ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা নিয়ে মোদী সরকারকে কটাক্ষ অখিলেশের, বললেন, ‘এক প্রধানকে সরিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে বাঁচানো হয়েছে’
লোকসভায় প্রশ্নফাঁস রোধে আনা সংশোধনী বিল নিয়ে আলোচনায় মোদী সরকারকে তীব্র আক্রমণ করলেন সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব। ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা, NEET-UG 2026 বিতর্ক এবং ছাত্র আন্দোলন নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য।
নয়াদিল্লি: লোকসভায় প্রশ্নফাঁস রোধে আনা সংশোধনী বিল নিয়ে আলোচনার সময় কেন্দ্রের মোদী সরকারকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করলেন সমাজবাদী পার্টির প্রধান তথা সাংসদ অখিলেশ যাদব। সদ্য প্রাক্তন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার প্রসঙ্গ টেনে তিনি কটাক্ষ করে বলেন, “এক ‘প্রধান’কে সরিয়ে ‘প্রধানমন্ত্রী’কে বাঁচানো হয়েছে।”
অখিলেশ যাদবের দাবি, NEET-UG 2026 পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস ও অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে দেশজুড়ে ছাত্র-যুবদের ক্ষোভ এবং আন্দোলনের জেরেই কেন্দ্র সরকার চাপে পড়ে। তাঁর বক্তব্য, সরকার নিজেদের অপ্রতিরোধ্য বলে মনে করলেও ছাত্রদের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের সামনে শেষ পর্যন্ত নতি স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছে।

ছাত্র আন্দোলনের প্রশংসা করে সমাজবাদী পার্টির প্রধান বলেন, এই আন্দোলন শুধু শিক্ষার্থীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং অভিভাবকদেরও ব্যাপক সমর্থন পেয়েছে। তাঁর অভিযোগ, সরকার সাধারণ মানুষের চাপ এবং জনরোষ বাড়লে তবেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে। কৃষক আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে যেমন তিনটি কৃষি আইন প্রত্যাহার করতে হয়েছিল, তেমনই এবারও ছাত্রদের আন্দোলনের চাপে সরকারকে পদক্ষেপ নিতে হয়েছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, আন্দোলনরত ছাত্র-যুবকদের বাকি দাবিগুলিও সরকার ভবিষ্যতে মেনে নিতে বাধ্য হবে। একইসঙ্গে তাঁর অভিযোগ, বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা, বিশ্ববিদ্যালয় এবং পরীক্ষা পরিচালনা ব্যবস্থার মান ক্রমশ দুর্বল হয়েছে, যার ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ বৃদ্ধি পেয়েছে।
নিয়োগ প্রক্রিয়ার প্রসঙ্গ তুলে অখিলেশ যাদব আরও দাবি করেন, দলিত ও অনগ্রসর শ্রেণির সংরক্ষণের অধিকার খর্ব করা হচ্ছে। পাশাপাশি জাতীয় পরীক্ষা সংস্থা (NTA)-র ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, সরকার যেভাবে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা পরিচালনার দায়িত্ব আউটসোর্স করেছে, ভবিষ্যতে একইভাবে প্রশাসনিক ব্যবস্থাও আউটসোর্স করার পথে হাঁটতে পারে।
উল্লেখ্য, NEET-UG 2026 পরীক্ষায় অনিয়ম ও প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে দেশজুড়ে বিক্ষোভ চলার পর কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন। রাষ্ট্রপতি তাঁর ইস্তফা গ্রহণ করেন। এরই মধ্যে প্রশ্নফাঁস রোধে কঠোর আইন প্রণয়নের উদ্দেশ্যে কেন্দ্র সরকার লোকসভায় সংশোধনী বিলও পেশ করেছে। তবে বিরোধীদের হট্টগোলের জেরে অধিবেশন দিনের জন্য মুলতবি হয়ে যায়।
(বিঃদ্রঃ এই প্রতিবেদনে অখিলেশ যাদবের বক্তব্য ও রাজনৈতিক অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে কেন্দ্র সরকারের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এই প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত নয়।)
