রাজ্যে ডেঙ্গুর দাপট, আক্রান্ত ৫ হাজার ছাড়াল! নজরদারিতে ৮৫ ব্লক, ২৭৮ পঞ্চায়েত ও ২৯ পুরসভা
পশ্চিমবঙ্গে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ৫ হাজার ছাড়িয়েছে। নজরদারিতে ৮৫ ব্লক, ২৭৮ গ্রাম পঞ্চায়েত ও ২৯ পুরসভা। বাড়ি বাড়ি নজরদারি ও জ্বরের পরীক্ষায় জোর স্বাস্থ্য দফতরের।
রাজ্যে ডেঙ্গুর দাপট, আক্রান্ত ৫ হাজার ছাড়াল! নজরদারিতে ৮৫ ব্লক, ২৭৮ পঞ্চায়েত ও ২৯ পুরসভা

কলকাতা, স্টেট ডেস্ক ১০ : বর্ষার মরশুম কাটতে না কাটতেই পশ্চিমবঙ্গে ফের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে ডেঙ্গু। সেপ্টেম্বর মাসে রাজ্যে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ইতিমধ্যেই ৫ হাজারের গণ্ডি ছাড়িয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবার সংক্রমণপ্রবণ এলাকাগুলিতে নজরদারি আরও জোরদার করেছে রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর। ইতিমধ্যেই ৮৫টি ব্লক, ২৭৮টি গ্রাম পঞ্চায়েত এবং ২৯টি পুরসভা এলাকাকে ডেঙ্গুর হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
স্বাস্থ্য দফতরের নজরে থাকা এই এলাকাগুলিতে যাতে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার না নেয়, তার জন্য প্রশাসনিক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সমন্বয়ে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে জ্বরের উপসর্গ দেখা দেওয়া ব্যক্তিদের দ্রুত চিহ্নিত করা এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানোর উপর জোর দেওয়া হয়েছে।
বাড়ি বাড়ি নজরদারি, জ্বরের পরীক্ষা
ডেঙ্গু সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য ভবনের নির্দেশিকা অনুযায়ী হটস্পট এলাকাগুলিতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে নজরদারি চালানো হচ্ছে। স্বাস্থ্যকর্মীরা বাসিন্দাদের মধ্যে জ্বর বা ডেঙ্গুর সম্ভাব্য উপসর্গ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন। সন্দেহজনক রোগীদের দ্রুত পরীক্ষার আওতায় আনার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
জ্বরের রোগীদের জন্য বিনামূল্যে রক্ত পরীক্ষার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। শুধু ডেঙ্গু নয়, জ্বরের পিছনে ম্যালেরিয়ার মতো অন্য কোনও সংক্রমণ রয়েছে কি না, তা চিহ্নিত করতেও পরীক্ষার উপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ফলে জ্বরকে শুধুমাত্র সাধারণ ভাইরাল সমস্যা হিসেবে না দেখে প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত পরীক্ষা করানোর বার্তা দেওয়া হচ্ছে প্রশাসনের তরফে।
কেন বাড়ছে উদ্বেগ?
বর্ষার সময় এবং তার পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন জায়গায় জল জমে থাকায় ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার বংশবিস্তারের আশঙ্কা বেড়ে যায়। বাড়ির আশপাশ, ছাদ, বারান্দা কিংবা পরিত্যক্ত পাত্রে জমে থাকা অল্প জলও এডিস মশার প্রজননের উপযুক্ত জায়গা হয়ে উঠতে পারে। ফলে শুধুমাত্র প্রশাসনিক অভিযান নয়, সাধারণ মানুষের সচেতনতাকেও ডেঙ্গু প্রতিরোধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে দেখা হচ্ছে।
স্বাস্থ্য দফতরের নজরদারিতে থাকা এলাকাগুলিতে মশার লার্ভা নিয়ন্ত্রণ, পরিচ্ছন্নতা এবং জমা জল দ্রুত সরিয়ে ফেলার মতো বিষয়গুলির উপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বাড়িতে জমা জল নিয়ে সতর্কতা
ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপগুলির মধ্যে রয়েছে কোথাও জল জমতে না দেওয়া। ফুলের টব, বালতি, ড্রাম, পরিত্যক্ত পাত্র, প্লাস্টিকের সামগ্রী কিংবা অন্য কোনও জায়গায় জল জমে থাকলে তা নিয়মিত পরিষ্কার করা প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, বাড়ির আশপাশে জমে থাকা জল নিয়মিত সরানোর পাশাপাশি যেসব পাত্রে জল রাখা হয়, সেগুলি পরিষ্কার করে রাখা জরুরি। সপ্তাহে অন্তত একবার জমা জলের পাত্রগুলি ভালোভাবে পরিষ্কার করলে মশার প্রজননের সম্ভাবনা কমানো যায়।
মশার কামড় থেকে সুরক্ষার পরামর্শ
ডেঙ্গু থেকে বাঁচতে মশার কামড় এড়ানোও অত্যন্ত জরুরি। প্রয়োজন অনুযায়ী দিন ও রাতে মশারি ব্যবহার, দরজা-জানালায় মশা প্রতিরোধের ব্যবস্থা এবং মশা তাড়ানোর ক্রিম বা লিকুইড ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে মশার কামড় থেকে সুরক্ষার দিকে বাড়তি নজর দেওয়ার পরামর্শ রয়েছে। একইসঙ্গে বাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার উপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
জ্বর হলেই অবহেলা নয়
স্বাস্থ্য দফতরের তরফে মূল বার্তা হল—জ্বরকে কোনওভাবেই অবহেলা করা যাবে না। জ্বরের সঙ্গে শরীর ব্যথা, দুর্বলতা, মাথাব্যথা বা অন্যান্য উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রক্ত পরীক্ষা করিয়ে রোগের কারণ নিশ্চিত করার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
রাজ্যে আক্রান্তের সংখ্যা ৫ হাজার ছাড়িয়ে যাওয়ার পর হটস্পট এলাকাগুলিতে নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে। প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও যদি জমা জল পরিষ্কার রাখা, মশার কামড় এড়ানো এবং জ্বরের ক্ষেত্রে দ্রুত পরীক্ষা করানোর মতো সতর্কতা মেনে চলেন, তাহলে ডেঙ্গুর সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব বলে মনে করছেন স্বাস্থ্যকর্তারা।
সিটি নিউজ বাংলা-র পক্ষ থেকে তাই সাধারণ মানুষের প্রতি বার্তা—বাড়ি পরিষ্কার রাখুন, কোথাও জল জমতে দেবেন না এবং জ্বর দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
