অগস্টে বম্বে হাই কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ নিম্ন আদালতের রায় খারিজ করে তেজপালকে ধর্ষণ মামলায় দোষী সাব্যস্ত করে। একইসঙ্গে তাঁর জন্য ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়। হাই কোর্টের এই রায়ের পরই তেজপালের সামনে আইনি লড়াইয়ের পরবর্তী পথ হিসেবে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।
হাই কোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হন ‘তহেলকা’-র প্রতিষ্ঠাতা। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৫ অগস্ট সুপ্রিম কোর্ট গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দেয়।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, তেজপালকে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে আত্মসমর্পণ করতে হবে। আদালত তাঁকে তিন সপ্তাহের মধ্যে আত্মসমর্পণ করার নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি আত্মসমর্পণ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নথি ২১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আদালতে জমা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
এরপর আগামী ২২ সেপ্টেম্বর তেজপালের আবেদন নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। ফলে ওই দিনটির দিকে এখন নজর রয়েছে আইনজীবী মহল থেকে শুরু করে এই মামলার সঙ্গে যুক্ত সকলের।
এই মামলার দীর্ঘ আইনি যাত্রাপথে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মোড় এসেছে। ২০১৩ সালের অভিযোগ থেকে শুরু করে ২০২১ সালে নিম্ন আদালতের খালাসের রায়, পরে বম্বে হাই কোর্টে সেই সিদ্ধান্তের পরিবর্তন এবং ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড—প্রতিটি পর্যায়েই মামলাটি জাতীয় স্তরে আলোচনার কেন্দ্রে থেকেছে।
এখন সুপ্রিম কোর্টে তেজপালের আবেদনের শুনানি এই মামলার পরবর্তী গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। তবে আদালতের পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত হাই কোর্টের দেওয়া সাজা এবং আত্মসমর্পণ সংক্রান্ত নির্দেশই কার্যকর রয়েছে।
ফলে আগামী ২১ ও ২২ সেপ্টেম্বর—এই দুই দিনই তেজপাল মামলায় বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। একদিকে আত্মসমর্পণ ও সংশ্লিষ্ট নথি জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া, অন্যদিকে তার পরের দিনই সুপ্রিম কোর্টে আবেদনের শুনানি—সব মিলিয়ে বহু বছর ধরে চলা এই মামলায় ফের তৈরি হয়েছে আইনি তৎপরতা।
